সড়ক হচ্ছে যানবাহন চলাচলের জন্য আর ফুটপাত হচ্ছে পথচারীদের পায়ে হেঁটে চলার জন্য। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ নগরের খানপুর ইশা খাঁ সড়ক ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কের অবস্থার যে চিত্র প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে তা মনে হচ্ছে না। মঙ্গলবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ নগরের খানপুর কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট-সংলগ্ন ঈশা খাঁ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে সেখানে বিভিন্ন অচল যানবাহন ফেলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুই-তিন সারিতে বিভিন্ন গণপরিবহনের গাড়ি পার্কিং করে রাখা হচ্ছে। এতে সড়কটি সংকীর্ণ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে এই পথে চলাচলকারীরা। এ ছাড়া নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়কের মেট্রো সিনেমা হলের মোড়সংলগ্ন সড়কেও অচল প্রাইভেট কার, টেম্পোসহ বিভিন্ন যানবাহন ফেলে রাখা হয়েছে। সড়কের পাশে চায়ের দোকান, বাসের কাউন্টার থাকায় এর অর্ধেক অংশ ও ফুটপাত দখল হয়ে গেছে।
একটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই বেহাল চিত্র কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দেখার কি কেউ নেই? মোটরযান আইন অনুযায়ী, রাস্তায় গাড়ি আইন মেনে চলছে কি না বা পার্কিং করা হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের। আইনে ট্রাফিক পুলিশকে লাইসেন্সসহ কাগজপত্র যাচাই এবং সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং জরিমানা করার মতো আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে তারা। নারায়ণগঞ্জের এ দুটি সড়কের ক্ষেত্রে যে ট্রাফিক পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছে না, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের কর্তব্যের প্রতি এই অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। ট্রাফিক পুলিশকে অবশ্যই এ দুটি সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। যারা আইন অমান্য করে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলার উপযোগী করতে হবে। সড়কে যাতে অবৈধভাবে কেউ যানবাহন পার্কিং করতে না পারে, সে জন্য আইনের প্রয়োগ করতে হবে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গাড়ি পার্কিংয়ের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন প্রশাসনের। সড়ক বা মহাসড়কে যারা নিয়ম না মেনে ইচ্ছেমতো গাড়ি পার্কিং করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ শহরে অনেক বিপণিকেন্দ্র গড়ে উঠলেও নেই গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। তাই গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিতে হবে। অকেজো গাড়ি রাখার জন্য ডাম্পিং স্টেশন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও সড়কে চলাচলে সচেতন হতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্য কেউ যাতে ভোগান্তির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।