অস্ত্রোপচারে দ্রুত অবেদনবিদ নিয়োগ দিন

সম্পাদকীয়

এক সপ্তাহ ধরে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েও যন্ত্রণায় কাতরাতে হচ্ছে রোগীকে, অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে না। কারণ, হাসপাতালে অবেদনবিদ বা অ্যানেসথেসিওলজিস্ট নেই। এটা কেবল এক দিন বা এক হাসপাতালের ঘটনা নয়, মেহেরপুরের সরকারি তিনটি হাসপাতালেই দেড় মাস ধরে অবেদনবিদ না থাকায় অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। কেন অবেদনবিদ নেই, এই প্রশ্নের যে উত্তর প্রথম আলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, তা প্রশাসনিক গাফিলতি ও সমন্বয়হীনতার এক চরম দুঃখজনক নজির।

আমরা জানতে পারছি, মেহেরপুরের তিনটি সরকারি হাসপাতালের জন্য যেখানে মাত্র একজন অবেদনবিদ নির্ধারিত ছিলেন, তাঁকে চুয়াডাঙ্গায় বদলি করা হয়েছে। সেখানে যাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল, তাঁর পদায়ন নাকি স্বাস্থ্য বিভাগ বাতিল করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

এই পুরো চিত্রে নাগরিকের চিকিৎসাসেবার ঘাটতির পাশাপাশি প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাও স্পষ্ট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবশ্যই জানার কথা, এত দিন ধরে যদি অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকে, তাহলে সেই এলাকার রোগীদের পরিণতি কী হবে। এ এলাকার ভুক্তভোগীদের দুর্দশার কথা আমরা প্রতিবেদনেও পেয়েছি। সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই। তাতে তাঁদের খরচ বেড়েছে। কিন্তু যাঁদের সেই খরচ করার আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাঁরা বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

এই আমলাতান্ত্রিক সমন্বয়হীনতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষত সেটা যদি স্বাস্থ্যসেবার মতো নাগরিকের জীবন-মরণসম্পর্কিত কোনো খাত হয়, তাহলে এর পরিণতি আরও করুণ হয়ে ওঠে। কেবল প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রোগীর জীবন যেখানে প্রতিমুহূর্তে বিপন্ন হতে পারে, সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের এমন শ্লথ ও উদাসীন মানসিকতা উদ্বেগজনক।

আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব, এই সংকট নিরসন করবেন। জেলার তিন হাসপাতালের জন্য অনতিবিলম্বে জরুরিভিত্তিতে অবেদনবিদ নিয়োগ দিয়ে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা শুরু করতে হবে। এ তো গেল কেবল আশু পদক্ষেপের বিষয়, জেলার হাসপাতালগুলোতে যে জনবলসংকট চলছে, সেটার সমাধানও দ্রুত করা দরকার। পাশাপাশি বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখা দরকার যেন কোনোভাবেই এ ধরনের জরুরি পদগুলো শূন্য না থাকে।

হাসপাতালে গিয়ে যদি দ্রুত সেবা না পাওয়া যায়, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের ভরসা সম্পূর্ণ ধসে পড়বে। এটি কেবল চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করবে না; বরং নাগরিকদের ওপর মারাত্মক আর্থিক বোঝাও চাপিয়ে দেবে।