প্রথম আলো: আইনের খসড়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগের দুই কমিশন গঠিত হয়েছিল সার্চ কমিটির মাধ্যমে। অন্য বিষয়ে গঠিত দুটি সার্চ কমিটিতে আপনিও ছিলেন। আগের থেকে নতুন আইনে পরিবর্তন কী হলো?

এম এ মতিন: আমি প্রথম দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগের সার্চ কমিটিতে সদস্য এবং পরবর্তী মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটিতে চেয়ারম্যান ছিলাম। নতুন আইনে আগের সার্চ কমিটির একই ফর্মুলা রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় চেয়ারম্যান বা সদস্যদের করার তেমন কিছুই থাকে না। কয়েকটি খামের মধ্যে ক্যাবিনেট ডিভিশন দ্বারা সরকারপছন্দ কিছু ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্ত ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর বাইরে যাচাই-বাছাই করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না। সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ও অন্যান্য শাসনতান্ত্রিক পদে আসীন ব্যক্তিরা কমিটির সদস্য হয়ে বিনা কারণে বদনামের অংশীদার হন। এটা কাম্য নয়। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে বিচার বিভাগকে জড়ানো অভিপ্রেত নয়।

প্রথম আলো: নাগরিক সমাজ আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি করেছিল। কিন্তু অভিযোগ আছে, তাঁরা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি। এখন সরকার বলার সুযোগ পেয়েছে, আমরা তো জনগণের দাবি মেনে আইন করেছি।

এম এ মতিন: অভিযোগটি সত্য নয়। আমার জানামতে, নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন দিনের পর দিন এ আইন সমন্ধে গবেষণা করেছে এবং বিভিন্ন কর্মশালার মাধ্যমে বিশিষ্টজনদের মতামত ও বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত নির্বাচন কমিশন সমন্ধীয় আইনকানুন বিবেচনা করার পর একটি সুনির্দিষ্ট আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছিল। বলা হয়েছিল এ আইন যেহেতু শাসনতন্ত্রের ১১৮ অনুচ্ছেদের নির্দেশমতো করা হবে, তাই এ আইন করার আগে ব্যাপকভাবে আলোচনা ও গবেষণার মাধ্যমে অনেক সময় নিয়ে করতে হবে। এটা হবে একটা স্থায়ী বিধান। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়ে গেল। জনগণ জানলই না, কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের অনুপ্রেরণায় পুরোনো মদ নতুন গ্লাসে পরিবেশন করা হচ্ছে।

প্রথম আলো: বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইন করে নির্বাচন কমিশন করলেই কি নির্বাচনী সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?

এম এ মতিন: অবশ্যই না। সমস্যা হচ্ছে আস্থার। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন কী ধরনের সরকারের অধীনে কাজ করবে? সে সরকারের ওপর মানুষের আস্থা আছে কি না।

প্রথম আলো: যদি না হয়, আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী?

এম এ মতিন: আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, নির্বাচনকালে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় সরকার থাকবে। প্রতিটি দলের মতামতের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নাগরিক সমাজ তথা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদকে গুরুত্বসহকারে আস্থায় নিতে হবে। সরকারি দল ও বিরোধী দলের মিলিত ঐকমত্য জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলবে। মনোনয়ন–বাণিজ্য বন্ধ করে প্রকৃত রাজনীতিবিদ ও কর্মীদের শাসনকার্যে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিতে হবে।

প্রথম আলো: সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা ছিল। ১৯৯১ সালে সরকার ও বিরোধী দল ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদীয় ব্যবস্থা কায়েম করল, যাতে রাষ্ট্রপতির প্রায় সব ক্ষমতাই প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। অনেক রাজনীতিক একে প্রধানমন্ত্রীর একনায়কত্ব বলে অভিহিত করেছেন। আপনার অভিমত জানতে চাইছি।

এম এ মতিন: ১৯৯১ সালের জাতীয় ঐকমত্য আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি উজ্জ্বল মাইলফলক। তবে প্রধানমন্ত্রীকে সব ক্ষমতার মালিক করে দেওয়ার ও রাষ্ট্রপতিকে শুধু ‘কবর জিয়ারতের’ দায়িত্ব দেওয়া উচিত হয়নি। সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আসা জাতীয় দায়িত্ব। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর আমেরিকার কংগ্রেস তাদের ওপর আরোপিত অনেক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে নিজেরাই তুলে দিয়েছিল। যার ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্সিকে সেখানে ইম্পিরিয়াল প্রেসিডেন্সি বলা হচ্ছে। সময়ের দাবি—ক্ষমতার ভারসাম্য।

প্রথম আলো: বিরোধী দলের অভিযোগ দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে বলেই সর্বমহল মনে করে। ইভিএমের ত্রুটি ছাড়া বড় কোনো অভিযোগ আসেনি। তাহলে কি দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করেন?

এম এ মতিন: এটি একটি স্থানীয় নির্বাচন। সরকার ইচ্ছা করেছে নির্বাচন হোক, তাই হয়েছে। সরকারের ইচ্ছার ওপর না রেখে আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

প্রথম আলো: সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। কিন্তু পদাধিকারীরা এই স্বাধীনতা ভোগ করছেন না কেন? একই কথা কি বিচার বিভাগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

এম এ মতিন: অতি মূল্যবান প্রশ্ন। আইনে যা–ই থাকুক না কেন, যতক্ষণ না পদাধিকারীরা নিজেরা স্বাধীনতামনস্ক হবেন, আইন দিয়ে তাকে স্বাধীন করা যাবে না।

প্রথম আলো: রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ। বাংলাদেশে এই তিন স্তম্ভ একাকার হয়ে গেছে বলে অনেকের অভিযোগ আছে। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

এম এ মতিন: আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রচিন্তাবিদ চার্লস লুই দ্য মন্টেস্কুর সেপারেশন অব জুডিশিয়ারি অনুসরণ করা হয়নি। যা করা হয়েছে তা হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউশন অব পাওয়ার। তাই আপাততদৃষ্টে একাকার মনে হচ্ছে। কিন্তু যার যার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তম্ভ স্বাধীন।

প্রথম আলো: আমাদের গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। একে পুনরুদ্ধারের কোনো উপায় কি দেখছেন আপনি?

এম এ মতিন: উপায় হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনীতিকরণ বন্ধ করা। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করার অভয় দেওয়া। দুর্নীতিকে ‘না’ বলা। দেশপ্রেম, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

প্রথম আলো: বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যে রিট হয়েছিল, তার অন্যতম বিচারক ছিলেন আপনি। সেই রিটের রায়ে আপনি বলেছিলেন, কোনো অপরাধের দায়মুক্তি হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন আইনের খসড়ায় আগের দুই সার্চ কমিটির দায়মুক্তির কথা বলা হয়েছে। আপনি এটাকে কীভাবে দেখছেন?

এম এ মতিন: আপনি শাহরিয়ার রশিদ খান বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলার কথা বলছেন। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নম্বর ৫০/১৯৭৫, তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ শাসনতন্ত্রের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে জারি করেছিলেন। ওই মামলায় আমরা বলেছিলাম যে ওই আইনের উদ্দেশ্য ছিল কিছুসংখ্যক হত্যাকারীকে দায়মুক্তি দেওয়া। এটা এমন একটা উদ্দেশ্য, যা ইউএন চার্টার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের দ্বারা স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। আমরা আরও বলেছিলাম, প্রতিটি আইনের একটি দর্শন থাকতে হবে এবং যে আইন নৈতিকতাবিরুদ্ধ, সেটা কোনো আইনই নয়। আমরা আরও বলেছিলাম আইনের ভিত্তিই হচ্ছে সুবিচার। যেহেতু সে রায়টি আপিল বিভাগ কর্তৃক খারিজ হয়ে যায়নি, তাই আমাদের শাসনতন্ত্রের ১১১ অনুচ্ছেদের মর্মমতে এটা ঘোষিত আইন বা ল ডিকলার্ড এবং গোটা জাতির জন্য এটা বাধ্যতামূলক।

প্রস্তাবিত বিলের-৯ নম্বর ধারা নিম্নরূপ—‘হেফাজত—প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগদানের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ইতঃপূর্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি ও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যাবলি এবং উক্ত অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ বৈধ ছিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।’

আপাতদৃষ্টে দেখা যাচ্ছে ৯ নম্বর ধারার মাধ্যমে শুধু সার্চ কমিটির প্রসিডিং এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগকেই সুরক্ষা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনারদের কার্যকলাপের কোনো দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি। তবে এ আইন দ্বারা এমন এক সময়ের কিছু কার্যক্রমকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, যখন বর্তমান আইনের জন্মই হয়নি। এ ধরনের রেট্রোস্পেকটিভ ইফেক্ট দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। সব ধরনের দায়মুক্তি এবং আদালতের ক্ষমতা বিনাশকারী আইন অগ্রহণযোগ্য। এটা আমাদের শাসনতন্ত্রের ঘোষিত আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ধরনের আইন বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্ম দেয়।

প্রথম আলো: নাগরিক সমাজের অভিযোগ ছিল নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। সার্চ কমিটির বিরুদ্ধে নয়। বিশেষ করে তাদের আর্থিক অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে তাঁরা রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনের খসড়ায় সার্চ কমিটি গঠন প্রক্রিয়াকে দায়মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে রক্ষার কৌশল বলে মনে করেন?

এম এ মতিন: আমরা আগেই বলেছি প্রস্তাবিত ‘হেফাজত’ শুধু সার্চ কমিটির প্রসিডিং এবং প্রধান কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, উক্ত ‘হেফাজত’ তাদের কোনো হেফাজত করতে পারবে না। এটা বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে রক্ষার কৌশল বলে মনে করি না। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের ক্ষমতার উৎস হচ্ছে শাসনতন্ত্র। কোনো সাব–অর্ডিনেট ল দ্বারা ইচ্ছা করলেও তা খর্ব বা বিনাশ করা যায় না। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অবশ্যই গুরুতর অভিযোগ। এটা প্রতিকারের দাবি রাখে। বিশেষ করে অভিযোগটি যখন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তাদের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হলে বিষয়টি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠিয়ে অনুসন্ধান করে সুবিচার করা উচিত ছিল। তবে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি।

প্রথম আলো: ভারতের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা অনেক বেশি। তারপরও তারা নির্বাহী বিভাগের ওপর কর্তৃত্ব দেখাতে পারে না কেন? ভারতে টিএন সেশনের মতো কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনার কি আমরা পেয়েছি?

এম এ মতিন: আমাদের শাসনতন্ত্রের সপ্তম ভাগে নির্বাচন কমিশনকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হলে গোটা নির্বাচনকেই স্থগিত বা বাতিল বলে ঘোষণা করতে পারবে তারা। ভারতে যেখানেই অনিয়ম হয়েছিল, টি এন সেশন সেখানে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমাদের এখানে আবু হেনা সাহেব বা এ টি এম শামসুল হুদা কমিশন যথার্থ ভালো নির্বাচন উপহার দিয়েছিল। ব্যক্তির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। তবে মেরুদণ্ডহীন লোককে যত ক্ষমতা দেওয়া হোক, তাতে কোনো কল্যাণই হয় না। প্রয়োজন বাছাই প্রক্রিয়া যেন ন্যায্য হয়। ১৭ কোটি মানুষের দেশে উপযুক্ত লোক পাওয়া যাবে না, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সদিচ্ছা থাকলে সে লোক অবশ্যই পাওয়া যাবে।

প্রথম আলো: স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও নির্বাচনী বিতর্ক থেকে বের হতে পারলাম না। এর জন্য কাকে দায়ী করবেন?

এম এ মতিন: আমরা অনেক কিছুই পারিনি। একটি গ্রহণযোগ্য শাসনব্যবস্থা, জনগণের ভোটে, জনগণের জন্য একটি সরকার, সম্পদের পর্বতপ্রমাণ বৈষম্য দূরীকরণ, আইনের শাসন এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা কি করতে পেরেছি? তবে একটা জাতির ইতিহাসে ৫০ বছর বড় কিছু নয়। আমাদের হতাশার কোনো কারণ নেই। জনগণ চাইলে অবশ্যই আমাদের চলমান হতাশার সব কারণ দূর হয়ে যাবে। যে জাতি একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তারা সে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে পারবে না, এটা চিন্তা করা অবান্তর।

প্রথম আলো: স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি করলেও আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষায় ক্রমেই পিছিয়ে আছি। এ জন্য সাধারণত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করা হয়। কিন্তু বিচার বিভাগের কি কোনো দায় নেই বলে মনে করেন?

এম এ মতিন: আমরা কেউই দায়মুক্ত নই। বিচার বিভাগ শতভাগ সফল তেমনটি বলার দুঃসাহস আমার নেই। তবে অতীতের ভুলভ্রান্তি মনে রেখে আমরাও যে একটি সফল ও সার্থক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারব না, তা ভাবার কারণ নেই। আমাদের স্লোগান হোক—আমরা করব জয়।

প্রথম আলো: আপনাকে ধন্যবাদ।

এম এ মতিন: আপনাকেও ধন্যবাদ।