অধ্যাপক রোহান গুনারত্নে সিঙ্গাপুরে নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) প্রধান। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষক রোহান গুনারত্নে গত ১২ মার্চ ঢাকায় পুলিশপ্রধানদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেছিলেন, ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়েছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস), জেএমবি নয়। বাংলাদেশ পুলিশের তরফে তাৎক্ষণিকভাবে গুনারত্নের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক গুনারত্নে নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করা থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আইএসের আরও হামলা হতে পারে। ঢাকায় ওই সম্মেলনের পরপরই আইএস ইরাকের এক লক্ষ্যবস্তুতে হামলাকারী এক বাংলাদেশি আত্মঘাতী বোমাবাজের ভিডিও প্রকাশ করে। ২০১৭ সালের মার্চে আইএস বাংলাদেশে তিনটি হামলার দায় স্বীকার করেছে। হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রথম আলোর অনুরোধে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো প্রশ্নের লিখিত উত্তর দিয়েছেন অধ্যাপক রোহান গুনারত্নে।
প্রথম আলো: ইসলামি মৌলবাদ এ দেশে নতুন কিছু নয়। তা সত্ত্বেও যেভাবে হোলি আর্টিজানে হামলা হলো, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে। আমাদের দেশে এমন মানুষ আছে, তা জেনে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেছি। তো হোলি আর্টিজানে হামলার আগের ও পরের বাংলাদেশকে আপনি কীভাবে দেখেন?

রোহান গুনারত্নে: হোলি আর্টিজান বেকারিতে আইএসের হামলা বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে এক ক্রান্তিলগ্ন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মাত্রা, ব্যাপকতা ও তীব্রতার দিক দিয়ে এই হামলা বাংলাদেশে সংঘটিত আগের যেকোনো হামলার চেয়ে ভিন্ন। আগের সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো, অর্থাৎ হুজি ও জেএমবি আইএসের কাছে শিশুর মতো। আইএসের বিরুদ্ধে লড়তে হলে সরকারকে ভিন্নভাবে পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
যদিও এই হামলায় বাংলাদেশের জনগণ বিস্মিত হয়েছে এবং সরকার অপ্রস্তুত ছিল, আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সম্প্রদায় আইএসের হুমকি সম্পর্কে অবগত ছিল। বিশ্বের খ্যাতনামা গোয়েন্দা সংস্থা ও বাংলাদেশ জানত, এই দেশে আইএস কাঠামো নির্মাণ করছে। হামলার এক বছর আগে মার্কিন, ব্রিটিশ, অস্ট্রেলীয় ও কানাডীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানায়, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক ও আইএসের নেতা তামিম চৌধুরী বাংলাদেশে ঢুকেছেন। ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক কেন্দ্রীয় আইএসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি বাংলাদেশে গা ঢাকা দেন। বাংলাদেশের কিছু গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক নেতারা এ ব্যাপারে দ্বিধান্বিত ছিলেন।
১ জুলাইয়ের হামলার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদের হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। হামলার পর আইএসের আলামত, আখ্যান ও হামলার ধরন দেখে সারা পৃথিবীর কাছেই ব্যাপারটা দৃশ্যমান হলো যে এটি আইএস করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার তা অস্বীকার করে যেতে থাকে।
গোয়েন্দা ও পুলিশ বাহিনী জানত, আইএস বাংলাদেশে বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে, তা সত্ত্বেও রাজনীতিকেরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। এসব সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জনগণ জানত, আইএস বাংলাদেশের মাটিতে বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। হোলি আর্টিজানে হামলার আগে আইএস আরও কিছু হামলা করলেও বাংলাদেশি নেতারা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেননি। দূরদৃষ্টি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত। এমনকি হামলা প্রতিহতও করা সম্ভব হতো। বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে হোলি আর্টিজানের হামলা। ঘটনার পরপর বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ মহল সরকারি সংস্থাগুলোকে আইএস দমন, কোণঠাসা ও নিশ্চিহ্ন করার নির্দেশ দেয়। পরে অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুমকি মোকাবিলায় মাঠে কর্মরত বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রথম আলো: আইএস হোলি আর্টিজান হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের অন্যান্য হামলার সঙ্গে এই হামলার মিলও আছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এটা স্বীকার করেনি। এ বছরের শুরুর দিকে ঢাকায় পুলিশপ্রধানদের সম্মেলনে আপনি বলেছিলেন, এটি আইএসের কাজ। আইএস সরাসরি এই হামলা করেছে, তার সম্ভাবনা কতটা? নাকি আইএসের আদর্শে উদ্বুদ্ধ ‘দেশে গড়ে ওঠা’ জঙ্গিরা এই হামলা করেছে?
রোহান গুনারত্নে: বাংলাদেশ সরকারের বিশ্লেষণ হচ্ছে, আইএসের জঙ্গিরা ইরাক ও সিরিয়া থেকে এসে এই হামলা চালায়নি। এখানে আইএস নেই—এ কথা বলার জন্য সরকার এই অজুহাত দেয়। এর কারণ হচ্ছে, ঢাকা জানে না, ইরাক ও সিরিয়ার বাইরে আইএস কীভাবে কাজ করে। বিভিন্ন দেশে ক্রিয়াশীল বিদ্রোহী, সন্ত্রাসী, চরমপন্থীদের সদস্যপদ দেয় আইএস। এরপর তাদের নিজেদের আদর্শ ও রীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। তামিমের সঙ্গে আইএসের বৈদেশিক শাখার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তিনি জেএমবিকে আইএসের সদস্যভুক্ত করে নেন। কয়েক শ জেমবি সদস্য আইএসের আদর্শ গ্রহণ করে হোলি আর্টিজানে হামলার আগে খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ও বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা করে। তারা আইএসের স্টাইলে হামলা চালায় আর আইএসের সংবাদ সংস্থা ‘আমাক’ দাবি করে, এই হামলা তারা চালিয়েছে। বাংলাদেশি নেতারা যদি এই দেশে আইএস নেই এই দাবিতে অটল না থেকে এই হুমকি গুরুত্বের সঙ্গে নিতেন বা প্রকাশ্যে আইএস বলে স্বীকার করে সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা দিতেন, তাহলে হোলি আর্টিজান বেকারির হামলার ঘটনা হয়তো এড়ানো যেত।
প্রথম আলো: ঢাকা সম্মেলনে আপনি এও বলেছিলেন, বাংলাদেশি নেতারা এই হামলা সম্পর্কে সত্য বলেননি। বাংলাদেশ সরকার কেন এই অবস্থান নিল বলে আপনি মনে করেন?
রোহান গুনারত্নে: বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা রাজনৈতিক নেতাদের ভুল পরামর্শ দিয়েছিলেন যে সত্য স্বীকার করা হলে তা বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য হানিকর হবে। নেতারা চারটি কারণে স্বীকার করতে চাননি যে বাংলাদেশের মাটিতে আইএসের উপস্থিতি আছে। প্রথমত, তাঁদের ভয় ছিল, বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করবে। এতে চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত, তাঁরা ভেবেছেন, আইএসের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হলে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাহত হবে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশি নেতৃত্বের উদ্বেগ ছিল, দাতা সম্প্রদায় দেশ ছেড়ে চলে যাবে। চতুর্থত, নেতারা বিশ্বাস করতেন, দেশটির পর্যটন খাত বাধাগ্রস্ত হবে।
এই হামলা থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে শিক্ষাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিতে পারে তা হলো, সরকারের কখনো সত্য অস্বীকার করা উচিত নয়। সমস্যা চিহ্নিত করা গেলে সমাধানের অর্ধেক পাওয়া যায়। শত্রুর প্রকৃত রূপ চিহ্নিত না হওয়ায় এই হুমকি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষমেশ হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা হয়। অথচ এটি এড়ানো সম্ভব ছিল। উটপাখির মতো মাটিতে মুখ গুঁজে থাকা এবং অস্বীকারের মনোভাব থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। জনগণই মানুষের চোখ আর কান, আর সরকারের সব সময়ই সত্য বলা উচিত। প্রকৃত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জনসমর্থন আদায়ে তাদের সব সময় সত্য বলা উচিত।
প্রথম আলো: আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশ সরকারের এই অবস্থান কৌশলগত? বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাস মোকাবিলায় এটা কতটা কার্যকর?
রোহান গুনারত্নে: এর মধ্যে কৌশলগত ব্যাপার নেই। এ ধরনের আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের পশ্চাৎপদ দেশগুলো করে থাকে, যারা ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাস করে। এটা অযোগ্যতা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির পরিচায়ক। বোঝা যায়, জাতীয় নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল আছে। একই সঙ্গে তা অভ্যন্তরীণ, ভূরাজনৈতিক ও পরাশক্তির রাজনীতিবিষয়ক ভুল ধারণার পরিচায়ক। অধিকাংশ উন্নয়নশীল ও কিছু উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশ ঘটনার পর হুমকি নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকর। এখন আইএসকে মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও নিবৃত্তিমূলক কাজ করতে হবে। অর্থাৎ অন্যদের বাদ দেওয়ার নীতি (এক্সক্লুসিভিজম) ও চরমপন্থী বা উগ্রপন্থী (এক্সিট্রিমিজম) যে নীতির কারণে সন্ত্রাসবাদসহ অন্যান্য ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার সৃষ্টি হচ্ছে, তা মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া এর জন্য হুমকিবিষয়ক অধিকতর বোঝাপড়া ও সর্বস্তরে বুদ্ধিমান নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আছে। আর রাজনৈতিক ও কার্য সম্পাদন পর্যায়ের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ার দরকার আছে।
প্রথম আলো: হোলি আর্টিজানে হামলার পর দেশজুড়ে ইসলামি জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম জোরদার হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জঙ্গিদের আস্তানা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়। গত এক বছরে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওই সব ডেরায় অভিযানে জঙ্গিরা নিহত হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গিনেতারাও আছেন। এই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? এ ধরনের কঠিন পদক্ষেপ ইসলামি চরমপন্থা মোকাবিলায় কতটা কার্যকর?
রোহান গুনারত্নে: বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসিইউ), র্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই ও এসবি মাঠে আইএস মোকাবিলায় বেশ কার্যকর। তাদের প্রশংসা প্রাপ্য, এর সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক সহায়তাও দিতে হবে। তারা জীবন দিয়েছে। তারাই বাংলাদেশের প্রকৃত নায়ক। র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাতে চাই, যিনি মার্চ মাসে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও এই মেধাবী সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তাকে বাঁচানো যায়নি। আমার বন্ধু ও সহকর্মী কর্নেল আজাদ এই হুমকির গুরুত্ব বুঝে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিগত পরিসরে তিনি প্রশাসনের সমালোচনা করতেন; কারণ তারা মানুষকে সত্যটা বলে আইএসবিরোধী লড়াইয়ে তার সমর্থন আদায় করেনি। অনেক মেধাবী কর্মকর্তা এই হুমকি বোঝেন, তাঁদের সমর্থন দিতে হবে।
প্রথম আলো: এখন অনেক জঙ্গি কারাগারে আছে, অনেকেই আবার জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসছে। প্রমাণ আছে, তাদের অনেকেই আবার জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত হয়ে পড়ছে। আমরা বুঝতে পারি, মানবাধিকার বিবেচনায় নিয়ে ও দেশের প্রচলিত আইন মেনে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর সামনে এগোনোর পন্থা কী? আর আমাদের মতো দেশের জন্য ডি-র্যাডিক্যালাইজেশন (চরমপন্থা দূরীকরণ) কর্মসূচি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
রোহান গুনারত্নে: সরকার যদি সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের পুনর্বাসন না করে, তাহলে তিনটি ব্যাপার ঘটতে পারে। প্রথম, তারা বেরিয়ে গিয়ে আক্রমণ করতে পারে বা তাতে সমর্থন জোগাতে পারে; দ্বিতীয়ত, তারা অন্যদের মধ্যে এই চিন্তা ছড়িয়ে দিতে পারে; তৃতীয়ত, তারা সন্ত্রাসীদের ভাবমূর্তি নির্মাণে কাজ করতে পারে।
প্রথম আলো: আইএস সিরিয়া ও ইরাকের ওপর দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করেন, আইএস-প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে?
রোহান গুনারত্নে: সিরিয়া-ইরাক থেকে প্রত্যাগত আইএস যোদ্ধারা বাংলাদেশের জন্য হুমকি নয়, বরং দেশের ভেতরে যারা আইএসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে আকৃষ্ট হচ্ছে, তারাই এখানে হুমকি।
প্রথম আলো: সাধারণভাবে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাসবাদ কোন পর্যায়ে থাকতে পারে?
রোহান গুনারত্নে: বাংলাদেশসহ বাকি পৃথিবীর জন্য আইএস আশু ও গুরুতর হুমকি। জনগণের সমর্থন নিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সরকারগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে। মনোভঙ্গিটি এমন হওয়া উচিত যে এটি শুধু সরকারের নয়, সমাজের ব্যাপার। সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন কর্মসূচি ছাড়া বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে ভালো করেছে। অন্যদের বাদ দেওয়া বা বর্জনবাদী নীতি ও চরমপন্থা বা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার আরও ভালো করার সুযোগ আছে।