দুই সংস্থার দুই ভাষ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়েও। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ঘর থেকে বের হয়ে লাশ হয়ে ফিরল অথচ দুই সপ্তাহেও ঘাতকদের শনাক্ত করতে পারলেন না তঁারা?

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন ফারদিন। ৭ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, ফারদিনের দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৯ নভেম্বর রাতে ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যেখানে ফারদিনের বান্ধবী বুশরাসহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বুশরাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বর্তমানে বুশরা কারাগারে আছেন। প্রথমে গোয়েন্দারা ধারণা করেছিলেন এ হত্যার পেছনে প্রেমসংক্রান্ত ব্যাপার থাকতে পারে। পরে সেখান থেকে তাঁরা সরে এসেছেন।

এদিকে ফারদিন হত্যার পর চনপাড়ার মাদক সাম্রাজ্যের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে চনপাড়ার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা বজলুর রহমানের গ্রেপ্তার হওয়া এবং বন্দুকযুদ্ধে তাঁর সহযোগী রশিদুল ইসলামের নিহত হওয়া উল্লেখযোগ্য। ফারদিন হত্যার সঙ্গে এ দুই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তের কাজ প্রায় শেষ করে আনার দাবি করলেও রহস্য উদ্‌ঘাটিত হয়নি। বরং তদন্ত ও ছায়া তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দ্বিমুখী ভাষ্য জনমনে সংশয় ও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এ সম্পর্কে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘ডিবি হোক আর র‍্যাব হোক, কেউ পয়েন্ট নেওয়ার জন্য সব মিডিয়ায় দেবে; এটা ঠিক নয়। যখন কোনো ঘটনার একটা গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি হবে, তখন সেটা মিডিয়ায় আসবে।’

যতই দিন যাচ্ছে, ফারদিন হত্যার তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা সমালোচনা চলছে। এসব সন্দেহ দূর করতে সরকারের উচিত দ্রুত তদন্তের কাজ শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের মার্চে এই শীতলক্ষ্যা নদীতে মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও মামলার তদন্ত এগোয়নি প্রভাবশালীদের চাপে। ফারদিন হত্যার ক্ষেত্রে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি একেবারেই কাম্য নয়।