নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, চাক্তাই ও রাজখালী খালের মোহনায় ২০ বছর আগেও নদী ছিল। এক যুগ আগে থেকে সেটি দখল হতে শুরু করে। এরপর কয়েক বছর পরে এখানে ফিশারিঘাট গড়ে তোলা হয়। সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সরকারের বক্তব্য, বন্দর থেকে ১৫ বছরের ইজারা নিয়ে এ ফিশারিঘাট করা হয়েছে।

সেখানে এখন দুই শতাধিক আড়ত ও প্যাকিং প্রতিষ্ঠান আছে। নদীর তীরে সিসি ব্লক ফেলে বাঁধ এবং জমির খালি অংশে ঢালাই বন্দরই করে দিয়েছে। তাঁরা শুধু আড়ত করেছেন। প্রতিটি আড়ত বাবদ পাঁচ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শে এ জায়গা ইজারা দেন তাঁরা।

ফিশারিঘাটের পর সেখানে রাস্তা, বস্তি, বরফকল এমনকি একটি পার্কও গড়ে উঠেছে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৭৫০ ফুট নদী দখল হয়ে গেছে। এখন সমবায় সমিতির নেতারা বলছেন, স্থাপনা ভেঙে ফেললে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তাঁরাও চান নদী বাঁচুক। বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক পর্যালোচনা সভায় মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, মেরিন একাডেমির পাশে কর্ণফুলী ড্রাইডক ও এর আশপাশে নানা অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে নদী দখল করে। তিনি সাত দিনের মধ্যে ড্রাইডক বন্ধের নির্দেশ দেন।

কিন্তু ফিশারিঘাট, ড্রাইডকসহ নানা অবৈধ স্থপনা উচ্ছেদে ততটা সহজ নয় বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এখানে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তাদের সদিচ্ছা ছাড়া কর্ণফুলী রক্ষা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ছাড়া পরে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন নদীর জমি ইজারা না দেয়, এ বিষয়টিও নিশ্চিত করা হোক।