আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য যেদিন বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে অভিনন্দন জানাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন, সেদিনই নাটোরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ রোডমার্চ কর্মসূচি শেষ হলো গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে।

বগুড়া থেকে রাজশাহী পর্যন্ত ১১২ কিলোমিটার পথে বিএনপির রোডমার্চ কর্মসূচি অন্যত্র শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও নাটোরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের গাড়ি থামিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, গত রোববার বিএনপির ‘রোডমার্চ কর্মসূচি’তে যাওয়ার সময় নাটোরের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের গাড়ি থামিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

এতে ৩০ নেতা-কর্মী ছাড়াও গাড়ির চালক আহত হন, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার জন্য বিএনপি আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে ১১ নেতা-কর্মী সকালে ভাড়া করা একটি মাইক্রোবাসে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা দত্তপাড়া হয়ে ভেতরের রাস্তা দিয়ে দিঘাপতিয়ায় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে ওঠেন। মাইক্রোবাসটি টেক্সটাইল মিলের সামনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দেশি অস্ত্র ও রড নিয়ে হামলা চালান।

১১২ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে বিএনপির উদ্যোগে রোডমার্চ কর্মসূচি পালিত হলো, কোথাও সমস্যা হলো না অথচ নাটোরে দফায় দফায় হামলার পেছনে স্থানীয় রাজনীতি আছে। এর আগে নাটোরের এক আওয়ামী লীগ নেতা বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না বলে আস্ফালন করেছিলেন। নাটোরে গত আট মাসে বিএনপি যে নয়টি কর্মসূচি নেয়, তার প্রতিটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কখনো হামলা হয়েছে চোরাগোপ্তাভাবে, মুখোশ পরে।

সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা সব সময় বলে থাকেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু হরতাল-অবরোধের মতো জনজীবন অচল করা কর্মসূচি পালন করা যাবে না। রোডমার্চ জনজীবন অচল করা কর্মসূচি নয়। তারপরও হামলার ঘটনা ঘটল। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন দলটি দেশবাসীকে কী বার্তা দিতে চেয়েছে? যাঁরা এত দিন বিএনপির অতীতের কর্মসূচিকে আগুন-সন্ত্রাস বলে গালমন্দ করতেন, তাঁরাই কি এখন সেই আগুন-সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছেন না?

কয়েক দিন আগে নারায়ণগঞ্জের এক সংসদ সদস্য বিএনপিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একজন সংসদ সদস্য এভাবে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান কীভাবে? নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দলের নেতাদের এই উসকানিমূলক বক্তব্য যে পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। নাটোর থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছেন। তাঁর দাবি, কী কারণে, কারা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাল, কারা গাড়ি ভাঙচুর করল ও আগুন দিল, তা তিনি জানেন না। ঘটনাটি ক্ষমতাসীন দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হলেও কি তিনি একই কথা বলতেন? কিংবা হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে নিষ্ক্রিয় থাকতেন?

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব; কারও পক্ষ বা বিপক্ষ নেওয়া নয়। নাটোরে বিএনপির রোডমার্চে যারা হামলা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনেই তা প্রমাণ করা হোক।