বাড়ানোর উদ্যোগ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যদি যৌক্তিক কোনো কারণ থাকত তবে পিডিবির পক্ষ থেকে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে দরকারি তথ্য ছাড়া ও গোঁজামিল দিয়ে একটি প্রস্তাব সেখানে পাঠানো হতো না। এ ধরনের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম যদি কমানো নাও হয় অন্তত স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কিন্তু তা না করে পিডিবি উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এমনকি এ জন্য যে কৌশল তারা গ্রহণ করেছে, তাকে অনৈতিক হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হলে বিইআরসির কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হয় এবং দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হয়। পিডিবি যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তাতে দরকারি তথ্য যেমন দেওয়া হয়নি, তেমনি কিছু তথ্য এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে উৎপাদন খরচ বাড়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে হিসাবের যে ভিত্তি ধরা হয়েছে, তা পুরোনো। উদ্দেশ্যমূলক না হলে এমন হওয়ার কথা নয়।


পিডিবির পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে গত নভেম্বরে। সে অনুযায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছর ও বর্তমান ২০১৬-১৭ অর্থবছরের অনুমিত হিসাব, পিডিবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা বাড়বে বা সিস্টেম লস কতটা কমবে, তার বিবরণ প্রস্তাবের সঙ্গে দেওয়ার কথা। এগুলো সবই পিডিবির দক্ষতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব কোনো তথ্যই কমিশনে জমা দেওয়া হয়নি। অপূর্ণাঙ্গ তথ্য ও জনগণের জন্য পিডিবি কী করবে, তা না জানিয়ে দেওয়া প্রস্তাবের মাধ্যমে তারা জনগণের ওপর বিদ্যুতের বাড়তি দাম চাপিয়ে দিতে চাইছে।
আমরা আশা করব পিডিবির বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।