দৌলতখান পৌর কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে

সম্পাদকীয়

১৯৯৮ সালে ভোলার দৌলতখান পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও ২৪ বছরে সেখানে বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান তৈরি করা হয়নি। এমনকি কোনো আস্তাকুঁড়ও (ডাস্টবিন) নেই সেখানে। পৌর শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা বেতুয়া খালসহ যেখানে–সেখানে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষও এ কাজ করছে। এর ফলে দূষণে খাল ভরাট হতে হতে নর্দমায় পরিণত হতে বসেছে।

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, দৌলতখান পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলের উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বেতুয়া খাল। এ খালের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে চারটি সেতু। বাজারের ব্যবসায়ীরা সেতুর ওপর থেকে খালে বর্জ্য ফেলেন। প্লাস্টিক, ক্লিনিক–হাসপাতালের বর্জ্যও সেখানে ফেলা হয়। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও সেখানে বর্জ্য ফেলে আসেন। বেতুয়া খাল ছাড়াও উপজেলা পরিষদের মধ্যে, পৌরসভা ভবনে যেতে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সামনে, পুকুরপাড়ে, সড়কের দুই পাশে, দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে, বাসস্ট্যান্ডে, শহীদ মিনার ও স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে, দৌলতখান মহিলা কলেজের আশপাশের পুকুরে ও বিউটি রোডে বর্জ্য ফেলে ভাগাড় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। দুর্গন্ধে লোকজন সড়কে নাক টিপে চলতে বাধ্য হন।

বেতুয়া খাল দৌলতখান শহরটিকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। এ কারণে এ শহর ঘিরে পর্যটনেরও সুযোগ রয়েছে। জেলেরা খালে মাছ ধরেন এবং তীরে সবজির আবাদ হয়। অথচ অসচেতন নাগরিক ও পৌর কর্তৃপক্ষ বর্জ্য ফেলে খালটি দূষণ করে চলেছে। মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালটিতে জোয়ার–ভাটা হয়। জোয়ারের সময় খালের বর্জ্য নদীতেও মিশে যাচ্ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ভাষ্য হচ্ছে, খাল ও নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা পরিবেশ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন হলো পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত এই অধিদপ্তর খাল রক্ষায় এত দিন কেন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? পৌরসভার মেয়র বলছেন, সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় আস্তাকুঁড় তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। একটা পৌরসভার বয়স দুই যুগ হয়ে গেছে আর সেখানে আস্থাকুঁড় থাকবে না, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকবে না—সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য বিষয় হতে পারে? 

দূষণের হাত থেকে বেতুয়া খালটিকে রক্ষা করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিজেদের দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হতে হবে। বেতুয়া খালসহ শহরের যত্রতত্র বর্জ্য যেন না ফেলা হয়, সে জন্য পৌর বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। দৌলতখানকে ময়লার শহর থেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব একটি শহরে রূপান্তর করতে হলে পৌর কর্তৃপক্ষকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে।