ভারতে মাছ রপ্তানি

বাংলাদেশ থেকে ভারতে মাছ রপ্তানি উত্তরোত্তর বাড়ছে—এটি অবশ্যই আনন্দের খবর। কিন্তু এ খবরে মাছচাষিরা উৎসাহিত হতে পারছেন না। রপ্তানিকারক নামধারী সিন্ডিকেটের কারণে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খেয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। অন্যদিকে পরিমাণে কম হলেও ভারত থেকেও মাছ আমদানি হচ্ছে।

প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের মাছ রপ্তানি হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলারের মাছ, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৪ লাখ ডলার বেশি। অর্থাৎ প্রতিবছরই মাছের রপ্তানি বাড়ছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো প্রতিবছর মাছ রপ্তানি বাড়লেও চাষিরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত। এর কারণ, যে চারটি প্রতিষ্ঠান মাছ রপ্তানি করে, তারা সিন্ডিকেট করে কম দামে মাছ কেনে। ভারতে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় ইলিশ। এটি চাষের মাছ নয়। জেলেদের কাছ থেকে রপ্তানিকারকেরা ইলিশ কিনে থাকেন। এ ছাড়া ভারতে পাবদা, কার্পজাতীয় মাছ তথা ট্যাংরা, ভেটকি, পাঙাশ, গজাল প্রভৃতি মাছেরও বেশ চাহিদা আছে, যার জোগান দেন মৎস্যচাষিরা। খুলনা বিভাগে মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠানের মাছ রপ্তানির ছাড়পত্র আছে, যারা সিন্ডিকেট করে তাঁদের কাছ থেকে কম দামে মাছ কেনে। এসব চাষি রপ্তানির বিষয়টি মাথায় রেখে মাছ চাষ করেন। চৌগাছা লস্করপুর গ্রামের চাষি আবুল কাশেম ৭৫০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছেন। গত বছর তিনি প্রতি মণ পাবদা বিক্রি করেছেন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। এ বছর তাঁকে সেই মাছ বিক্রি করতে হয়েছে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায়। অন্যান্য খামারেরও চিত্রও প্রায় এক। মাছচাষিরা বলছেন, এভাবে দাম কমতে থাকলে মাছ চাষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।

তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, করোনার কারণে ভারতে মাছের দাম কমে গেছে। মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ দপ্তর মাছ রপ্তানিকারকদের ছাড়পত্র দিয়ে থাকে। মৎস্যচাষিদের দ্বিতীয় অভিযোগ, বাংলাদেশে এখন প্রচুর মাছ উৎপন্ন হয়। তাই ভারত থেকে মাছ আমদানির প্রয়োজন নেই। ভারত থেকে মাছ আমদানি না হলে তাঁরা লাভবান হবেন।

কেবল বেনাপোল নয়, অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়েও ভারতে প্রচুর মাছ রপ্তানি হয়। সেসব স্থানেও রপ্তানিকারকের নামে সিন্ডিকেট হয়ে থাকলে অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া উচিত। এতে রপ্তানিকারকদের মধ্যে যেমন সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা হবে, তেমনি মৎস্যচাষিরাও অধিক লাভবান হবেন।