প্রশ্ন হলো এসব শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশু-কিশোরদের উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছে? শিশুদের মানসিক উন্নয়নের জন্য যে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ থাকা দরকার, এসব কেন্দ্রে কি তা আছে? অনেক সময়ই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিবাসী শিশু-কিশোরদের ওপর নির্যাতন করার অভিযোগ আসে। এমনকি যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্যাতনে একাধিক শিশু মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা হতাশাজনক। টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৯০৯ শিশু রয়েছে। যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৫০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে ৩৫৩ শিশু রয়েছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর বালিকা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৫০ আসনের বিপরীতে রয়েছে ৮৯ জন। কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোয় ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ শিশু আছে। এ জন্য আমরা আরও কিছু জায়গায় যাতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র করা যায়, তার পরামর্শ দিয়েছি। এ ছাড়া কমিটি সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র’-এর দৈনন্দিন খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোরও সুপারিশ করেছে।

শিশু-কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ আছে। অনেকে মা–বাবার স্নেহ-মমতা ছাড়া বেড়ে ওঠে, অনেকে অসৎ সঙ্গে পড়ে নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এই শিশু-কিশোরদের মধ্যে যারা উন্নয়ন কেন্দ্রে আসে, তাদের জন্য মানবিক ও মমতাময় পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

সেখানে শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব যাদের, তাদের হতে হবে স্নেহপরায়ণ ও সহানুভূতিশীল। এরপর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিশুরা সেখানে নিজেদের মানবিক বিকাশ ঘটাতে পারে।

সংসদীয় কমিটি যে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, তা জরুরি বলে মনে করে; যদিও এটি সময়সাপেক্ষ। যত দিন নতুন কেন্দ্র স্থাপন না করা হয়, উল্লিখিত দুটি কেন্দ্রের অবকাঠামো ও লোকবল বাড়িয়ে শিশুদের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের মনে রাখতে হবে, এই শিশু-কিশোরেরা মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন থেকে দূরে আছে। তাদের পরিচর্যা করতে হবে মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে। তাদের জীবন যাতে আনন্দময় হয়, সে জন্য খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজেও তাদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে।