>আনিসুজ্জামান এ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ২০১৮ সালে, তাঁর বাড়িতে বসে। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন জাহীদ রেজা নূর

প্রথম আলো: আপনার লেখায় মা-বাবার কথা আছে। সে বিষয়ে আরেকটু জানতে চাই।

আনিসুজ্জামান: আমার ৮০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে যে অভিভাষণ দিয়েছিলাম, তাতে বলেছিলাম যে আমি আব্বার কাছ থেকে সময়ানুবর্তিতা শিখেছি, মায়ের কাছ থেকে সত্যপ্রিয়তা। আব্বা যে সময়ানুবর্তী হতে বলেছিলেন, তা নয়। কিন্তু ওঁর নিজের চলাফেরার মধ্যে এমন কাজ করার অভ্যাস ছিল যে সেটা আমাদের সামনে একটা দৃষ্টান্ত ছিল। ওঁর চলাফেরা দেখলে আমরা বুঝতে পারতাম, কটা বাজে। ফলে আমরাও চেষ্টা করেছি সময়মতো কাজ করতে। যত দিন আব্বার সঙ্গে থেকেছি, তত দিন দুপুর আর রাতের খাওয়া ওই নিয়ম বেঁধেই করেছি। মায়ের সত্যপ্রিয়তা কিছুটা তাঁর জীবনের উদাহরণ, কিছুটা তাঁর উপদেশও। তিনি চাইতেন, আমরা সব সময় সত্য কথা বলি। আমরা নিজেরা কোনো দোষ করে ফেললে সেটাও যেন স্বীকার করি। এ দিক থেকে বলব, মা আমাদের কাছে একটা উদাহরণ ছিলেন। অল্প বয়সে আব্বা আর মাকে যে জীবনযাপনের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে, সেটা আব্বার কাছ থেকে কখনো শুনিনি। তবে মায়ের কাছে একাধিকবার শুনেছি। তাতেও উপলব্ধি করা যায়, মায়ের প্রবণতা কেমন ছিল। ওঁর নামে ‘হাতেম তাঈ’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। অনেক দিন পর্যন্ত আমার ধারণা ছিল, ওটা মায়েরই লেখা। মা-ই পরে বলেছিলেন, ওটা কবি বেনজীর আহমদ লিখে দিয়েছিলেন। তিনি আব্বার চিকিৎসায় আরোগ্যলাভ করেছিলেন। তাই কৃতজ্ঞতাবশত মায়ের নামে বইটি লিখে প্রকাশ করেন। এসব মায়ের কাছেই শোনা। তাতে বোঝা যায়, মা সত্য বলতে ভালোবাসতেন। আমরাও মোটামুটি মায়ের কাছে বা সংসারে সত্য কথাই বলার চেষ্টা করেছি। তবে কখনো কখনো যে অসত্য কথা বলিনি, তা তো নয়।

প্রথম আলো: আপনার শৈশব তো কেটেছে কলকাতায়। বেড়ে উঠেছেন সেখানে। এখানে এলেন কবে?

আনিসুজ্জামান: আমার জন্ম কলকাতায়, ১৯৩৭ সালে। কলকাতা ছেড়েছি ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে, দেশভাগের দুই মাস পর, অক্টোবরের ১৫ তারিখে। মা-ই জোর করেছিলেন পাকিস্তানে আসার জন্য। আব্বার ইচ্ছে ছিল না। কারণ, কলকাতা তাঁর নিজের শহর। ছেড়ে আসতে তাঁর কষ্ট হতো। শেষে মায়ের পীড়াপীড়িতে বাবা স্থির করলেন, কলকাতার কাছে খুলনায় যাবেন। পাকিস্তানে আসাও হলো, আবার কলকাতা থেকে বেশি দূরেও যাওয়া হলো না। আবার পাকিস্তান যদি না টেকে, তাহলে কলকাতায় ফিরে আসাও সহজ হবে। খুলনায় আমরা ’৪৭ সালের অক্টোবর থেকে ’৪৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলাম। তারপর আমার অন্য দুই বোন ঢাকায় থাকায় তারা চাপাচাপি করল, আমরা যেন ঢাকায় এসে থাকি। ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরে আমরা ঢাকায় এলাম।

default-image

প্রথম আলো: আপনার লেখাতে দেখেছিলাম, ভাষা আন্দোলনে আপনার মায়ের ঘটনাটা। ঘটনাটা কি আবার বলবেন?

আনিসুজ্জামান: পল্টনের জনসভায় ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমউদ্দিন ঘোষণা করলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। ৩০ বা ৩১ জানুয়ারি বার লাইব্রেরি হলে সর্বদলীয় সভায় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলো ছাত্রনেতা কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে। বাড়ির কাছে ছিল বলে আমি যুবলীগ অফিসে যাতায়াত করতাম। তত দিনে অসাম্প্রদায়িকতার প্রতি আমার ঝোঁক বেড়েছে, গণতন্ত্রের কথাও ভাবি। যুবলীগে ভিড়ে গেলাম। অলি আহাদ ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। ডিসেম্বর মাসে তিনি আমাকে বললেন, আপনি যুবলীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। নিলাম। দপ্তর সম্পাদক মানে জেলা কমিটিগুলোর সঙ্গে চিঠিপত্র আদান–প্রদান করা, সভার কার্যবিবরণী তৈরি করা—এই সব। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠিত হলে তাঁরা যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ তোয়াহাকে ভার দিয়েছিলেন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে একটা পুস্তিকা লিখে দিতে। তোয়াহা সাহেব ব্যস্ততার জন্য সময় পাচ্ছিলেন না। তখন অলি আহাদ আমাকে বললেন, আপনি লেখেন। আমি তখন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র, কী-ই বা জানি? বললাম, আমি কী লিখব? তিনি বললেন, আপনি যেভাবে পারেন লেখেন, আমি দেখে দেব। আমি জানতাম, পৃথিবীর একাধিক দেশে একাধিক রাষ্ট্রভাষা আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাই রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। পূর্ব বাংলার মানুষ টেলিগ্রাফ ফরমে, মানিঅর্ডার ফরমে, ডাকটিকিটে, কারেন্সি নোটে বাংলা না দেখলে বুঝতে অসুবিধা হয়। এসব কথা মিলিয়ে লিখলাম। পাণ্ডুলিপি অলি আহাদ দেখে দিলেন। খুব একটা বদলাননি। যুবলীগ থেকে ‘ভাষা আন্দোলন: কী ও কেন’ নাম দিয়ে সেটা বের হলো। সেটাই ১৯৫২ সালে প্রকাশিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সম্পর্কে প্রথম পুস্তিকা। ওইটুকুই আমার গৌরব যে প্রথম পুস্তিকাটা আমি লিখেছিলাম। পরে যখন তোয়াহা সাহেব লিখতে পারলেন না, তখন সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ বদরুদ্দীন উমরকে দায়িত্ব দিলেন লেখার। উনি লিখেছিলেন। ওটা আমার চেয়ে বড় হয়েছিল, ভালোও হয়েছিল। তারপর আমরা ৪ ফেব্রুয়ারি, ১১ ফেব্রুয়ারি, প্রতিবাদ দিবস, পতাকা দিবস এসব করলাম।
আমি জগন্নাথ কলেজে পড়তাম, তার পাশে যেসব স্কুল-পোগোজ, সেন্ট গ্রেগরিজ, ইস্টবেঙ্গল ইনস্টিটিউশন, জুবিলী স্কুল—এগুলোতে ধর্মঘট করার ভার আমাদের ওপর পড়ল। আমরা যাই, ছেলেদের বলি, পুলিশ দেখলে পালিয়ে আসি—এ রকম।
নারায়ণগঞ্জ থেকে টঙ্গী পর্যন্ত আসা-যাওয়া করে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের জন্য চাঁদা তুলি টিনে। আমি জগন্নাথ কলেজে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আমরা টের পেলাম, পরদিন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরদিন কর্মসূচি কী হবে, তা জানতে ৯০ নম্বর নবাবপুরে আওয়ামী লীগ অফিসে গেলাম। সেখানে রাতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদের সভা বসল আবুল হাশিমের সভাপতিত্বে। ১১-৪ ভোটে ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা না ভাঙার সিদ্ধান্ত হলো। এর সঙ্গে আবুল হাশিম সাহেব যোগ করলেন, ছাত্ররা ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ সিদ্ধান্ত না মানলে রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ আপনাআপনি ভেঙে যাবে। মুজিবুল হক, পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হয়েছিলেন, ছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাধারণ সম্পাদক। সভার পর তিনি আর আমি একসঙ্গে হাঁটছি। আমি ওঁকে জিজ্ঞেস করলাম, কী হবে কালকে? তিনি বললেন, ছাত্ররা বোধ হয় এ সিদ্ধান্ত মানবে না। তিনিও ১৪৪ ধারা না ভাঙার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
