ইপিজেডের কারখানার রাসায়নিক তরল বর্জ্যের কারণে সেখানকার ৭১টি গ্রামের কৃষক বিপাকে পড়েছেন। ফসল, সবজি ও মাছের উৎপাদনে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তঁারা। তরল বর্জ্যের পচা গন্ধে সেখানকার জনজীবনও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংগঠন কুমিল্লা জেলা কৃষক সমবায়ী ঐক্য পরিষদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সভা হয়েছে। প্রশাসন ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও শতাধিক জমির মালিক উপস্থিত ছিলেন সেখানে। আমরা জানতে পারি, কুমিল্লা ইপিজেডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারক করার জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি তদারকি কমিটি গঠন করে। কিন্তু সেই কমিটিতে কোনো কৃষককে রাখা হয়নি। ফলে সেখানে কৃষকদের স্বার্থ গুরুত্বহীনই হওয়ার কথা। 

সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য সংগঠনের নেতারা বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলেছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে সেসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে কৃষকদের সঙ্গে আমরাও সন্দিহান, কারখানার তরল বর্জ্য কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারে (সিইটিপি) ফেলা হয় কি না? কারখানার বর্জ্য সিইটিপিতে ফেলা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে প্রায় ক্ষেত্রেই আমরা উত্তর পাই, টেকনিক্যাল কারণে শোধনাগারে ঝামেলা হচ্ছে। কুমিল্লাতেও ইপিজেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছ থেকে তেমনটি শোনা গেল। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলছেন, ‘কেবল ইপিজেডের তরল বর্জ্যের কারণে খাল, পুকুর ও টিউবওয়েলের পানি কালো হচ্ছে না। কুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়ের ভেতরে গরুর খামার আছে। এই খামারের গরুর মূত্র খালে যাচ্ছে।’ এটি কি নিজেদের দায়িত্বহীনতা ঢাকতে অন্যের দায়কে বড় করে দেখা নয়?  

এখন এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিলে কৃষকেরা ও সমবায়ীরা কঠোর আন্দোলন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের বক্তব্য, আগামী সাত দিনের মধ্যে ইপিজেডের তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতি দেখতে চান তিনি। সিটি করপোরেশনকেও এ কাজে এগিয়ে আসতে বলেছেন। আমরা দেখতে চাই, সমস্যা সমাধানে কতটা আন্তরিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।