প্রাণ বাঁচানোর জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। অথচ এই সেবার ক্ষেত্রটিতে যা চলছে তা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। অ্যাম্বুলেন্স সাধারণ পরিবহন নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসার নিয়মও এখানে চলবার কথা নয়। বেআইনিভাবে এবং শর্ত ভঙ্গ করে চলা এই ব্যবসাকে সেবাধর্মী ও বিধিবদ্ধ করার জরুরি প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।
ব্যক্তিমালিকানায় অ্যাম্বুলেন্স চালানো ও ভাড়া দেওয়া বেআইনি। অ্যাম্বুলেন্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এই সেবা মানুষের পাওয়ার কথা। তাহলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে যে কেউ খেয়ালখুশিমতো এই ব্যবসা চালাতে পারছে। অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য এসব গাড়িতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম যথা, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও মাস্ক, স্ট্রেচার, রোগীর শয্যা ও চিকিৎসকের বসবার আসন ইত্যাদি থাকার কথা। মাইক্রোবাসের ভেতরের আসনবিন্যাস সামান্য অদল-বদল করে, গাড়ির ওপর সাইরেন লাগিয়ে দিলেই তাকে অ্যাম্বুলেন্স বলা যাবে না। রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে জরুরি চিকিৎসা সহায়তাকারী থাকার কথা হলেও বাস্তবতা এর সম্পূর্ণ বিপরীত।
সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বেপরোয়া চালকের অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় চারজনের মৃত্যু ঘটে। এরপর হত্যার দায় এড়াতে অ্যাম্বুলেন্সচালক ও মালিকেরা ধর্মঘট করে রোগীদের অসহায় অবস্থায় ফেলেন। এমনকি রোগী কিংবা লাশ পরিবহনে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ও হয়ে চলছে। বুধবারের প্রথম আলোর সংবাদে এই ক্ষেত্রের নৈরাজ্যকর অবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে।
অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে জরুরি সরকারি সেবা হিসেবে সহজলভ্য করতে হবে। তার জন্য আইন প্রণয়ন করে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার আগে বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসাকে প্রচলিত আইনের অধীনে রোগীবান্ধব, জবাবদিহিমূলক এবং সাশ্রয়ী করায় পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্দিষ্ট ভাড়ায় রোগী অথবা লাশ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। গ্রাম ও শহরের প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে আবশ্যকীয় সব আয়োজন থাকা নিশ্চিত না করে, কাউকেই এর লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। যথাযথ আইন না থাকার সুবাদেই বিআরটিএ থেকে শুরু করে কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠী এ ক্ষেত্রটিকে মুনাফার অভয়ারণ্য বানাতে পেরেছে।