২০ ফেব্রুয়ারি সভা শেষ করার পর বাসায় গিয়ে দেখি, আমাদের কলেজের বেশ কয়েকজন বন্ধু বসে আছে। আমি ফিরলে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আমি আর সৈয়দ আহমদ হোসেন ওই সভায় উপস্থিত ছিলাম জগন্নাথ কলেজ রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু আমাদের ভোট ছিল না, শুধু শোনার অধিকার ছিল। আমি এসে সবাইকে ব্যাপারটা জানালাম। ওরা শুনে বলল, ‘কাল তাহলে তোমার এখানে আসব। এখান থেকে একসঙ্গে যাব।’ ২১ তারিখে সবাই আমাদের বাড়িতে এল। তখন আমরা ঠাঁটারীবাজারে একটা দোতলা বাড়িতে থাকতাম। ওপরতলায় আমরা, নিচের তলায় আমার ছোট বোন। মানে আমার বোনদের মধ্যে ছোট, কিন্তু আমার বড়। মা আর ছোট বোন মিলে সবাইকে পরোটা আর অমলেট খাইয়ে দিলেন। আমরা বের হওয়ার আগে মা আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, তাহলে কী করতে হবে? আমি বললাম, ধরে নিয়ে গেলে একজন উকিল ধরতে হবে জামিন পাওয়ার জন্য।
সভায় গেলাম। তখনকার হিসেবে বিশাল সভা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। ছাত্র ছাড়াও প্রচুর লোক এসেছে। ১৪৪ ধারা না ভেঙেও বহু মানুষ জমায়েত হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করলেন, কিন্তু ছাত্ররা না না, মানে নো নো বলে তা বাতিল করল। তখন গাজীউল হকের নেতৃত্বে সভা চলছিল, সেখানে প্রস্তাব হলো ১০ জনের এক একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের প্রধান ফটক পেরিয়ে রাস্তায় নামবে এবং তারা গ্রেপ্তার বরণ করবে। এ রকম প্রথম দুটো দলের পরে বোধ হয় মেয়েদের একটা দল গেল। আমি তো তখন কলেজে পড়ি, সবাইকে চিনতাম না, কিন্তু মোহাম্মদ সুলতানকে চিনতাম যুবলীগের কারণে। তিনি ফটকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নাম লিখছিলেন কারা কারা যাচ্ছেন। কিন্তু কিছু পরে অনেকে ধাক্কা দিয়ে ফটক খুলে নেমে গেল রাস্তায় আর তখনই পুলিশ ফটকে লাঠিচার্জ করল। মধুর দোকানে অলি আহাদ বসে ছিলেন, উনি আমাকে ডেকে অফিসের চাবি আমার হাতে দিয়ে বললেন, অফিস থেকে আপনি প্রয়োজনীয় ফাইল সরিয়ে আপনার বাসায় নিয়ে যাবেন। আমি পরে লোক মারফত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব। অর্থাৎ তিনি গোপন আস্তানায় চলে যাবেন, তখনই ঠিক করে ফেলেছেন। লাঠিচার্জের পর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষিপ্ত হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, আমরা, মধুর দোকানের সঙ্গে লোহার রেলিং ছিল, সেটা ভেঙে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গেলাম। সেখান থেকে মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের প্রাঙ্গণে। তখন ছাত্রাবাস বলতে ছিল কতগুলো বেড়ার ব্যারাক। ওখান থেকেও আমরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। তিনটা নাগাদ পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, এর মধ্যে আলাউদ্দিন আল আজাদ আমাকে বললেন, ‘গুলি চলতে পারে।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী করে বুঝলেন?’ বললেন, ‘গুলি চালানোর সময় পুলিশের একটা ইঙ্গিত হচ্ছে লাল পতাকা দিয়ে ইশারা দেওয়া। আমি পুলিশের গাড়িতে একজনের হাত থেকে আরেকজনের হাতে লাল পতাকা দিতে দেখলাম।’ এর অল্প কিছুক্ষণ পরেই গুলি চলল। গুলি ছোড়ার আগে ওই কাঁদানে গ্যাস-ট্যাশ খুব ছোড়া হয়েছিল। সেই কাঁদানে গ্যাসের শেলে একটা ছেলের পায়ে বড় রকমের আঘাত হলো। আমরা তাকে পাঁজাকোলা করে মেডিকেল কলেজের ইমারজেন্সির দিকে নিয়ে গেলাম। নিয়ে গেলাম মানে আমরা মেডিকেলের একদিক থেকে তুলে দিয়েছি, ওদিকে মেডিকেল ছাত্ররা তুলে নিয়ে গেছে। তারপর মেডিকেল কলেজের ২১ নম্বর ব্যারাকে সম্ভবত, একটা মাইক্রোফোন বসিয়ে পুলিশ ও জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তৃতা আরম্ভ হলো। তোয়াহা ভাই, মোহাম্মদ তোয়াহা, তিনি প্রথম বক্তৃতা দিলেন। তোয়াহা সাহেব খুব ভালো ইংরেজি বলতেন, আর তাঁর আঞ্চলিক ভাষা বলতেন। বাংলায় বক্তৃতা করতে খুব একটা অভ্যস্ত ছিলেন না। তিনি বলছিলেন, আপনি লিখে লিখে দেন। লিখে দিতে সময় লাগে, তার মধ্যেই উনি পড়ে ফেলেন। তিনি ইশারা দিয়ে বললেন, আপনি বলেন। আমি কতক্ষণ বললাম। তারপর অনেকে জড়ো হয়ে গেল। একে একে অনেকে বললেন। প্রাদেশিক পরিষদ থেকে যাঁরা বেরিয়ে এলেন, আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ, তিনি বক্তৃতা করলেন।

প্রথম আলো: এটা কি গুলি হওয়ার পর?

আনিসুজ্জামান: হ্যাঁ, গুলি হওয়ার পর। তাঁর সঙ্গে আরও কেউ কেউ ছিলেন। তারপরই শুনলাম যে কারফিউ জারি হয়েছে। কারফিউ জারি হওয়ার পর মনে হলো, এখন তো বাড়ি ফিরতে হবে। কলা ভবন বা মেডিকেল কলেজের পেছনে যে রেললাইন, ওটা ধরে অবসন্ন অবস্থায় বাড়ি ফিরলাম। কলাভবনের পুকুরে আমার গেঞ্জি ভিজিয়ে চোখ–মুখ মুছেছিলাম। সে গেঞ্জি কখন চলে গেছে জানি না। শার্ট, পাজামা পরে সন্ধের পর বাড়ি ফিরলাম। মন খুব খারাপ, কারণ আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার বরণ করেছে। আর দিনের শেষে মনে হচ্ছিল যে আমরা পরাজিত।
পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি আমার মামাতো ভাই কামরুজ্জামানের সাইকেলে চড়ে প্রথমে গেলাম আবদুর রহিম মোক্তারের চেম্বারে, বংশাল রোডে। আবদুর রহিম মোক্তারকে চিনতাম যুবলীগের সংশ্লিষ্টতার কারণে। শুনলাম তিনি কোর্টে চলে গেছেন। কোর্টে গেলাম, ওঁকে খুঁজে পাই না। আসামিদের কখন আনবে, বুঝতে পারছি না। আবার নবাবপুরে মিছিল দেখে গেলাম। বংশালের কাছে সংবাদ অফিসে আক্রমণ হচ্ছে, একটু দেখলাম। লোকের মুখে শুনলাম, মর্নিং নিউজ অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। এই সব পরিস্থিতিতে আমরা আবার বাসায় ফিরে গেলাম।
২৩ তারিখে শহীদ মিনার গড়ে উঠল। সেটা বোধ হয় ২২ তারিখেই গড়া হলো।

প্রথম আলো: ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতভর কাজ হয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করা হয়েছে।

আনিসুজ্জামান: বদরুল আলমের নকশা। মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা মূলত কাজ করেছিল। আর পিয়ারু সরদার, যিনি মেডিকেল কলেজে একটা কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ক করছিলেন, তিনি তাঁর ইট, বালু, সিমেন্টের যে গুদাম, তার চাবি দিয়ে দেন ছাত্রদের এবং বলেন, তোমাদের যা দরকার নিয়ে যাও।
মিনার গড়ে ওঠার পরের দিন মা আব্বাকে বলে বাড়িতে গাড়ি রেখে রিকশায় করে গেলেন ওখানে। মায়ের কাছে আমার মৃত ছোট বোনের গলার হার ছিল, সেটা শহীদ মিনারে রেখে এলেন। পরদিন সকালে তো শহীদ মিনার গুঁড়িয়ে দিল। তখন আমরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। আমাদের সঙ্গে ইমাদুল্লাহ ছিলেন। বলতে লাগলেন, ‘ছবি তুলে রাখো, ছবি তুলে রাখো। ক্যামেরাট্যামেরা খুব কম লোকের কাছেই ছিল, তাই মিনার ভাঙার ছবি তোলা হয়নি।’
২২ তারিখ তো সারা প্রদেশেই ধর্মঘট হলো, গায়েবানা জানাজা হলো সেদিন সকালে, শফিউর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন ২২ তারিখ সকালেই। নবাবপুরে অহিদুল্লা নামে অল্পবয়সী একটা ছেলে মারা গেল। ২৩ তারিখের পর থেকে আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ল। তার মধ্যে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সভা বসল শান্তিনগরের এক বাড়িতে, আমি সেখানে অলি আহাদকে পৌঁছে দিয়ে চলে এলাম। তারপর তাঁরা সেখানে গ্রেপ্তার হয়ে গেলেন। যাঁরা গ্রেপ্তার হননি, যেমন কাজী গোলাম মাহবুব, উনি পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন। সংগ্রাম পরিষদের প্রায় সব নেতা কারারুদ্ধ হয়ে গেলেন।

প্রথম আলো: রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে আসি। জগন্নাথ কলেজে থাকা অবস্থায়ই আপনি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বসবাসের কথা বলেছেন। সেটা আসলে কী ছিল?

আনিসুজ্জামান: আমি জগন্নাথ কলেজে পড়তে যাই, কারণ ঢাকায় দুটি মাত্র কলেজে বাংলা সাহিত্য, তখন বলা হতো স্পেশাল বেঙ্গলি, পড়বার সুযোগ ছিল জগন্নাথ কলেজে, আরেকটা সেন্ট গ্রেগরিজ কলেজে রাতে। জগন্নাথ কলেজে আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন অজিত কুমার গুহ, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। আমাদের পাঠ্যতালিকাভুক্ত রবীন্দ্রনাথের নাটক ‘প্রায়শ্চিত্ত’ পড়াতেন অজিত গুহ আর মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী পড়াতেন লোকসাহিত্য। ওঁরা দুজনেই খুব যত্ন নিয়ে পড়াতেন। অজিত গুহের পড়ানো বিশেষ করে খুব উল্লেখযোগ্য ছিল। মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী যত্ন নিয়ে পড়াতেন এবং আমাদেরকে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বড় সমালোচনার বই পড়তে উৎসাহিত করতেন। সেটাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে রবীন্দ্রনাথের পাঠ। এভাবেই শুরু। ওঁরা যে ধারায় শিখিয়েছিলেন, সেই ধারাটাই বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বজায় রাখি।

প্রথম আলো: বাংলা গদ্য নিয়ে আপনার একটা আক্ষেপ আছে। যে সময়কে বাংলা গদ্যের জন্মকাল বলা হয়, তার অনেক আগে থেকেই বাংলা গদ্য আছে। আপনার আক্ষেপ হলো, সে বিষয়টি নিয়ে আপনি অনেক কাজ করেছেন, কিন্তু সেটা বই করে যেতে পারলেন না। 

আনিসুজ্জামান: আমি সত্তরের দশকে মোটামুটি পুরোনো বাংলা নিয়ে কাজ করি। কলকাতায় ও লন্ডনে। আমি যে সমস্ত উপকরণ পাই, তার ভিত্তিতে ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমিতে পুরোনো বাংলা গদ্য সম্পর্কে দুটো বক্তৃতা দিই। এটি অল্প কিছুদিনের মধ্যে বই হয়ে প্রকাশিত হয়। তাতে আমি বলার চেষ্টা করেছি, আমরা সাধারণত ১৯ শতক থেকে বাংলা গদ্যের বিকাশ লক্ষ করি, কিন্তু ১৬ শতক থেকেই বাংলা বিকশিত হচ্ছে, শুধু কাজের গদ্য নয়, ভাবের গদ্যও। আমার আক্ষেপ হচ্ছে, আমি ওই উপকরণগুলো বই আকারে বের করতে চাই, সেটাই বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে, করা হচ্ছে না। এইবারে শেষ চেষ্টা করব, দেখা যাক কী হয়। যদি পারা যায়, তাহলে সবার সামনে নমুনাগুলো থাকবে—ষোলো, সতেরো, আঠারো শতাব্দীর বাংলা গদ্যের ধরনটা।

প্রথম আলো: আপনার কাছে তো উপকরণগুলো আছে।

আনিসুজ্জামান: হ্যাঁ, উপকরণগুলো আছে। সাজানো, প্রুফ দেখা এবং ভূমিকা লেখা। মনে হচ্ছে এখন আর বড় ভূমিকা লিখতে পারব না। ছোটখাটো একটা ভূমিকা লিখে বের করে দেওয়া। বইয়ের খানিকটা ছাপতেও দিয়েছিলাম অনুপম প্রকাশনীকে, ওরা কম্পোজ করে দিয়েছিল, সেটাও মনে হয় নষ্ট হয়ে গেছে, আবার নতুন করে কম্পোজ করতে হবে।

প্রথম আলো: জাহানারা ইমামের আন্দোলনটা নিয়েও আমার জানার আগ্রহ আছে।

আনিসুজ্জামান: একানব্বই সালে জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক গোলাম আযমকে তাদের আমির বলে ঘোষণা করল (১৯৯১ সালের ২৮ ডিসেম্বর)। গোলাম আযম তখনো পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের ভিসা নিয়ে আছেন (গোলাম আযম ১৯৭৮ সালের ১১ জুলাই অসুস্থ মাকে দেখবার কারণ দেখিয়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশে আসেন)। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বাংলাদেশে থাকছেন। তাঁকে কেন বহিষ্কার করা হচ্ছে না, এ সম্পর্কে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন উঠেছে। এ রকম একজন বাংলাদেশবিরোধী যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানের নাগরিক থেকে বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান করায় স্বভাবতই আমরা খুবই বিচলিত হলাম। কিন্তু উদ্যোগটা নিলেন জাহানারা ইমাম, তাঁর সঙ্গে শাহরিয়ার কবির ছিল, কর্নেল নুরুজ্জামান ছিলেন। এঁরা মিলেই ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করেন এবং ঠিক হয়, একানব্বই সালের (১৯৯২ সালের হবে—জাহীদ) ২৬ মার্চে গণ আদালতে গোলাম আযমের প্রতীকী বিচার হবে।
জাহানারা ইমাম আমাকে অনুরোধ করেন একজন অভিযোগকারী হতে। তো, আমি তাঁকে বলি যে একাত্তর সালে তো আমি দেশে ছিলাম না, তাই একাত্তর সাল নিয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। আমি বরং গোলাম আযম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে বিদেশে বাংলাদেশবিরোধী যে তৎপরতা চালিয়েছেন, আমি তার পরিচয় দিয়ে তাঁকে অভিযুক্ত করব। বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও সৈয়দ শামসুল হকও অভিযোগকারী হন। ওঁদের একজন একাত্তরে গোলাম আযমের কার্যকলাপ সম্পর্কে, আরেকজন বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী তাঁর যা কাজ, সে সম্পর্কে অভিযোগপত্র তৈরি করেন। কিন্তু ওই ভাষা আন্দোলনের মতোই ২৬ মার্চ ১৪৪ ধারা জারি হয়ে গেল। ২৫ মার্চ রাত থেকেই তখন আমরা সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে মিলিত হলাম। ঠিক হলো যে ওখান থেকে হেঁটে আমরা রেসকোর্স ময়দানে আসব। বিচারপ্রক্রিয়া চলবে। নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু গোটা দুই ট্রাক কোত্থেকে এনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকিয়ে দেয়, ওই দুটি ট্রাক দিয়ে আদালতের মঞ্চ করা হয়। লোকজনও অনেক হয়েছে, ওই রকম একটা পরিস্থিতিতে লোকজন খুব একটা শৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল না, কাজেই আমরা যে অভিযোগ করেছিলাম, সেগুলো আর পড়া হয়নি, ধরে নেওয়া হলো যে আদালত অভিযোগ পেয়েছে। তারপর আদালতে যে রায় হয়, তা হলো আদালতে গোলাম আযমের যে অপরাধ তা প্রমাণিত হয়েছে, এবং এই অপরাধ সকল গণতান্ত্রিক দেশে মৃত্যুদণ্ডতুল্য অপরাধ। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। জাহানারা ইমাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বেরিয়ে প্রেসক্লাবে গেলেন এবং আবেগের তাড়নায় উনি বললেন যে গোলাম আযমের ফাঁসি হয়ে গেছে। কাগজে এটাই বের হলো। আসলে ওখানে রায়ে এটাই বলা হয়েছিল যে, গণ আদালত যেহেতু কোনো দণ্ডাদেশ দিতে পারে না, তাই আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি গোলাম আযমের এই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করুক। তারপর, কিছুদিন পরই আমাদের বিরুদ্ধে, জাহানারা ইমাম ও ২৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বেরিয়ে গেল। আবার আমরা সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে মিলিত হলাম এবং হাইকোর্টে জামিন চাইলাম জাস্টিস আনোয়ারুল হকের কোর্টে। বিচারপতি বললেন, ‘আমরা তো আপনাদের চাইনি, আপনারা কেন এসেছেন?’ তখন কামাল হোসেন, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ বললেন, ‘এ মামলার কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে, যে জন্য আমরা এই আদালতে এসেছি।’ তারপরে যুক্তি হলো, আদালত আদেশ দিলেন যে, আদালতের আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের পুলিশ যেন গ্রেপ্তার না করে। পরদিন আবার আমাদের পক্ষে যুক্তি হলো। সরকারের পক্ষে বিচারপতি টি এইচ খান বললেন, ‘এরা তো আপনাকে মানে না, এরা নিজেরাই নিজেদের আদালত ঘোষণা করেছে।’ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার, অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল হক প্রথম দিনই আমাদের আবেদন যখন শুনানি হচ্ছে, তখন আদালতে এসে উপস্থিত হলেন। বিচারপতি আনোয়ারুল হক বললেন, ‘এই যে অ্যাটর্নি জেনারেল এসেছেন, আমি এখন ওঁর কথা শুনব।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন, ‘আমি এই মামলায় সরকারের হয়ে দাঁড়াচ্ছি না। এই মামলা বিচারপতি টি এইচ খান বিশেষ প্রসিকিউটর হিসেবে চালাবেন।’ তার মানে অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের পক্ষে এই মামলা লড়তে অস্বীকার করলেন। দ্বিতীয় দিন শুনানির পর আমাদের জামিন হলো এবং বলা হলো, পরে আমরা নিম্ন আদালতে গিয়ে জামিন চাইব। পরদিন যখন নিম্ন আদালতে গেলাম, আমার ঠিক মনে নেই, মহিলা ছিলেন অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা জজ। আমরা তো উকিলদের বসার আসনে বসেছি। জজ আদালতে প্রবেশ করে কাঠগড়ার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আই ডোন্ট সি দ্য অ্যাকিউজড!’
তখন আমীর–উল ইসলাম, গাজীউল হক এঁরা দাঁড়ালেন, বললেন, সবাই উপস্থিত আছে, আপনি চাইলে এক এক করে নাম ডেকে…না, প্রথমে গাজীউল হক আমাদের সবাইকে উঠতে বললেন। আমরা উঠে দাঁড়ালাম। বললেন যে এরাই অভিযুক্ত। তখন বিচারক বললেন যে, ‘দে আর মাস্ট বি ইন দেয়ার প্লেস।’ মানে কাঠগড়ায়। আমরা সবাই কী করে যাব কাঠগড়ায়? কাঠগড়ায় দু–চারজন আসামি অন্য চুরি–ডাকাতির মামলায় ছিল। এঁরা বললেন, না, কিছুতেই আমরা কাঠগড়ায় দাঁড়াব না। এই নিয়ে আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে জজের তুমুল তর্ক লেগে গেল। উনি বলেন, এদের ডকে যেতে হবে, এরা বলেন, ডকে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। আপনার আদালতে হাজির থাকতে হবে, এটাই হচ্ছে কথা এবং প্রত্যেকে উপস্থিত আছেন। যাই হোক, পরে আমরা জামিন পেলাম। কিন্তু মামলাটা অনেক দিন ধরে চলল। একানব্বই সালে মামলা হয়েছে (১৯৯২ সালে মামলা হয়েছিল—জাহীদ), ছিয়ানব্বই সালের জুন মাসে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ কার্যদিবসে এই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। এর মধ্যে আমার কানাডায় যাওয়ার একটা আমন্ত্রণ ছিল। কানাডিয়ান ভিসা পাওয়া গেল না। যেহেতু আমার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা আছে। ওরা বললেন, আমাদের তো জানার কথা না, তোমাদের বিরুদ্ধে কী মামলা আছে। তখন ভিসা অফিসার আসত দিল্লি থেকে। তিনি বললেন, আমাদের তো জানার কথা না, কিন্তু তোমাদের সরকার আমাদের অ্যাম্বাসিকে জানিয়েছে। এই একটু সামান্য মূল্য দিতে হলো। কিন্তু ওই পাঁচ (চার—জাহীদ) বছর একটু ঝামেলাই হয়েছে, অভিযোগ মাথায় নিয়ে থাকা। 

