কিন্তু উপজেলার ২৩টি দপ্তরের ২১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে মধ্যনগরে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৯ জন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোনো ভবনও নির্মাণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত তো হচ্ছেই, উপজেলাবাসীও নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জমির দলিল করা, নামজারিসহ নানা ধরনের সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন মানুষ।

মধ্যনগর উপজেলার ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের একটি কক্ষকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

অতিরিক্ত পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উপজেলার মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের দুটি কক্ষকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তবে নিজেদের উপজেলার দায়িত্ব ফেলে মধ্যনগরে খুব কমই আসতে পারেন তাঁরা। ফলে নবগঠিত উপজেলাটির মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর সদরে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্বাভাবিকভাবেই উপজেলা কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। প্রশ্ন হলো, কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া এভাবে একটি উপজেলার কার্যক্রম কেন শুরু করা হলো?

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য হচ্ছে, নতুন উপজেলা হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমরা তাঁদের কথায় আস্থায় রাখতে চাই। দ্রুত জনবল নিযুক্ত করে ও ভবন তৈরির মাধ্যমে উপজেলাটির কার্যক্রমে গতি আনা হোক।