default-image
>

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক একজন লেখক ও সমাজ পর্যবেক্ষক। প্রথম আলোর সঙ্গে এই বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেন ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি, বিচারবহির্ভূত হত্যা, স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মশিউল আলম।

প্রথম আলো: আপনার দৃষ্টিতে দেশ কেমন চলছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: ভালো-মন্দ মিলিয়ে। তবে মন্দের কর্তৃত্বই বেশি। জনসাধারণ মনোবলহারা, নেতৃত্বহীন। বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে ধর্ষণের দেশে। মাদকাসক্তি, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়েছে, বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ ইত্যাদি বলে বিনা বিচারে সন্দেহভাজনদের হত্যা বেড়ে চলেছে। সরকারি দলের অনেক লোকের ও পুলিশের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। বিচারব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রশাসনব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রীয় সব ব্যবস্থাই দারুণভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। শিক্ষাব্যবস্থা রাষ্ট্রগঠনের ও জাতিগঠনের পরিপন্থী। রাজনীতি দারুণভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য নেই। দুর্বৃত্তায়িত। নৈতিক পতনের ফলে সবকিছু ভেতর থেকে নষ্ট হয়ে চলেছে। জাতীয় জীবনে চলছে সার্বিক অবক্ষয়। বৃহত্তর মানুষের মনে ধারণা আছে যে অবস্থা ভালো করা সম্ভব। কিন্তু কোনো সংগঠিত প্রয়াস দানা বেঁধে উঠছে না।

প্রথম আলো: বাইরের দুনিয়াটা কেমন চলছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: তথ্যপ্রযুক্তি ও জীবপ্রযুক্তির বিপ্লব এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলোপের পর সব জাতি ও রাষ্ট্রই ভেতরে-বাইরে বদলে গেছে। বিশ্বময় মানুষের নৈতিক চেতনা নিম্নগামী। বিশ্বায়ন তো আসলে সাম্রাজ্যবাদেরও উচ্চতর স্তর। বিশ্বায়নের কর্তৃত্বে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিয়ে গঠিত জি সেভেন। জাতিসংঘ কার্যত বৃহৎ শক্তিবর্গের সংঘ। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্বায়নের নীতি বাস্তবায়ন করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটো বাহিনী ব্যবহৃত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের স্বার্থে। ধর্ম প্রবর্তকেরা, মুনি-ঋষিরা, দার্শনিক-বৈজ্ঞানিকেরা ও কবি-সাহিত্যিকেরা যে বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবপ্রেমের কথা বলেছেন, তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এই বিশ্বায়নের। সব রাষ্ট্রের অবস্থা এক রকম নয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত এক ধারায় আছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়া অভ্যন্তরীণ দিক থেকে একটু ভালো। রাশিয়া, চীন জাতীয়তাবাদী নীতি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি সাম্রাজ্যবাদী নীতি বহাল রেখেও এখন নিজেদের বেলায় জাতীয়তাবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। তারা অশ্বেতাঙ্গ বিতাড়নের নীতি গ্রহণ করেছে। পাশ্চাত্য সভ্যতা সংকটে আছে। অবক্ষয় চলছে পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিগুলোর ভেতরে।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে যে অবস্থা চলছে, তাতে জাতীয় জীবনে কোন সমস্যাটিকে আপনি সবচেয়ে বিপর্যয়কর মনে করেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: ধর্ষণ, ধর্ষণকে কেন্দ্র করে হত্যা, আত্মহত্যা—এটাই সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে। মা, বোন, স্ত্রী, কন্যার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন—এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। সামাজিক, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ঘটনাপ্রবাহের দিকে দৃষ্টি দিলে বলতে হয়, বাংলাদেশে সভ্যতার সংকট চলছে। পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিকব্যবস্থা—সবই ভেতর থেকে পচে যাচ্ছে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অপব্যবহার চলছে। নৈতিক চেতনা, মূল্যবোধ দুর্গত। কেবল বিচারের কঠোরতা দিয়ে, অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা হচ্ছে। এতে সুফল দেখা যাচ্ছে না। বিচার, শাস্তি থাকবে, কিন্তু বিচারহীন হত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন প্রবর্তনের জন্যও আইনকানুনের সংস্কার দরকার। ধর্ষণ ও আনুষঙ্গিক ঘটনাবলি দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের জনগণ সাংস্কৃতিক ক্ষয় থেকে নৃতাত্ত্বিক ক্ষয়ের প্রক্রিয়ায় পড়ে গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের লেখক-গবেষকদের মধ্যে, শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে এ নিয়ে গভীর কোনো চিন্তা নেই, অনুসন্ধান নেই। রাজনীতিবিদদের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।

্রথম আলো: আপনি যা ভাবেন, যে ভাবনা-চিন্তা, অভিমত প্রকাশ করার তীব্র তাগিদ ও প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন, তা কি আপনি এখন মন খুলে লিখতে পারেন?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: পারি না। লেখা প্রকাশ করা যায়, কিন্তু কার্যকরভাবে প্রকাশ করা যায় না। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের চিন্তার স্বাধীনতা, গবেষণার স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীন চিন্তাশীলতা অনুমোদন করে না। প্রশাসনব্যবস্থার ভেতরে যাঁরা আছে, তাঁদের মতপ্রকাশের সুযোগ অল্পই আছে। ছাত্রসংগঠনগুলোতেও স্বাধীন চিন্তাচর্চার সুযোগ নেই। প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্র-শিক্ষকদের কেবল পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের বাঙালি জাতিকে একটি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী জাতিতে পরিণত করা হচ্ছে। এখনকার সরকার বিরোধীদলীয় রাজনীতিকে, ভিন্নমতকে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে, জেল দিয়ে মোকাবিলা করছে। সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য যে কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করেছে, তা অনৈতিক, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবৈধ। প্রতিরোধ নেই। ফেসবুক, টিভি চ্যানেল, পত্রপত্রিকা দৃশ্যমান ও অদৃশ্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সরকারের দমননীতি সেনাশাসকদের সময়ের চেয়েও অনেক কঠোর। টিভি চ্যানেলগুলোর টক শো স্ট্যাটাস ক্যু রক্ষায় বক্তব্যের বাইরে যায় না। সরকারের বাইরে যাঁরা আছেন, তাঁদের কাছ থেকে উন্নত চিন্তা কমই পাওয়া যায়। সরকারের দমননীতি বন্ধ করার জন্য সর্বজনীন কল্যাণের কর্মসূচি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ও কার্যক্রম দরকার। সরকার, সরকারি দল চাইলে নিজেদের রাজনৈতিক চরিত্র উন্নত করতে পারে। বিরোধী দলগুলোও তা পারে।

প্রথম আলো: স্বাধীন চিন্তা, স্বাধীন মত, ভিন্নমত, প্রতিবাদ ইত্যাদি প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হলে বা না থাকলে তার পরিণতি কী হতে পারে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: আমরা প্রগতিশীল মত ও চিন্তা চাই। সেটারই তো অভাব। আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা তো মত প্রকাশ করছেন। প্রতিবার নির্বাচনের আগে এই দলের জন্য ভোট চাইছেন। যাঁরা বেশি চালাক, তাঁরা নির্বাচনের পরে নীরব থাকছেন, অনেকে দলকে ক্ষমতায় রাখার জন্য নানাভাবে কাজ করছেন। বিএনপিতে বুদ্ধিজীবী খুব কম। তাঁরাও দলের পক্ষে তৎপর। আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবীরা যেমন, বিএনপির বুদ্ধিজীবীরাও তেমনি, জাতিগঠন, রাষ্ট্রগঠন ও জনজীবনের সমস্যাবলির সমাধান নিয়ে জনগণের উদ্দেশে মতপ্রকাশ করছেন না। তারপরও আমি মনে করি বইপত্রে কিছু লেখকের গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা আছে। যাঁরা উন্নতি আশা করেন, তাঁদের সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া দরকার। শুধু চিন্তার জন্য চিন্তা দিয়ে হবে না। দরকার কাজের জন্য চিন্তা এবং উন্নত চিন্তা অবলম্বন করে কাজ করা। স্বাধীনভাবে চিন্তা করা এবং স্বাধীন চিন্তা, মত, ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে এখন যে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চলছে, জাতির জন্য তার পরিণতি অবশ্যই অত্যন্ত খারাপ হবে। চলমান রাজনীতিতে ও বুদ্ধিজীবীদের চিন্তায় আস্থা রাখা ঠিক নয়।

প্রথম আলো: আমরা কেমন করে এ রকম একটা দুরবস্থায় এসে পৌঁছালাম? কেন এ রকম হলো?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিবেকবান চিন্তাশীল ব্যক্তিদের কর্তব্য দেশবাসীর কাছে তা স্পষ্ট করা এবং ভবিষ্যতের কর্তব্য নির্দেশ করা। বিষয়টিকে সব দিক থেকে দেখতে হবে। সংক্ষেপে বলা সম্ভব নয়। আমার কোনো কোনো বইতে এ বিষয়ে বক্তব্য আছে। প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হবে ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে। ছয় দফা আন্দোলন দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যক্ষ প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ তখন গণতন্ত্রের কথা বলেছে বটে, তবে গণতন্ত্রকে বুঝবার চেষ্টা করেনি। মুক্তিযুদ্ধকালীন নেতৃত্বের সমস্যাবলিকে বুঝবার চেষ্টা করা হয়নি। ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ সুস্থ-স্বাভাবিক গতিতে চলছে না। আমরা ছয় দফা আন্দোলনকালের গৌরবের কথাগুলো বলি, কিন্তু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা স্মরণ করি না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের কথা ভাবিও না। জাসদ গঠন ও জাসদের ভূমিকা, মাওলানা ভাসানী ও ন্যাপের ভূমিকা, খন্দকার মোশতাকের ভূমিকা, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জিয়াউর রহমান ও এরশাদের উত্থান-পতন, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব—এই ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে আজ আমরা এখানে এসে পৌঁছেছি। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হলে যেসব কাজ করা দরকার, এই ইতিহাসটুকু জানা এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার। কেবল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে ও পরাজিত রেখে ক্ষমতায় আসার ও থাকার রাজনীতি চলছে। এই রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সফল। এই রাজনীতির পরিণতি অবশ্যই শুভকর হবে না। আওয়ামী লীগের রাজনীতির উন্নতি কাম্য। অবশ্য সব দলই চেষ্টা করতে পারে নিজেদের রাজনীতি উন্নত করতে। বামপন্থী দলগুলো কি একই রকম থাকবে! সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টির জন্য উন্নত জাতীয় রাজনীতির প্রয়োজন হবে। বিদেশনির্ভরতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভর হতে হবে।

প্রথম আলো: আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক যে ক্ষয়ের কথা আপনি বললেন, তার পেছনে কি শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতির ভূমিকা আছে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: শিক্ষা নিয়ে অসন্তোষ আছে এবং অসন্তোষের সংগত কারণ আছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের জাতি ও রাষ্ট্রগঠনের পরিপন্থী। এই শিক্ষাব্যবস্থা অতি আত্মকেন্দ্রিক মানুষ তৈরি করছে, শুধু ব্যক্তিগত ভাগ্যোন্নয়নের প্রতি মনোযোগী মানুষ তৈরি করছে। তাদের চিন্তায় জাতি নেই, রাষ্ট্র নেই, সমষ্টির স্বার্থ নেই। আছে শুধু নিজের উন্নতির চিন্তা।

প্রথম আলো: এটা থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: প্রথমেই বলব, সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতি অবিলম্বে পরিবর্তন করে শিক্ষামুখী, জ্ঞানমুখী, অনুসন্ধিৎসামুখী পরীক্ষাপদ্ধতি প্রবর্তন করা দরকার। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করা দরকার। পঞ্চম শ্রেণির পর থেকেই পর্যায়ক্রমে বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো দরকার। বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের ইতিহাস ও পৌরনীতি অবশ্যপাঠ্য বিষয়রূপে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যসূচি, পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক উন্নত করা দরকার। জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদের নীতি অবলম্বন করে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে।

প্রথম আলো: আমাদের আলাপের শুরুতে যে জাতীয় সংকটের প্রসঙ্গ এসেছে, তা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে কীভাবে?

আবুল কাসেম ফজলুল হক: বিভিন্ন সমস্যা আলাদা আলাদাভাবে বিবেচনায় নিয়ে সমাধানের উপায় অনেকে নির্দেশ করছেন। সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। তাতে ফল হচ্ছে না। সার্বিক জাতীয় সংকট থেকে মুক্তি অর্জনের জন্য প্রথমে প্রয়োজন এ লক্ষ্যে দৃঢ়সংকল্প এমন কিছু মানুষ, যাঁরা জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল গঠন করবেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি দলও নতুন সংকল্পে নিজেদের পুনর্গঠিত করতে পারে। দলের ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্র ও জাতিগঠনের এবং জনজীবনের প্রধান সমস্যাবলি সমাধানের বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। দূরদর্শিতার সঙ্গে দীর্ঘ সাধনা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নীতিহীনতা, আদর্শহীনতা, লক্ষ্যহীনতার যুগ চলছে। এই অবস্থায় সবকিছুই নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। ঘুমন্ত জনসাধারণকে জাগাতে হবে। জনগণের মধ্যে নৈতিক চেতনার সক্রিয়তা থাকতে হবে। এভাবে কাজে অগ্রসর হলে মানবজাতির সামনে বাংলাদেশ আদর্শ রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় হীনতাবোধ ও নৈরাশ্য কাটিয়ে উঠতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন ইচ্ছা, সংকল্প ও কাজ। রাজনৈতিক দল অবলম্বন করে কাজ করতে হবে। ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য আলাদা প্রচেষ্টা থাকবে। সামাজিক আন্দোলনও থাকবে। শুধু সরকার পরিবর্তন দিয়ে হবে না। নতুন রাজনীতি গড়ে তুলতে হবে। স্বল্পমেয়াদি ও পর্যায়ক্রমিক দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিয়ে এগোতে হবে।

প্রথম আলো: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আবুল কাসেম ফজলুল হক: আপনাকেও ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন