দেশের সবচেয়ে বড় এ সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের নিয়ে ঘোরার জন্য আটটি মিনিবাস আছে। কিন্তু এর মধ্যে ছয়টিরই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) পুরোপুরি অকার্যকর। এসব মিনিবাসের ভেতর বৈদ্যুতিক পাখাও নেই। গরমের মধ্যে এসি না থাকায় বাসের জানালাগুলো খোলা রাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

এ অবস্থায় বাসগুলো দর্শনার্থীদের নিয়ে একের পর এক বাঘ ও সিংহের মতো ভয়ংকর সব প্রাণীর বেষ্টনীতে প্রবেশ করে। কখনো কখনো বাসের খুব কাছাকাছি চলে আসে প্রাণীগুলো। এসব প্রাণী হামলে পড়লে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কিন্তু পার্ক কর্তৃপক্ষের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। এসি মেরামত করে জানালা বন্ধ করে দর্শনার্থী বহনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না তারা।

জানালা খোলা থাকায় অনেক দর্শনার্থী জানালার বাইরে হাত নিয়ে মুঠোফোনে ছবিও তুলছেন। বাঘের ক্ষিপ্রতার বিষয়ে তাঁদের বেশির ভাগেরই ধারণা নেই।

অন্যদিকে পার্কের স্বয়ংক্রিয় ফটক খোলার ব্যবস্থাও নষ্ট হয়ে আছে। ওয়াচটাওয়ারে দায়িত্বরত লোকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফটকটি খুলে দিয়ে দ্রুত উপরে উঠে আসতে হয়। দর্শনার্থীরা অভিযোগ করছেন, বাসে এসি নেই, ফ্যান পর্যন্ত নেই। অথচ টিকিটের দাম ১০০ টাকার পরিবর্তে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে।

অতি অবাক করা কথা, এ অব্যবস্থাপনা নিয়ে পার্কের একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মিডিয়ায় কথা বলা আমার নিষেধ আছে।’ অর্থাৎ এখানে কর্মকর্তাদের দায় এড়ানোর চেষ্টা আছে। এ চেষ্টা ভয়ানক এবং অপেশাদার আচরণের শামিল। এ কারণে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন