১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে আপনি কীভাবে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের প্রতিরোধযুদ্ধের সঙ্গে পরিচিত হন?

default-image

বেরনার-অঁরি লেভি: সে সময় আমি ছিলাম খুবই অল্পবয়সী একজন ফরাসি আন্দোলনকর্মী। কেউ আমাকে চিনত না। বাংলাদেশ আমার সবকিছুর সূচনাবিন্দু। আমার প্রথম লেখা বইটি বাংলাদেশ নিয়ে। অধিকারকর্মী হিসেবে আমার প্রথম অঙ্গীকার ছিল বাংলাদেশকে নিয়ে। বাংলাদেশে এসে ভবিষ্যৎ একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব-কর্তব্য আবিষ্কার করি। একাত্তরের অক্টোবরের শেষের দিকে এক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে আমি কলকাতা থেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ি। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ছিলেন কলকাতায়, কিন্তু তাঁর পরিবার আটকা পড়েছিল সাতক্ষীরা এলাকায় নিজেদের বাড়িতে। তিনি তাঁদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কমান্ডো অপারেশন চালাতে সীমান্ত পার হয়েছিলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে ঢুকে পড়ি। সাতক্ষীরা অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তিন-চার দিন কাটিয়ে আমি কলকাতা ফিরে যাই, তারপর আবার বাংলাদেশে ঢুকি। এসবের মধ্যে আমি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরতা এবং তার বিপরীতে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর দুর্দমনীয় সাহসিকতা, বীরত্ব ও কষ্টসহিষ্ণুতা লক্ষ করি।

সেই সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার ধারণা, জানা-বোঝা সম্পর্কে কিছু বলুন।

বেরনার-অঁরি লেভি: আমি প্রথম স্বচক্ষে দেখতে পাই যুদ্ধ কেমন বিভীষিকাময় হতে পারে। এবং আমি এও আবিষ্কার করি যে যুদ্ধের নৃশংসতা বিভীষিকাপূর্ণ হলেও কখনো কখনো তা প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। যখন ভীষণ শক্তিশালী একটা সেনাবাহিনী নিরীহ সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, তখন সাধারণ মানুষ এবং তাদের মিত্রদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় সেই যুদ্ধের প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পাল্টা আঘাত হানা। ওই সময়েই আমি আবিষ্কার করি যে কখনো কখনো শান্তিবাদী নীতি ধরে থাকা চলে না। সেই ১৯৬০–এর দশকের শেষ দিকে ইউরোপে আমাদের নীতি ছিল শান্তিবাদী, আমাদের স্লোগান ছিল ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি ও ভালোবাসা চাই’। কিন্তু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে এসে আমি যখন দেখি যে বর্বর সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, তখন বুঝতে পারি জনগণের নিজেদের রক্ষা করার দায়িত্ব আছে এবং বিশ্বের দায়িত্ব হচ্ছে সেই মানুষদের পক্ষে দাঁড়ানো। আমি বুঝেছিলাম, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সে দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন। সেটা ছিল একটা দারুণ সময়: সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগোষ্ঠীর দেশ ভারত পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা কিনা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ! সেটা নরেন্দ্র মোদির আমল ছিল না, ছিল অন্য রকম একটা সময়। ইন্দিরা গান্ধী পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণকে রক্ষা করার দায়িত্ব অনুভব করেছিলেন। সেই সময় ফ্রান্সে আরেকজন মানুষ ছিলেন, তাঁর নাম অঁদ্রে মালরো, বিশ্বখ্যাত একজন লেখক। তিনিও বুঝতে পেরেছিলেন যে পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণকে রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেছিলেন, ফ্রান্সেরও সেই দায়িত্ব আছে। এসবই ছিল বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার প্রথম অভিজ্ঞতা ও বোঝাপড়া।

■ মুক্তিযোদ্ধারা লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন, তখন তাঁরা অপরাজেয় হয়ে ওঠেন। ■ বাংলাদেশে সহনশীল, মধ্যপন্থী, উদার গণতান্ত্রিক ইসলামের অনুশীলন হচ্ছে। ■ বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে যে সে রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। ■ বাংলাদেশ সমস্যা মোকাবিলা করে ক্রমশ উন্নতি করেছে। এটা বাংলাদেশের জনসাধারণের কৃতিত্ব।
বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানি সেনাশাসকেরা যে পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালিদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং বাঙালিরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছে, এসব বিষয় আপনি কখন প্রথম জানতে পেরেছিলেন?

বেরনার-অঁরি লেভি: একাত্তরের মার্চ মাসেই জানতে পেরেছিলাম যে পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সেটা ছিল ভিন্ন একটা সময়, আজকের তুলনায় খুবই ভিন্ন এক পৃথিবী। আজকের মতো এত খবরাখবর পাওয়া যেত না, এত সংবাদমাধ্যম ছিল না। সে সময় ফ্রান্সে টিভি চ্যানেল ছিল মাত্র একটা। বুঝতেই পারছেন, বহির্বিশ্বের খবরাখবর খুবই কম পাওয়া যেত। একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের গণহত্যার বিষয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ফ্রান্সের যে ব্যক্তির অবদানের প্রশংসা করতে হয়, তিনি অঁদ্রে মালরো। তিনি যখন ফরাসি রেডিওতে বিবৃতি দিলেন, সেটা ছিল একটা বজ্রপাত, একটা বিস্ফোরণ। তার আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী হিসেবে আমার শুধু এটুকুই জানা ছিল যে পূর্ব পাকিস্তানে বর্বর ও বিয়োগান্ত কিছু একটা ঘটছে। এর বেশি কিছু জানা ছিল না। আমি তখন জানতাম নাইজেরিয়ার বায়াফ্রার যুদ্ধ সম্পর্কে। বাংলাদেশের খবরটা বড় আকারে আমাদের কাছে তখন পর্যন্ত পৌঁছায়নি। মালরো সেটাকে একটা বিরাট আন্তর্জাতিক ইস্যুতে রূপান্তরিত করেন, আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন ইস্যু করে তোলেন। তিনি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে; এ নিয়ে পুরো বিশ্ববাসীর উদ্বেগ বোধ করা উচিত। পুরো মানবজাতির দায়িত্ব এদিকে দৃষ্টি দেওয়া। এই ছিল অঁদ্রে মালরোর ভূমিকা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কোন দিকগুলো আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল?

বেরনার-অঁরি লেভি: অনেক দিক। প্রধান একটা দিক হলো, সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের সব রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিবাহিনীতে অনেক রকমের রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধারা, উপধারার মানুষ ছিল। ডানপন্থীরা ছিল, বামপন্থীরা ছিল, ছিল বিশুদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা। তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছিল। এক অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিল। এটা ছিল আমার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। আরেকটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—বহির্বিশ্বে সবাই ভাবে যে যুদ্ধটা করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতই বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে। এটা আংশিকভাবে সত্য, মুক্তিবাহিনী নিজেই বৃহত্তর লড়াইটা লড়েছিল। আমার মনে আছে, একটা শহরে পাকিস্তানি সৈন্যরা তাদের ঘাঁটি থেকে বেরোতে পারছিল না, কারণ তারা মুক্তিবাহিনীকে ভয় পাচ্ছিল। মুক্তিবাহিনী তাদের থেকে শক্তিশালী ছিল। ভারতীয় বাহিনী ঢুকে পড়ার আগপর্যন্ত রণাঙ্গনের নিয়ন্ত্রণ ছিল মুক্তিবাহিনীর হাতে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তত দিনে রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে গিয়েছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ করার আগেই। এ কারণেই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বেশি লড়াই করতে হয়নি, খুব সহজেই তাদের পরাজিত করা সম্ভব হয়েছিল। পূর্ব পাকিস্তানে যতসংখ্যক ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য ঢুকেছিল, পাকিস্তানি সেনাসংখ্যা ছিল তার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশি। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানিরা কেন আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল? কারণ, তারা জানত যে নভেম্বরের মধ্যেই যুদ্ধের মাঠে মুক্তিবাহিনীর কাছে তাদের পরাজয় ঘটে গেছে। রণাঙ্গনগুলোর নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে মুক্তিবাহিনীর হাতে। এ থেকে আমার দ্বিতীয় শিক্ষাটা হলো যে যখন মুক্তিযোদ্ধারা লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেয়, তখন তারা অপরাজেয় হয়ে ওঠে।

একাত্তরের অক্টোবর মাসে কি আপনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পূর্ব পাকিস্তানের কী হতে যাচ্ছে? তখনই কি আপনি দেখতে পেয়েছিলেন যে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে?

বেরনার-অঁরি লেভি: এটা আমার ঠিক মনে পড়ে না। সম্ভবত অক্টোবরে নয়। কারণ, আমি তখন যুদ্ধের মধ্যে। ঝড়ের কেন্দ্রে আটকা পড়ে গেলে যেমন চারপাশে কিছু দেখা যায় না, ব্যাপারটা ছিল অনেকটা সে রকম।

যখনই হোক, আপনি যখন বুঝতে পারলেন যে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে, তখন আপনার কী মনে হয়েছিল—কেমন রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশ? কী ধরনের রাষ্ট্র?

বেরনার-অঁরি লেভি: আমার মনে হয়েছিল নতুন রাষ্ট্রটি গড়ে উঠবে কতগুলো মহান আদর্শ ও মূল্যবোধের ভিত্তির ওপর। জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মূল্যবোধ। আমি আরও জানতাম যে স্বাধীন বাংলাদেশ হবে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ, কিন্তু সেটা হবে পাকিস্তানের থেকে খুবই ভিন্ন রকমের একটা রাষ্ট্র। পাকিস্তান ছিল রক্ষণশীল ইসলামপন্থী একটা দেশ। কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন রকমের। অবশ্যই মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, কিন্তু তাদের মানসিকতায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছিল, তাদের ইসলামের ধারণার সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলোর কোনো বিরোধ ছিল না। অনেক মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যারা খুবই ধর্মপ্রাণ মুসলমান, কিন্তু অন্যান্য ধর্মের প্রতি সহনশীল। মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং তার পরের দিনগুলোতে যেসব মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, পরিচয় হয়েছে, তারা জানত যে আমি একজন ফরাসি ও ইহুদি। তবু তারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছিল, আতিথেয়তা দিয়েছিল ভাইয়ের মতো। সুতরাং আমি জানতাম, বাংলাদেশ যখন স্বাধীন রাষ্ট্র হবে তখন এটা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটা আদর্শ রাষ্ট্র হয়ে উঠতে পারে, যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলো থাকবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সঙ্গে তো আপনার অনেকবার দেখা হয়েছিল, আলাপ হয়েছিল।

বেরনার-অঁরি লেভি: তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ মানুষ, একজন গণতন্ত্রী, অবিশ্বাস্য রকমের খোলা মনের মানুষ। একটা নতুন রাষ্ট্রের নেতা যখন এ রকম একজন মানুষ, তখন তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া, তাঁর সঙ্গে আলাপ করার সুযোগ আমার জন্য ছিল একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম ছিল মুসলিম বিশ্বের জন্য, দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এবং গোটা পৃথিবীর জন্য একটা আশীর্বাদ। ১৯৭১-৭২ সালে আমার উপলব্ধি ছিল এ রকম।

প্রায় পাঁচ দশক পরে এখন আপনি কী দেখছেন?

বেরনার-অঁরি লেভি: দেখুন, আমি দেখছি যে মুসলিম বিশ্ব মৌলবাদ, উগ্রপন্থা ইত্যাদি নেতিবাচক প্রবণতায় টগবগ করে ফুটছে। কিন্তু বাংলাদেশ এমন একটা জায়গা, যেখানে এসব প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আছে। বাংলাদেশে সহনশীল, মধ্যপন্থী, উদার গণতান্ত্রিক ইসলামের অনুশীলন হচ্ছে এবং দেশটি এসব আদর্শের প্রতি অন্যদেরও আহ্বান জানাচ্ছে।

বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়, তখন এর অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। আপনি সেটা জানতেন। সবকিছু শুরু করতে হয়েছিল শূন্য থেকে।

বেরনার-অঁরি লেভি: সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সামনে বড় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক পর্যবেক্ষক সে সময় বলেছিলেন যে এ দেশ টিকবে না। কিসিঞ্জার, নিক্সন এবং চীন মনে করত যে বাংলাদেশের পরিণতি হবে মৃত্যু। এটা ব্যর্থ রাষ্ট্র হবে। পৃথিবীতে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকা তো বেশ লম্বা। বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে যে সে রাষ্ট্র হিসেবে ব্যর্থ হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ একটা সফল রাষ্ট্র; যদিও এখন পর্যন্ত সে গরিব। ক্ষুধা ছিল, প্রকট দারিদ্র্য ছিল; ছিল বছরে বছরে বন্যা, নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, জমিজমা হারানো ইত্যাদি সমস্যা। আমি নিজেই দেখেছি, গতকাল একজনের জমি ছিল, আজ নেই, নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বাংলাদেশের অজস্র সমস্যা ছিল। এমন আর কোনো নতুন রাষ্ট্রের কথা আমার জানা নেই, জন্মের মুহূর্তে যে এত এত সমস্যায় জর্জরিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ সেসব সমস্যা মোকাবিলা করে ক্রমশ উন্নতি করেছে। এটা বাংলাদেশের জনসাধারণের কৃতিত্ব। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো নেতা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের মধ্যে অনেক সময় পেরিয়ে গেছে; এই সময়ে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা ছিল গণতন্ত্র ও মুক্তি; রাজনৈতিক মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি, বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কি খোঁজখবর রাখেন?

বেরনার-অঁরি লেভি: নিশ্চয়ই রাখি। তবে সম্ভবত আপনাদের মতো বেশি নয়, কিংবা আমার যতটা খোঁজখবর রাখা উচিত ততটা রাখা হয় না। কিন্তু মোটের ওপর রাখি।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

বেরনার-অঁরি লেভি: ধন্যবাদ।

বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন