বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি। অথচ সেই কৃষি খাতেই প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের জন্য কোনোভাবেই আশাব্যঞ্জক নয়।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদের করা এক গবেষণায় এ হতাশাজনক তথ্য মিলেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে বাংলাদেশে শ্রমিকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। এ খাতে প্রয়োজন অনুসারে ৭৫ শতাংশ দক্ষ শ্রমিকের অভাব রয়েছে।
শ্রমশক্তি জরিপ (২০১০)-এর হিসাবমতে, দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত আছে। কিন্তু এর ৭৫ শতাংশই যদি অদক্ষ হয়, তাহলে এ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা আশঙ্কা তৈরি হয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কোনো না কোনোভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এই খাতে তাই দক্ষ শ্রমিকের কোনো বিকল্প নেই।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্রমজীবী অনেক মানুষ শহরমুখী হওয়ায় দেশে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। শ্রমিকের অভাবে জমির মালিকেরা অনেক জমি খালি ফেলে রাখতে কিংবা অন্য কাজে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। আমাদের কথা হচ্ছে, কৃষিতে যদি শ্রমিকসংকট দেখা দেয়, তাহলে তা হবে দেশের জন্য অশনিসংকেত। ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং দেশে খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি হবে।
কে এস মুরশিদের গবেষণায় দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি পূরণে আগামী পাঁচ বছরে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ৪০ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। আর ২০২৫ সালের মধ্যে ৫৬ লাখ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়। আমাদেরও একই মত। আমরাও চাই কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ শ্রমিকেরা কাজ করুক। কেননা, প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিকের অভাবে একটি খাত ধ্বংস পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
তাই সরকারকে এখনই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কৃষি শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের গ্রামমুখী করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারিভাবে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করে দেওয়াসহ তাদের অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।