(এরপর তিনি আমার বাবা সিরাজুদ্দীন হোসেন সম্পর্কে কথা বলেন। কলকাতায় অর্থাভাবে থাকার সময় সিরাজুদ্দীন হোসেনকে নিজ বাড়িতে আনিসুজ্জামানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন তাঁর বাবা ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি যেন দুবেলা ঠিকভাবে খেতে পান, তার নিশ্চয়তাই আসলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর বেকার হোস্টেলে যাওয়া ও আজাদ পত্রিকায় কাজ পাওয়া সাপেক্ষে সে বাড়ি ছাড়েন সিরাজুদ্দীন হোসেন। তিনি কোনো দিন সে উপকারের কথা ভোলেননি। ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন এবং আনিসুজ্জামানের জন্য কিছু করার জন্য ব্যগ্র হয়ে থাকতেন তিনি।
এ কথা শোনার পর আমরা নতুন প্রশ্ন নিয়ে তৈরি হই। কিন্তু বুঝতে পারি, কথা বলতে বলতে আনিসুজ্জামান ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকি। এরই মধ্যে চলে আসে চা এবং খাবার। মাটির মানুষ বেবি কাকি, সিদ্দিকা জামান, নিয়ে এসেছেন খাবারের সম্ভার।)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন