আমরা পিরোজপুরের এই সাহসী কন্যাকে অভিনন্দন জানাই। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটি সচেতন ছিল বলেই সে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে। বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে প্রচার-প্রচারণার সুফল এটি। আমরা বাল্যবিবাহের ব্যাপারে মেয়েদের সচেতন করতে পেরেছি। এটি আমাদের সফলতা।’

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি বড় সমস্যা। করোনাকালে এটি বলতে গেলে মহামারিতে রূপ নেয়। প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, মহামারির মধ্যে ২০২১ সালে ৪৭ হাজারের বেশি ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। এই হিসাব পূর্ণাঙ্গ নয়। দেশের ২০ হাজারের অধিক সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১ হাজার ৬৭৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাকি বিদ্যালয়ের তথ্য পেলে নিশ্চয়ই বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েদের সংখ্যা লাখের ঘরে পৌঁছাবে। আর মাধ্যমিকে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত মেয়েরা বেশির ভাগই বাল্যবিবাহের শিকার হয়, সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন হলো এর প্রতিকার কী? পিরোজপুরের মেয়েটি বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানোয় বাল্যবিবাহ থেকে রেহাই পেয়েছে। বেশির ভাগ মেয়ে তো মা-বাবার সিদ্ধান্ত মুখ বুজে মেনে নেয়।

প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ প্রয়োজন। বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ব্যাধি দূর করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকদের শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো মেয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের উচিত তার বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া।

অনেক সময় নিরাপত্তার কথা ভেবে বা দারিদ্র্যের কারণে মা-বাবা অল্প বয়সে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে থাকেন। পিরোজপুরের যে মেয়ে নিজের বিয়ে ঠেকিয়েছে, তার বাবা একজন দিনমজুর।

দারিদ্র্যের কারণে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে থাকলে তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ভাবতে হবে। অন্তত মেয়েটি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধনবান ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পারে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন