মতি মিয়া নিজেই একজন অভাবী মানুষ। দোকানের পাশে সরকারি জমিতে কুঁড়েঘর নির্মাণ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন তিনি। দোকান থেকে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালান।

এমন টানাপোড়েন জীবনের মধ্যেও মানুষের দুঃখ-কষ্ট তাঁকে প্রবলভাবে স্পর্শ করে যায়, বিশেষ করে মানসিক প্রতিবন্ধীদের প্রতি আলাদা ভালোবাসা অনুভব করেন তিনি। প্রতি মাসে দুই থেকে তিনজন ভবঘুরে বা মানসিক প্রতিবন্ধী আসেন তাঁর কাছে। নারী, পুরুষ, কিশোর, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী এসব মানুষকে আশ্রয় দেন তিনি।

অনেকের চুল কেটে দেন বা গোসল করিয়ে দেন। রাতে থাকার জায়গাও দেন। কয়েক দিন থাকার পর সেসব মানুষ আবার চলেও যান। অসুস্থ অনেককে চিকিৎসাও করান। ৬৪ বছর বয়সী মতি মিয়া এভাবে প্রায় দেড় যুগ ধরে নীরবে সহায়-সম্বলহীন মানুষের সেবায় নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে।

সর্বশেষ জনশুমারি অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অর্থাৎ প্রতি দশ জনে একজন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩–এ মোট ১২টি প্রতিবন্ধিতার মধ্যে মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতাও অন্তর্ভুক্ত। সেই আইনের আলোকে প্রণীত বিধিমালা এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় আছে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় সমন্বয় কমিটি।

কিন্তু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্ব পালনে সেসব কমিটি কতটা সচেষ্ট, তা নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে। নয়তো রাস্তাঘাটে এত ভবঘুরে বা মানসিক প্রতিবন্ধীদের অসহায় অবস্থায় আমাদের দেখতে হয় কেন?

দরিদ্র হয়েও মতি মিয়া তাঁর সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন। রেখেছেন মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মতি মিয়ার প্রতি আমাদের অভিবাদন। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাই তাঁর পাশে দাঁড়াতে।