মানবাধিকার কমিশনকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে হবে

মিজানুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। তিনি দুই মেয়াদে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত ছয় বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শরিফুজ্জামান

মিজানুর রহমান
ছবি: প্রথম আলো

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: দেশে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ থাকতে মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রয়োজন কেন হয়েছিল?

মিজানুর রহমান: একটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত করা। রাষ্ট্র অতি ক্ষমতাবান প্রতিষ্ঠান আর ব্যক্তি খুবই অসহায়। এই অসহায় ব্যক্তির পাশে দাঁড়াতে মানবাধিকার কমিশন প্রয়োজন, যা গোটা বিশ্ব উপলব্ধি করেছিল। আর বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে যেখানে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বঞ্চনা বেশি, সেখানে সরকার বলতে প্রথমে পুলিশকে বোঝায়। সাধারণ মানুষ যার হাতে ক্ষমতা দেখে, তাকেই কিন্তু সরকার মনে করে। পুলিশসহ রাষ্ট্রের ক্ষমতাবানেরা যেন মানবাধিকার বজায় রেখে সবকিছু করেন, সে জন্য কমিশনের গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রশ্ন :

রাষ্ট্র কি মানবাধিকার লঙ্ঘন করে? সে ক্ষেত্রে কমিশন কী ভূমিকা পালন করতে পারে?

মিজানুর রহমান: আইনবিজ্ঞান বলে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় রাষ্ট্র দ্বারা। ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী অপরাধ করলে ফৌজদারি আইন, বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা আছে। ভুক্তভোগী প্রথম থানায় গেল, কিন্তু পুলিশ মামলা নিল না। তখন ধরে নেওয়া হয়, রাষ্ট্র অপরাধীকে সহায়তা করছে; সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আসে। এভাবে রাষ্ট্র কর্তৃক যখন অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তখন মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব ব্যক্তির পাশে দাঁড়ানো।

প্রশ্ন :

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি। সেখানে কমিশনের ভূমিকা কতটুকু?

মিজানুর রহমান: মানবাধিকার কমিশনে যত অভিযোগ আসে তার প্রায় সবই, বলতে পারেন ৯০ ভাগ র‌্যাব-পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের আইনে এমনভাবে হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যে কমিশন শুধু সুপারিশই করতে পারবে। এ ছাড়া সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দেনদরবার করে এবং সরকারি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শেষমেশ উচ্চ আদালতে যেতে পারবে।

কিন্তু আদালতে যাওয়ার প্রক্রিয়াটাও বেশ জটিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। সরকার প্রতিবেদন দিলে কমিশন সন্তুষ্ট না হলে করণীয় সম্পর্কে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে। এরপর সেই সুপারিশের আলোকে সরকার তার গৃহীত কার্যক্রম ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে অবহিত করবে।

আইন অনুযায়ী, কোনো তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কমিশন মামলা গ্রহণের জন্য সরকারকে সুপারিশ করতে পারবে। শেষমেশ কমিশন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে হাইকোর্টে যেতে পারে। যেখানে কমিশনের এই হচ্ছে ক্ষমতা, সেখানে আপনি কত দূরই–বা যেতে পারবেন? আসলে আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশন প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না। কমিশনের অবস্থান সুদৃঢ় করতে চাইলে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে চাইলে আইনটি সংশোধনের বিকল্প নেই।

প্রশ্ন :

মানবাধিকার কমিশন তো হাইকোর্টে যেতে পারে, তারা কেন যায় না?

মিজানুর রহমান: হ্যাঁ, একপর্যায়ে হাইকোর্টে যেতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনেক লম্বা। তা ছাড়া রিট করার মতো টাকা কমিশনের নেই। মামলায় জিততে চাইলে তো ভালো আইনজীবী রাখতে হবে, প্যানেল আইনজীবী থাকতে হবে এবং তাঁদের যোগ্য সম্মানী দিতে হবে। বিনা পয়সায় বা কম টাকায় কাজ করাতে চাইলে তো ভালো ফল প্রত্যাশা করা যাবে না।

প্রশ্ন :

গৃহকর্মী খাদিজা হত্যার মামলায় হাইকোর্ট ও রিট আবেদনকারী কমিশন সম্পর্কে যেসব মন্তব্য (নখদন্তহীন বাঘ, কমিশন জেগে ঘুমায়, কমিশন রিটায়ার্ড ব্যুরোক্র্যাটদের ক্লাব) করেছেন, তার সঙ্গে আপনি কি একমত?

মিজানুর রহমান: কিছু বাস্তবতা তো আছে। আইনের সংশোধন জরুরি, কিন্তু কমিশন উঠতে-বসতে আইনের ওপর যে দায় চাপায়, সেটি হাইকোর্ট নাকচ করেছেন। বিশেষ করে গৃহকর্মী খাদিজা হত্যা মামলায় কমিশনের ‘গাফিলতি, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার’ কথা বলেছেন।

আর রিটায়ার্ড ব্যুরোক্র্যাটদের ক্লাব বলে যে প্রসঙ্গ এসেছে, তা নিয়ে মন্তব্য না করে এভাবে বলা যায়, কমিশনে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। জীবনভর সরকারি চাকরি করে মাথা নিচু থাকতে থাকতে যাঁদের মেরুদণ্ড বেঁকে যায়, তাঁদের অবসরজীবনে এমন চ্যালেঞ্জের মুখে না দেওয়াটাই শ্রেয়।

প্রশ্ন :

কমিশনের সদস্যদের কাজ কী? তাঁরা কতটা দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান?

মিজানুর রহমান: দেখুন, সাত সদস্যের কমিশন, পাঁচজনই অবৈতনিক। কমিশনের চেয়ারম্যান ও একজন সদস্য পূর্ণকালীন। প্রশ্ন হচ্ছে, একজন অবৈতনিক সদস্য কতটা সময় দেবেন, কেন দেবেন। তিনি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, তাঁরও নানা কাজ ও ব্যস্ততা আছে। বাজেট বরাদ্দ ও আর্থিক স্বাধীনতা না থাকায় একজন সদস্যকে সম্মানজনক সম্মানী দেওয়াটা সম্ভব হয় না। তাই প্রয়োজনে কমিশন ছোট করেও যাঁরা থাকবেন, সবাইকে পূর্ণকালীন করা উচিত। এ ছাড়া কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে সাত সদস্যের যে বাছাই কমিটি আছে, সেটি পুরোপুরি সরকারনিয়ন্ত্রিত। সেখানে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বাড়াতে হবে।

প্রশ্ন :

আর কী কী সীমাবদ্ধতা আছে বলে আপনার মনে হয়েছে?

মিজানুর রহমান: মানবাধিকার কমিশনের বাজেট আসে আইন মন্ত্রণালয় থেকে। তাহলে প্রশাসনিক স্বাধীনতা থাকবে কীভাবে? দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সচিবালয় আছে, কিন্তু কমিশনকে সব কাজ করতে হয় আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। আবার আইন কার্যকর হলেও বিধি না থাকায় সব কাজ অস্থায়ী ভিত্তিতে জোড়াতালি বা পছন্দমতো করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন :

ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ওরফে কাজলকে নিয়ে যা হচ্ছে, সেখানে মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা কতটুকু? এ ক্ষেত্রে কমিশন কি হাইকোর্টে যেতে পারে না?

মিজানুর রহমান: শফিকুল ইসলামের মতো ঘটনায় অবশ্যই হাইকোর্টে যেতাম। সব ঘটনায় যাওয়া যাবে না, কারণ তা সম্ভব নয়। কিন্তু ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ থাকতে হবে। মতপ্রকাশের জন্য শফিকুলের ওপর মামলা, তদন্ত ও বিচারের নামে যে অমানবিক কর্মকাণ্ড চলছে, তা চলতে পারে না। এর আগে লিমন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রের ওপর নির্যাতনের মামলা কমিশনের চেষ্টায় একটা পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। তনু হত্যা মামলায় আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখানে যা ঘটেছে, তা সংবাদ সম্মেলন করে বলে এসেছিলাম। কারণ আমরা জানতাম, তেমন কিছু করা যাবে না। এ নিয়ে নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে। আমরা সাজা বা শাস্তি পর্যায়ে না যেতে পারলেও কথা বলেছি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন :

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কি চলতেই থাকবে? এখানে কমিশন কী ভূমিকা রাখতে পারে?

মিজানুর রহমান: কোনো সভ্য সমাজে বিচারবহির্ভূত হত্যা চলতে পারে না। কমিশনের সব বার্ষিক প্রতিবেদনে আমরা এ ধরনের হত্যা বন্ধের কথা বলেছি এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিচার বিভাগকে হেয় করে এবং অপ্রয়োজনীয় করে তোলে। আমাদের এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করে, এগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যা নয়, ‘বন্দুকযুদ্ধ’। আত্মরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি ছোড়ে। এখানে মুখে আত্মরক্ষার কথা বললে হবে না। এটা বলতে পারে বিচার বিভাগ। আদালত যদি বলেন আত্মরক্ষার্থে গুলি করা হয়েছে তাহলে তা গ্রহণযোগ্য, নইলে তা বিচারবহির্ভূত হত্যা।

একটি লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা হত্যার পর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। মনে হয় আমরা সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছি, রাষ্ট্রেরও উপলব্ধি এসেছে। যে কৌশলে সন্ত্রাস ও মাদক বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছিল, সেটি সঠিক পথ নয়। এতে সমাধানের চেয়ে সমস্যা বেশি সৃষ্টি হয়েছে। যে ওসি একই কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছিলেন, তাঁকে ঠিক একই কাজের জন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।

প্রশ্ন :

সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যায়ন হচ্ছে এ প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাস কমে এসেছে এবং এটার প্রয়োজন যেন অনিবার্য। আপনার কী মত?

মিজানুর রহমান: এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়ালে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়। এটা রাষ্ট্র বা সার্বিক শৃঙ্খলার জন্য মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। রক্ষককে রক্ষার ভূমিকায় থাকতে হবে। তাকে ভক্ষকের ভূমিকায় নেওয়া হলে মানুষ তা মেনে নেবে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে এত ক্রসফায়ার হলো, কত মানুষ মারা গেল, কিন্তু তাতে সন্ত্রাস, মাদক বা মানব পাচার কি কমেছে?

প্রশ্ন :

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেই তো বিচারবহির্ভূত হত্যায় জড়িয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

মিজানুর রহমান: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মপদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে এসব কাজের সঙ্গে জড়িয়েছেন, তাঁদের প্রশিক্ষণ, ওরিয়েন্টেশন দরকার। যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনের মধ্যে থাকার শিক্ষাটা জরুরি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি, মানবতাবিরোধী অপরাধীসহ যাদের বিচার কোনো দিন হবে না বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল, তাদেরও কিন্তু বিচার হয়েছে। গত এক বছরে এমন কিছু অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে, যা রীতিমতো বিস্ময়কর। অর্থাৎ দেশে অনেক বড় বড় অপরাধের বিচার কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। তাই বিচারের বাইরে যাওয়াটা বন্ধ করতে হবে।

প্রশ্ন :

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা ভিন্নমত প্রকাশের কী অবস্থা এখন?

মিজানুর রহমান: সন্দেহ নেই যে ভিন্নমত প্রকাশের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে গণতন্ত্র, সুশাসন, কার্যকর বিরোধী দলসহ অনেক কিছু থাকা প্রয়োজন। এসবের বড় ঘাটতি তো হয়েই গেছে। এ পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক অনেক বেশি।

প্রশ্ন :

কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি কি নিজেকে সফল মনে করেন? আপনি কাজের চেয়ে বেশি কথা বলেছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ, আপনার মন্তব্য কী?

মিজানুর রহমান: সফলতা বা ব্যর্থতার মূল্যায়ন করবে মানুষ, গণমাধ্যম বা অন্যরা। কিন্তু আমি বলব, নানা রকম সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ছুটে গেছি। আমি কমিশনের আইনি ক্ষমতা ও এখতিয়ার সম্পর্কে ভালোভাবেই জানতাম। ত্রুটিপূর্ণ কমিশন, একটি দুর্বল আইন, যা কার্যকর করার বিধি নেই, কমিশনের নিজস্ব সচিবালয় বা বাজেট নেই, প্রয়োজনীয় জনবল নেই—এতসব সীমাবদ্ধতার মধ্যে একটি কমিশন কীভাবে চলতে পারে? তাই নানা রকম কাজ, গবেষণা, প্রতিবেদন, বক্তৃতা-বিবৃতিসহ নানা উপায়ে কমিশনকে সক্রিয় রাখার চেষ্টা করেছি। এতে মানুষের কাছে কমিশন অনেকটাই পৌঁছে গেছে, এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম বড় ধরনের সহায়তা করেছে।

প্রশ্ন :

আপনাকে তো ‘ওয়ান ম্যান শো’ কমিশন বলতেন কেউ কেউ। এমন ধারণা কেন হয়েছিল?

মিজানুর রহমান: আসলে আমি তো আমার কাজ সম্পর্কে জানতাম না। যে কমিশনের আইন দুর্বল, বিধি নেই, জনবল নামকাওয়াস্তে, মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীলতা—সেটি কীভাবে চালাব, তা জানা ছিল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ, আইনের বার্তা হচ্ছে তাকে এক অর্থে কিছু বলা যাবে না। সরাসরি তদন্ত করা যাবে না। তাই কৌশলে প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধান কথাটি চালু করেছিলাম। তা–ও একটি থানার ওসির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্যানুসন্ধান করতে গেলে ওই জেলার পুলিশ সুপার বললেন, কমিশন এটা করতে পারে না। আসলেও কিন্তু তা পারেও না, কিন্তু কৌশলে এমন অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছি। মানবাধিকার রক্ষায় যা কিছু করেছি বা করার চেষ্টা করেছি, তা বলতে পারেন মুখের জোরে করেছি। ঘটনাস্থলে ছুটে গেছি, প্রকাশ্যে কথা বলেছি। এসবের ফলে অপরাধী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন :

আপনার কি মনে হয় কমিশন তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছে? কমিশন কেমন যেন চুপচাপ। কারণটা কী?

মিজানুর রহমান: আমি ওই কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলাম। তাই আমাকে এটি মূল্যায়নের কঠিন দায়িত্ব দেবেন না প্লিজ। সচেতন নাগরিক, গণমাধ্যম বা ভুক্তভোগীরা এর মূল্যায়ন করছে বা করবে। তবে এটুকু বলতে পারি, কমিশনের ক্ষমতা কম হলেও দেশের মানুষ এখন প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে জানে। এখন কক্সবাজার, রাঙামাটি, খুলনা ও গোপালগঞ্জে কমিশনের শাখা আছে, আমি মনে করি প্রতিটি বিভাগে এর কার্যালয় হওয়া উচিত।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

মিজানুর রহমান: প্রথম আলোকে ধন্যবাদ।