প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত ২২ জুন থেকে হাকালুকি হাওরপারের দাসের বাজার ইউনিয়নের দাসের বাজার উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে বিভিন্ন গ্রামের ৫৩টি পরিবার অবস্থান করছে। শুরু থেকেই পরিবারগুলোর খাবারদাবার নিশ্চিত করাসহ নানা ধরনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস ও সহকারী শিক্ষক মো. হাসেম আলী। এখন এই দুই শিক্ষক সেখানে আশ্রয় নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণির ২৪ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন পাঠদান করছেন। গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি বিষয়ে তাদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শুধু পাঠ্যপুস্তকেই এই পাঠদান সীমাবদ্ধ নয়।

শিক্ষকেরা গানসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেসব শিক্ষার্থীকে মাতিয়ে রেখেছেন। বিষয়টি নিঃসন্দেহে বন্যার ভয়াবহতায় এসব অল্প বয়সী শিক্ষার্থীর মানসিক ধাক্কা কাটাতে সহায়তা করছে।

এমনিতে করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল শিক্ষার্থীরা। এরপর বন্যার কারণে সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে দাঁড়াল। এমন পরিস্থিতিতে একটি বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষকের এ ধরনের স্বেচ্ছামূলক উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। অনেক পরিবার ঘরের সামগ্রী, খাদ্যদ্রব্য, ধান-চাল ফেলে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা নিয়ে আসারও সুযোগ ছিল না। আশ্রয়কেন্দ্রটিতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতাও কিনে দিয়েছেন এই দুই শিক্ষক। পুরো বিষয়টিতে পরিবারগুলো অনেক খুশি। সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে তারা কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তামুক্ত।

বন্যার কারণে পাবলিক পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছে গোটা দেশের শিক্ষার্থীরা। বন্যাকবলিত অনেক এলাকায় এখনো শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসেনি। অনেক বিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করা উচিত বলে আমরা মনে করি। যেভাবে হোক বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কোনো শিশু ঝরে পড়ুক বা কোনো মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হোক, আমরা চাই না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন