মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৯ মে (সোমবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৭টা ৫০ মিনিটে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, মামলার সাক্ষীরাও সেদিন ককটেলের বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের এমন ঘটনা দেখেননি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। কারওয়ান বাজারের কথিত ঘটনার একজন সাক্ষী বলেন, ‘আমি সড়কের কোথাও ককটেল বিস্ফোরিত হতে কিংবা আগুন দিতে দেখিনি।’ বনানী, ওয়ারী, শাহজাহানপুর, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনার সাক্ষীরাও একই কথা বলেছেন।

চলতি বছরের মে মাস থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ককটেলের বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে রাজধানীতে ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫০ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয় সাত শর বেশি মানুষকে। সবার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

কেবল ঢাকা নয়, রাজশাহীসহ দেশের অন্যান্য স্থানেও গায়েবি মামলার খবর পাওয়া গেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, ২২ আগস্ট থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪৫ জনকে। এসব মামলায় আসামি হিসেবে ৪ হাজার ৪১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কেবল সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরে ককটেলের বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে বিরোধী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ৫৭৮টি মামলা হয়েছিল; যার কোনোটি সরকার প্রমাণ করতে পারেনি। তাহলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ভয় পাইয়ে দিতে, হয়রান করতেই এসব মামলা দায়ের করা হলে সেটি খুবই উদ্বেগজনক।

এসব মামলা আমাদের সেই মিথ্যাবাদী রাখালের গল্পের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বাঘ আসছে বাঘ আসছে বলে রাখাল দিনের পর দিন গ্রামবাসীকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে সত্যি সত্যি যখন বাঘ এল, তখন আর গ্রামবাসী রাখালের কথা বিশ্বাস করেনি, তাঁকে উদ্ধারে কেউ এগিয়েও আসেনি।

সন্ত্রাস, অন্তর্ঘাত, নাশকতার ঘটনা ঘটলে সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এ নিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। বরং সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থাও বাড়বে।

কিন্তু তারা যদি বিরোধী দলকে শায়েস্তা করতে এভাবে গায়েবি মামলা দিতে থাকে, তার পরিণাম কখনো ভালো হতে পারে না। ভবিষ্যতে সত্যি সত্যি যদি নাশকতার ঘটনা ঘটে, তখন মানুষ থানা-পুলিশের কথা বিশ্বাস করবে না।