ভুক্তভোগী মানুষের দুর্ভোগ দূর করুন

সম্পাদকীয়

উন্নয়নকাজের ভুয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জমকালো আয়োজন করে দিনদুপুরে সাড়ে তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের সরকারি ইট তুলে নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনাটি কেবল অভিনবই নয়, অবিশ্বাস্যও বটে। জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নে কথিত এক ঠিকাদার ও তাঁর চক্রের মাধ্যমে ঘটে যাওয়া এই জালিয়াতি দেশের স্থানীয় পর্যায়ের নজরদারি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার এক চরম চিত্র তুলে ধরেছে। এ ঘটনায় প্রতারক চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁরা জামিন পেয়েছেন। অন্যদিকে কর্দমাক্ত রাস্তায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামবাসী।

এই কথিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণেই সরল বিশ্বাসে সাধারণ মানুষ এই জালিয়াতি নিয়ে শুরুতে কোনো সন্দেহ করেনি। যদিও পরবর্তী সময়ে একই কায়দায় আরেকটি সড়কের ইট চুরির সময় সচেতন এলাকাবাসী চক্রটিকে ধরে পুলিশে দেন। ততক্ষণে রশিদপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গুরিঘাট থেকে ময়নার মোড় পর্যন্ত সড়কটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কের সব ইট তুলে নেওয়ায় পুরো পথটি এখন কর্দমাক্ত নরকে পরিণত হয়েছে। যেখানে আগে ইটের সলিংয়ের রাস্তা দিয়ে মানুষ অনায়াসে চলাচল করত, এখন সেখানে জুতা হাতে নিয়ে কাদাপানি ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

এ ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চরম গাফিলতি ও মাঠপর্যায়ে যোগাযোগের বড় ধরনের ঘাটতি প্রকাশ করে। এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন যে ওই সড়কের কাজের কোনো দরপত্রই হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে, দরপত্র ছাড়া একটি সরকারি সড়কের সংস্কারকাজের ঘটা করে উদ্বোধন হয়ে গেল, আর স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন তার বিন্দুমাত্র টের পেল না কেন? শুধু তা-ই নয়, এ ধরনের প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। যেকোনো কাজের উদ্বোধনে যাওয়ার আগে প্রকল্পটির বৈধতা, কার্যাদেশ বা সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জনপ্রতিনিধিদের ন্যূনতম দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

দুর্ধর্ষ এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা গ্রেপ্তার হলেও দুঃখজনকভাবে তাঁরা ইতিমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে গেছেন। আমরা আশা করব, পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা আশা করব, দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।