বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রটি বিজ্ঞানী-সংকটে ধুঁকছে। অথচ দেশে আম গবেষণা ও উন্নত মানের আম উদ্ভাবনে এ কেন্দ্রটির অবদান রয়েছে। দেশে এ পর্যন্ত ১৮টি উন্নত মানের আম উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি উদ্ভাবনের সঙ্গে এ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জড়িত। এ ছাড়া দেশে উদ্ভাবিত চারটি সুস্বাদু হাইব্রিড জাতের আমের উদ্ভাবকও এ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।
প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, ১৯৯০ সালে গড়ে ওঠা আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রটি আম উৎপাদনের কলাকৌশল, জাত উদ্ভাবনসহ চাষিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশে আম উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। শুরু থেকেই কেন্দ্রটিতে লেগে আছে বিজ্ঞানী-সংকট। আর বর্তমানে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রশাসনিক ও গবেষণাকাজের জন্য মাত্র তিনজন বিজ্ঞানী সেখানে কর্মরত আছেন। কেন্দ্রটির পরীক্ষাগারও বেহাল। উদ্যানতাত্ত্বিক, রোগতাত্ত্বিক ও কীটতাত্ত্বিক তিনটি পরীক্ষাগার থাকলেও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সব পুরোনো আমলের। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে গবেষণা।
শুরুতে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের পদের সংখ্যা ছিল ১৯। তবে পুরো জনবল নিয়ে কখনোই চলেনি এর গবেষণা কার্যক্রম। সর্বোচ্চ ১৪ জন বিজ্ঞানী একসঙ্গে অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছেন এ কেন্দ্রে। বেশির ভাগ সময় ছয়-সাতজন বিজ্ঞানী নিয়েই কাজ চালানো হয়েছে। এখন কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের পদের সংখ্যা কমিয়ে ১০ করা হয়েছে। তবে ছয় মাস ধরে মাত্র তিনজন বিজ্ঞানী নিয়েই চলছে কার্যক্রম। ফলে কোনো ক্ষেত্রেই কার্যকর কোনো গবেষণা হচ্ছে না।
আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমানের ভাষ্য থেকেই সেখানকার করুণ অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। তিনি জানান, মূলত গবেষণা মাঠে কাজ করার জন্য রয়েছেন মাত্র একজন বিজ্ঞানী। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক দেবাশিস সরকার বলেছেন, শিগগিরই কেন্দ্রটিতে বিজ্ঞানী-সংকট নিরসন করা হবে।
আম উৎপাদনে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে আম উৎপাদিত হয়, তার বাজার প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার। দেশের চাহিদা মিটিয়ে আম এখন বৈদেশিক মুদ্রাও নিয়ে আসছে। আমের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে উন্নত জাত উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ আম গবেষণা ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তুলুন। সংকটের দ্রুত সমাধান হিসেবে কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্তসংখ্যক বিজ্ঞানী নিয়োগ দিন।