করোনা পরিস্থিতিতে বেসামাল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। এর মধ্যে প্রসূতিসেবা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর খবর আমাদের ব্যথিত করছে। বেশ কিছু ঘটনায় মা ও নবজাতক উভয়েরই মৃত্যু ঘটছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ সন্তান প্রসবের সাফল্য আমাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয়।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ‘গরিবের হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিত ভোগতেরা কমিউনিটি ক্লিনিক। গত মঙ্গলবার সহস্রতম স্বাভাবিক প্রসবের রেকর্ড গড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। শুধু জুড়ী নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও এখানে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অন্তঃসত্ত্বা নারীরা সেবা নিতে আসেন। গ্রামের ভেতরের ছোট্ট এই কমিউনিটি ক্লিনিকে ৯ বছর ধরে বিনা খরচে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চলছে। প্রসবকর্মীরাও কোনো ফি নেন না। কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে এক হাজার জন নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এখনকার প্রসবকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সহযোগিতায় সেটি সম্ভব হয়েছে। স্বাভাবিক প্রসবে বিভাগীয় ও জাতীয়ভাবে ‘শ্রেষ্ঠ’ কমিউনিটি ক্লিনিক হিসেবে পুরস্কার পায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। এ ছাড়া ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এবং ২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকেও আলাদাভাবে সেটি পুরস্কৃত হয়। তখন ক্লিনিকটিকে মা ও শিশু হাসপাতাল করার আশ্বাস দিলেও এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হোক, সেটাই ক্লিনিক পরিচালনা কমিটির দাবি।
একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর (পূর্ব) ও নাটাই (উত্তর) ইউনিয়নের দুটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। বছর তিনেক আগেও স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটিতে বছরে মোট ১৬১টি শিশুর স্বাভাবিক প্রসব হতো। করোনাকালে গত এক বছরে স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটিতে মোট ৪৩৬টি শিশুর স্বাভাবিক জন্মগ্রহণের রেকর্ড গড়েছে। স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে উদ্বুদ্ধকরণ, প্রসূতিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বাড়ানোর কারণে এমন ফল পাওয়া গেছে। এ দুটির সঙ্গে উপজেলার আরও ৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রসূতিসেবার পরিবর্তন হয়েছে। তিন বছর ধরে সদরের ১১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার শূন্য।
অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসবের ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমায় ঠিকই, তবে এতে বিপুল আর্থিক খরচসহ প্রসূতি নারীদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। সেদিক দিয়ে স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে স্থানীয় পর্যায়ের এ তিন স্বাস্থ্যকেন্দ্র গোটা দেশের জন্য অনুসরণীয় হয়ে উঠতে পারে। আমরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে অভিনন্দন জানাই।