বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয় মেহেরপুরে। এরপর প্রায় প্রতিবছর কোনো না কোনো জেলায় কেউ না কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। নিপাহ ভাইরাস মূলত প্রাণী থেকে, বিশেষ করে বাদুড় ও শূকর থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়ে থাকে। আক্রান্ত বাদুড় কোনো ফল খেলে বা খেজুরের রস পান করলে এটির লালা, প্রস্রাব বা অন্যান্য বর্জ্যে সেই ফল বা খেজুরের রস দূষিত হয়ে যায়। এখন কোনো মানুষ যদি সেই ফল খায় বা কাঁচা খেজুরের রস পান করে, তাহলে সে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি আক্রান্ত মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে থেকেও আরেকজন সংক্রমিত হতে পারে। 

জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে মৃত্যুর হার ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। শীতকালের সাধারণ রোগবালাই ও নিপাহর সংক্রমণ নিয়ে ১১ জানুয়ারি এক সেমিনার আয়োজন করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। সেখানেই রাজশাহীতে নিপাহ ভাইরাসে ওই নারীর মৃত্যুর তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সেমিনারে আরও বলা হয়, শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩২৬ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ২৩১ জন। 

সাধারণত সংক্রমণের ৫-১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। ৪৫ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় শরীরের মধ্যে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রচণ্ড জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, বমি, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই, টিকাও আবিষ্কৃত হয়নি। আইইডিসিআরের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা বলছেন, খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আমরা আশা করছি, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো উদ্যোগ নেবে।