প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০০১ সাল থেকে একটি পরিত্যক্ত জমিতে ভূমিহীন ৪৫টি পরিবার বসবাস করে আসছে। সেখানকার ২৭টি ঘরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বসবাস। দুই বছর পর সেই জমি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নামে বন্দোবস্ত করে দিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করে বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি।

বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশন ওই জমি দাবি করলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের পক্ষে একটি স্থিতিশীল আদেশ দেন। এরপর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁরা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। দুই যুগ পার হয়ে গেলেও তাঁরা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না।

বিদ্যুতের জন্য বারবার আবেদন করেও, নানাজনের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এমনকি তাঁদের বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হকের সুপারিশও কর্ণপাত করেনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

১৯৯১ সাল থেকে সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলেও অন্ধ সমিতির অফিসে কোনো বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। অফিসের পাশেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ঘরবাড়ি। অথচ মাত্র ৫০ ফুট দূরে করপোরেশনের প্রহরীর আবাসস্থল বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের ভাষ্য, দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে ঘোষণা দিয়েছেন একটি ঘরও বিদ্যুৎহীন থাকবে না, সেখানে শিল্প-অধ্যুষিত গাজীপুরের এতগুলো পরিবারের ২০ বছর ধরে বিদ্যুৎ না পাওয়া খুবই দুঃখজনক।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আদালতে তার নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু বিরোধের অজুহাতে এতগুলো পরিবারকে বিদ্যুৎবঞ্চিত করে রাখা মানে প্রতিবন্ধীদের ওপর নির্যাতন করা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, একসময় পাড়াটিতে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য খুঁটি স্থাপনসহ ট্রান্সফরমারও লাগানো হয়েছিল। তখন একটি পক্ষের বাধার কারণে খুঁটি-ট্রান্সফরমার তুলে ফেলা হয়। এতেই বোঝা যাচ্ছে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা বঞ্চনার শিকার। দ্রুত বিষয়টি সুরাহা করা হোক। অন্ধের টেকে অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন