প্রথম আলো: আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে তালেবান। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কাবুলের কাছাকাছি চলে এসেছে তালেবান। দেশটি তালেবান শাসন থেকে কত দূরে?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রাদেশিক শহরের মধ্যে ২৪টি এবং দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ এলাকা এখন তালেবানের দখলে। তারা কাবুলে ঢোকার দ্বারপ্রান্তে। আফগান সরকারের প্রতি তারা শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে। আফগান সরকার কী করবে, সেটা এখন দেখার বিষয়। তবে শান্তিপূর্ণভাবে হোক বা রক্তপাতের মধ্য দিয়ে হোক, কাবুলের ক্ষমতা তালেবানের হাতেই যাচ্ছে।

প্রথম আলো: আফগানিস্তান বহু জাতি-উপজাতি ও গোত্রের সমন্বয়ে একটি দেশ। তালেবান মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী পশতুদের প্রতিনিধিত্ব করে। আফগানিস্তানে তাদের পক্ষে আদৌ একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কোনোভাবে সম্ভব কি?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: আফগানিস্তান একটি বহুজাতি উপজাতির দেশ। উপরন্তু এখানে একটি শক্ত গোত্রীয় অবকাঠামো রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এসব জাতি এবং উপজাতি একধরনের স্বায়ত্তশাসন উপভোগ করে আসছে। স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় যে আফগানিস্তানে কেন্দ্রীয় শাসন কোনো সময় একটি শক্তভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়নি। তালেবান কাবুলে ক্ষমতা দখল করলেও এই জাতি উপজাতিদের তাদের একধরনের স্বকীয়তা এবং নিজস্বতা এবং তাদের নিজ অঞ্চলে শাসনব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা থেকেই যাবে। এখানে আমরা যেটা স্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রীয় শাসন বুঝি, সেটা তালেবানের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

প্রথম আলো: আফগানিস্তানে তালেবানের অতীত শাসনামলের অভিজ্ঞতা দেশটি ও বিশ্ববাসীর জন্য ছিল শোচনীয়। আফগানিস্তানে সামনে আবার তালেবানের ক্ষমতা দখলকে কীভাবে দেখছেন?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: বিগত ২০ বছরে তালেবান–পরবর্তী শাসনকালে আফগানিস্তানে যে আর্থসামাজিক উন্নয়নের অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক উদার মূল্যবোধ, ব্যক্তিস্বাধীনতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছিল, সেটা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হবে। তালেবান শাসনামলে শরিয়া আইন বাস্তবায়নে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে নারীশিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নারী প্রবেশের অধিকার ইত্যাদি আবার রোধ করা হবে বলে মনে হয়। এরই মধ্যে দখলকৃত কিছু প্রাদেশিক রাজধানী এবং কিছু জেলা সদরে তালেবান তাদের আচরণবিধির নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে যে তালেবান তাদের বিশ্লেষিত শরিয়া সামাজিক রীতিনীতি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। কাজেই স্বাভাবিকভাবে তালেবানের অধীনে আফগানিস্তান সামনের দিকে এগোনোর পরিবর্তে আবার পশ্চাৎমুখী হবে।

প্রথম আলো: দোহায় তালেবানের অফিস রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তি করেছে, তালেবান প্রতিনিধিরা চীন সফর করেছেন, ভারতও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তো তালেবানকে কার্যত স্বীকৃতি ও তাদের সম্ভাব্য ক্ষমতা দখলের বিষয়টি মেনে নিয়েছে। আপনার মন্তব্য কী?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: তালেবান শুধু আফগানিস্তানে মাঠপর্যায়ে তাদের সামরিক তৎপরতা দেখাচ্ছে তা–ই নয়, বরং তারা কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে একইভাবে তাদের যোগাযোগ এবং প্রভাববলয় বিস্তার করতে তৎপর রয়েছে। ২০১৮ সালে দোহায় আফগান সরকারকে বাদ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের বৈঠক ছিল তাদের প্রথম কূটনৈতিক সাফল্য। এখন তারা বিশ্বের অন্যান্য বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ করছে। তালেবান প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যে বেইজিং, মস্কো সফর করেছে। এমনকি ভারতও তালেবানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিকভাবে তারা একটি শক্ত অবস্থানে আছে।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিদের যে তৎপরতা একসময় বেশ গেড়ে বসেছিল, তার সূচনা হয়েছিল আফগানফেরত যোদ্ধাদের হাত ধরে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও কিছু বাংলাদেশি আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের জন্ম হয় আফগান জিহাদফেরত যোদ্ধাদের মাধ্যমে। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া লোকজন আফগানিস্তানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের মতাদর্শে দীক্ষিত হয়েছেন এবং সামরিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশে তালেবান শাসন কায়েমের স্বপ্নও তাঁরা দেখেছেন। তখন তাঁদের স্লোগান ছিল ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান।’ আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখল এই গোষ্ঠীকে আবার নতুন করে উজ্জীবিত করতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ করেছি যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কিছু সদস্য আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনার পর্যায়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। ডিএমপি কমিশনারও বলেছেন, আফগানিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করছে কিছু বাংলাদেশি। কাজেই নতুন যোগাযোগের যে ক্ষেত্র স্থাপন হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার। বাংলাদেশের জঙ্গি পরিস্থিতির সঙ্গে আফগানিস্তানের তালেবানের একটি সরাসরি যুক্ততা ও প্রভাব রয়েছে। এ কারণেই কাবুলে তালেবানের ক্ষমতা দখলের বিষয়টিকে উদ্বেগ ও শঙ্কার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

প্রথম আলো: আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে কী পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: ভূরাজনৈতিক দিক থেকে আফগানিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থানে এর অবস্থান। বর্তমান পরিবর্তিত এবং তালেবানের সম্ভাব্য ক্ষমতা দখলের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষ নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। এখানে বিশেষ করে লক্ষণীয় যে চীন তাদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানে একসময়ের পরাজিত শক্তি রাশিয়া তাদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চীন-রাশিয়ার সমন্বিত পদক্ষেপের যে নিদর্শন দেখা যাচ্ছে, আফগানিস্তানেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে আফগানিস্তানে তাদের স্থান ধরে রাখতে সবচেয়ে বেশি উদ্‌গ্রীব ভারত। এ জন্য তারা নতুন পথ খুঁজছে। এমনকি তুরস্ক নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে আফগানিস্তানে তাদের অবস্থান আরও সুরক্ষিত করতে চাইছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফগানিস্তান পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে যে কোয়াড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে, তার অন্তর্ভুক্ত চারটি সদস্য হচ্ছে পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানিস্তান। কাজেই কার্যত দেখা যাচ্ছে যে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

প্রথম আলো: তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এলে সেখানে চীনের একটি প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হবে বলে অনেকে মনে করে। যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে চীনের এই ভূমিকাকে কীভাবে নেবে?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: আফগানিস্তানে চীনের যে গভীর আগ্রহ রয়েছে, সেটা তার ইদানীংকালে তালেবানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পায়। আফগানিস্তানে চীনের নানাবিধ স্বার্থ রয়েছে—ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও জ্বালানি। বিশেষ করে আফগানিস্তানে যে বিশাল খনিজ দ্রব্যের রিজার্ভ রয়েছে, সেটা চীনের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। চীন বিশেষ করে তাদের জিনজিয়াং প্রদেশের নিরাপত্তা এবং সেখানের ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সম্ভাব্য আফগান যোগাযোগের ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন। এ ধরনের যেকোনো তৎপরতা ঠেকাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে তারা সরাসরি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে চীন আফগানিস্তানে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। চীনের এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই সুখকর হবে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেমন কিছু করারও নেই। যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো বাধ্য হয়েই আফগানিস্তানে চীনের নতুন অবস্থানকে মেনে নিতে হবে।

প্রথম আলো: ভারত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে সেই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ কী হবে? ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তালেবান শাসনের কী প্রভাব পড়তে পারে?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: ভারত ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে পার্লামেন্ট ভবন, বাঁধ, মহাসড়কসহ বিভিন্ন প্রকল্পে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত আফগানিস্তানে তার অবস্থান সুসংহত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে ভারতের উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে। রাজনৈতিকভাবে এ অঞ্চলের যে দেশটি সবচেয়ে লাভবান হবে, সেই দেশটি হচ্ছে পাকিস্তান। জন্মলগ্ন থেকে তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক এবং যোগাযোগ রয়েছে। পাকিস্তান কোনোভাবেই চাইবে না যে ভারত আফগানিস্তানে তাদের অবস্থান সুসংহত করুক। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তালেবান ক্ষমতায় এলে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সহিংস তৎপরতা বেড়ে যাবে। অনেকের মতে, তালেবান এবং পাকিস্তান–সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আবার কাশ্মীরে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ভারত অবশ্য তালেবানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে তাদের এ উদ্যোগ কতটুকু সফল হবে, সেটা এক বড় প্রশ্ন।

প্রথম আলো: চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবান আশ্বস্ত করেছে যে আফগান ভূখণ্ডকে তারা বাইরের কোনো দেশের সন্ত্রাসী বা জঙ্গিগোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেবে না। এ আশ্বাসের ওপর কতটুকু ভরসা করা সম্ভব?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: তালেবানের পক্ষ থেকে মৌখিক এবং কূটনৈতিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে তারা কোনো জঙ্গি সংগঠনকে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করতে দেবে না। তবে তালেবানের সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন, বিশেষ করে আল-কায়েদার যে যোগাযোগ আগে ছিল, তা কতটুকু বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সেটা পরিষ্কার নয়। ২০২০ সালের জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে তালেবান নেতৃত্ব ২০১৯ ও ২০২০ সালে দফায় দফায় আল-কায়েদার সঙ্গে মিলিত হয়েছে তাদের প্রশিক্ষণ এবং অভিযানসংক্রান্ত পরিকল্পনা তৈরির কাজে। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে নতুন করে আল-কায়েদার তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিদেশি যোদ্ধারা আফগানিস্তানে ফিরতে চাইছে। ফলে তালেবান যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেটা কতটুকু বাস্তবসম্মত বা তারা মেনে চলবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

প্রথম আলো: বর্তমান পরিস্থিতিতে বা ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হওয়া উচিত?

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আমাদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে বাংলাদেশ এনজিওগুলোর মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং তা প্রশংসিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বৃদ্ধি করা যেতে পারে। ভূরাজনৈতিক দিক থেকে আফগানিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের সহায়ক ভূমিকা নেওয়া যেতে পারে। আফগানিস্তানের ভূমি দিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নেটওয়ার্ক সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, যেমন টাপি পাইপলাইন। এ ধরনের জ্বালানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে। তবে যেহেতু বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তালেবান ও জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক ছিল, কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখার প্রয়োজন আছে।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

এ এন এম মুনীরুজ্জামান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন