চি ঠি প ত্র
মামুন কি বাবার মরদেহ দেখতে পাবেন না?ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে আর কখনো জীবিত ফেরত পাবেন না তাঁর সন্তান। কিন্তু তাঁর মরদেহটি চেন্নাই (ভারত) থেকে নিয়ে আসতে পারবেন কি না, সেই শঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ। এক বছরের বেশি সময় ধরে মামুন তাঁর বাবা মোহাম্মদ জাহেদুর রহমানের চিকিৎসার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অনার্স পরীক্ষার সময়ও রাত জেগে বাবার শুশ্রূষা করেছেন। পরিবারের সহায়-সম্পত্তি যা ছিল বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসার ব্যয় মিটিয়েছেন। মামুনের বাবার চিকিৎসার সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন তাঁর সহপাঠীরাও। চিকিৎসকের পরামর্শে গত জুন মাসে মামুন বাবাকে নিয়ে যান চেন্নাইয়ে অ্যাপোলো ক্যানসার হাসপাতালে। সেখানে গত ৫ জুলাই জাহেদুর রহমানের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি, সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায় সন্তানের কাছে সেই চরম দুঃসংবাদটি আসে, বাবা নেই। ইতিমধ্যে চেন্নাই ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা বাবদ ছয় লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আরও পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৪২০ টাকার বিল বকেয়া আছে।এখন মামুনের একমাত্র চিন্তা কীভাবে বাবার মরদেহ দেশে নিয়ে আসবেন। হাসপাতালের এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল পরিশোধ করার সামর্থ্য তাঁর নেই। তা ছাড়া বিমানভাড়াও অনেক। এই সমাজে এমন কেউ কি নেই যিনি বা যাঁরা মামুনকে তাঁর বাবার মরদেহ চেন্নাই থেকে নিয়ে আসার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন? পবিত্র এই রমজান মাসে সন্তান কি বাবার মুখ দেখতে পারবেন না? এ ব্যাপারে আমরা নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তা কামনা করছি। চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পেরে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের মরদেহ দেশে আনা যাবে না—এই নিষ্ঠুরতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ভারত সরকারেরও সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ ফেরত আনতে তারাও কোনো সহায়তা করতে পারে কি না। মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের ব্যাংক একাউন্ট নং ডাচ বাংলা ব্যাংক ০১২৬১০১০০০২২৪৮২০। ফোন: ০১৬৭৬৭২৭২৫৭সৈয়দ মনজুরুল ইসলামঅধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,সোহরাব হাসানসহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো