বন্যার্তদের পাশে অনন্য জনপ্রতিনিধি

সম্পাদকীয়

এবারের বন্যায় সুনামগঞ্জের ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। এখনো প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছায়নি। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে মানুষ। অনেক এলাকায় ত্রাণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত না হওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে অনেককে। সেখানে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার একজন নারী ইউপি চেয়ারম্যানের ভূমিকা ব্যতিক্রম। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে নিজ এলাকার বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বন্যার শুরু থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বেশির ভাগেরই কোনো তৎপরতা না থাকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়। কিন্তু ধর্মপাশার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। গত বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিজে উপস্থিত থেকে তাঁর ইউনিয়নের দিকজান, ইসলামপুর, প্রতাপপুর, আলমপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের বন্যার্ত ৮০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরদিন সকালেও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন। এদিন বাবুপুর ও নূরপুর গ্রামের মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।

গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন নাসরিন সুলতানা। স্বাধীনতার পর ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম নারী ইউপি চেয়ারম্যান তিনি। স্থানীয়ভাবে তিনি দিপা আপা নামে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তিনি এলাকার ধনী-গরিব সবার সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারেন। তাঁর ব্যবহারও খুবই ভালো। দুর্যোগের সময় তিনি সাধ্যমতো সহায়তা নিয়ে এলাকার মানুষের পাশে রয়েছেন। নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমি ভোটারদের কাছে অঙ্গীকার করেছিলাম, নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। আমি আমার দেওয়া কথা রেখে যাচ্ছি।’

এর আগে, করোনাকালীন দুর্যোগ ও ২০১৭ সালে বন্যায় ফসলহানির পর এলাকার মানুষকে তিনি আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিলেন। এবার ফসলডুবির হাত থেকে হাওরের ফসল রক্ষায় তিনি দিন-রাত বাঁধের কাজে ছুটে গেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এবারের বন্যায় ওই ইউপি চেয়ারম্যানের তৎপরতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমরা নাসরিন সুলতানাকে অভিবাদন জানাই। তাঁর মতো অন্য জনপ্রতিনিধিরাও এভাবে বিপদ–আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, সেটিই আমরা চাই।