২০১৭ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান মাসে মোট ১০ হাজার টাকা সম্মানী পান। আর সদস্যরা সম্মানী পান ৮ হাজার টাকা। তবে সরকারিভাবে ও ইউপির আয় থেকে দুই ভাগে ভাগ করে এ সম্মানী পান তাঁরা। সদস্যদের ক্ষেত্রে সরকারি অংশ ৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং ইউপির অংশ ৪ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু সরকারিটা পেলেও, ইউপির অংশটি পান না বলে অভিযোগ ইউপি সদস্যদের। ইউপির রাজস্ব আয় থেকে বেতনের সেই অংশ দেওয়ার কথা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, টার্গেট অনুসারে ইউপিগুলোর গৃহকর আদায় হয় না। আর গৃহকরই ইউপিগুলোর রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, তাঁরা যে সম্মানী পাচ্ছেন, তার পরিমাণ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মেয়র ও চেয়ারম্যানদের আপ্যায়ন ভাতারও কম। যেমন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র আপ্যায়নসহ অন্যান্য ভাতা পান ১০ হাজার টাকা। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংগঠন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের নেতা ও সিরাজগঞ্জ সদরের কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবুর আলী সেখ বলেন, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের (সদস্য) সম্মানীর নামে অসম্মান করা হচ্ছে। জনগণের সবচেয়ে কাছের জনপ্রতিনিধি হয়েও তাঁরা একজন পোশাকশ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরির চেয়ে কম সম্মানী পাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়কারী মহসিন আলী বলেন, ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানীর পরিমাণ বাস্তবসম্মত নয়। জেলা পরিষদের সদস্যদের দৃশ্যমান কাজ না থাকলেও তাঁদের সম্মানী ২০ হাজার টাকা। সময় ও চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউপির আয় বাড়াতে সংগঠনটি হাটবাজার, বালু-জলমহাল ও ফেরিঘাটগুলো ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা, ভূমি উন্নয়ন কর ১ থেকে ২ শতাংশে উন্নীত করা, জন্মনিবন্ধন ও বিয়ে নিবন্ধনের ফি ইউপিতে হস্তান্তর করাসহ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা মনে করি, স্থানীয় সরকারের উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তঁাদের একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত সম্মানী নির্ধারণ করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন