শীতের কুয়াশা, ফেরি ও ঘাটের স্বল্পতা—এই তিন মিলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীসাধারণকে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। সময়মতো ফেরি পার না হওয়ায় পদ্মার দুই পাড়ে শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পারাপারের অপেক্ষা করছে। গোয়ালন্দ বাজার থেকে যদি পাঁচ কিলোমিটার সড়কে যানজট লেগে থাকে, তাহলে যাত্রীদের কষ্ট ও যন্ত্রণা কতটা অসহনীয় হতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
গত সোমবার প্রথম আলোর সপ্তম পাতায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ঘাট ও ফেরির স্বল্পতার কারণেই যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে। ছবি কথা বলে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত ছবিতে বহু উদ্বিগ্ন নারী-পুরুষকে আটকে পড়া যানবাহন থেকে নেমে হেঁটে ফেরিঘাটের দিকে আসতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের পক্ষে এই দীর্ঘ পথ হেঁটে আসা সম্ভব নয়। আবার যাঁরা হেঁটে ফেরিঘাটে এসেছেন, তাঁরাও যে ঠিক সময়ে ফেরি বা লঞ্চ পাবেন, তার নিশ্চয়তা নেই।
মূলততিনটি কারণে ফেরিঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ঘাট ও ফেরি কম। যেখানে কমপক্ষে ১৮টি ফেরি থাকার কথা, সেখানে আছে ১৬টি। আর ঘাটের অবস্থাও তথৈবচ। দৌলতদিয়া অংশে পাঁচটি ঘাট থাকলেও তিনটি সচল। দুটি সচল হতে পারছে না ঘাটের সামনে খননযন্ত্র ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ফেলে রাখার কারণে। এটি বিআইডব্লিউটিএর কী ধরনের আচরণ। নাব্যতা রক্ষায় নদী খনন করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ঘাটগুলোও সচল রাখতে হবে।
অবিলম্বে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ার সব কটি ঘাট সচল করা দরকার। কুয়াশার কারণে অনেক সময় ভোর ও গভীর রাতে ফেরি পারাপার সম্ভব হয় না। অতএব, কম সময়ে বেশিসংখ্যক যাত্রী পারাপার করতে হয়। আর সে জন্য অন্য সময় যতগুলো ফেরি ঘাটে চলাচল করে, তার চেয়ে অনেক বেশি ফেরি চালু রাখতে হবে। বিআইডব্লিউটিএর ঘুম না ভাঙলে জনদুর্ভোগের মুক্তি মিলবে না।