চি ঠি প ত্র
অনুকূল রাজনীতির জন্যবিশ্ব যখন প্রবহমান গতিতে উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, উন্নতর দেশের রাষ্ট্রনেতারা যখন দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নতুন ভাবনা দাঁড় করাচ্ছেন, গণতন্ত্রের ধারা যখন নতুনভাবে উন্মোচিত হচ্ছে; সেই যুগে থেকে আমরা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির শিক্ষা গ্রহণ করছি। বৈশ্বিক রাজনীতি কি আমাদের কোনোভাবে প্রভাবিত করে না? কোনো উন্নত দেশের গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা দেখে কি আমরা উদ্বুদ্ধ হতে পারি না? নাকি আমাদের যে চিরাচরিত প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক ভাবনা, তার মধ্যেই রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে অনেক অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে। সরকার গঠনের পর দেখা যায়, প্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়ন করলেও অধিকাংশই বাকি থেকে যায়। এটা কি আমাদের দেশের রাজনৈতিক চিরাচরিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে? এই ধারার কী কোনো পরিবর্তন হবে না? আমাদের দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল দুজন মহান ব্যক্তির আদর্শে লালিত। একজন হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অন্যজন জিয়াউর রহমান। কিন্তু সেই আদর্শ কতটা ধরে রাখতে পেরেছে দুই দলের নেতা-নেত্রীরা, তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুই দলের যে বিরোধ, আজও তার সমাধান হয়নি। কোনো সংলাপও হয়নি। একদল নিজেদের স্বার্থে আইন করে, আরেক দল বারবার সংসদ বর্জন করে চলেছে। দিনের পর দিন সংসদ থেকেছে অকার্যকর। সংসদে গিয়ে সংসদ সদস্যরা অশ্লীল ভাষায় কথা-কাটাকাটি করেন। স্পিকারের ভাষায় যেন মাছের বাজার বসেছে। একদলের কোনো নেতা বক্তব্য দিলে, অন্য দলের নেতা হীন ভাষায় তার জবাব দেয়। ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে। দুর্নীতির কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বৈদেশিক ঋণ পাওয়া থেকেও আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এর থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কী হতে পারে। কিন্তু তার পরও আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের দেশে এখনো অনেক ভালো রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, যাঁরা সব সময় দেশের গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন। তাই সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা আপনাদের ত্যাগ দিয়ে, উদারতা দিয়ে সারা দেশের মানুষকে উজ্জীবিত করুন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য সফলভাবে নেতৃত্ব দিন, সেই প্রতাশা আমাদের সবার।সুকদেব বিশ্বাসজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।সমাবর্তন চাইপ্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জীবনে একটা আকাঙ্ক্ষা থাকে। আর সেই আকাঙ্ক্ষা হলো সমাবর্তন। দেশের উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সমাবর্তন পালন করা হচ্ছে, সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন কেন হচ্ছে না, তা আমাদের অনেক ভাবায়। তখন দুঃখ হয়, আমাদের কি কোনো মূল্যায়ন করা হয় না! তাই আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের কাছে আবেদন করছি, আপনারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা অনাড়ম্বরপূর্ণ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। একটা সমাবর্তন ছাত্রছাত্রীদের অনেক অনুপ্রাণিত করে। এতে তাঁদের মধ্যে নতুন কিছু জানার আগ্রহ হয়।আরিফ হোসেনরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।