দ্য কনভারসেশন: তাহলে এটাকে আপনি কি নিখাদ অর্থনৈতিক সংকট বলবেন?

নিল ডেভোটা: পুরোপুরি না। যদিও স্ফুলিঙ্গটি অর্থসংকটের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই জগাখিচুড়ি অবস্থার মূলে আছে একটি গভীর জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ববাদ, যা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং স্বল্পমেয়াদিবাদকে উৎসাহিত করেছে। ১৯৫০–এর দশক থেকে শ্রীলঙ্কা সিংহলি বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের কবলে রয়েছে। সিংহলিরা জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ, তামিলরা প্রায় ১৫ শতাংশ এবং মুসলমান ১০ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সিংহলিরা অনেক আগে থেকেই অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। এটি শুধু দেশের সংখ্যালঘুদেরই নয়, এটি শাসনব্যবস্থারও ক্ষতি করেছে। এটি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বিস্তারে সাহায্য করেছে।

রাজাপক্ষে ভাইয়েরা তিন দশকের তামিল বিদ্রোহকে নির্মমভাবে দমন ও পরাজিত করেছিলেন, যা সিংহলি বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীদের শক্তিশালী করেছে। ২০০৯ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর রাজাপক্ষেরা দেশটিতে বড় বড় অবকাঠামো তৈরি করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। এর বদলে দেশটি যা পেয়েছিল, তা হলো অনুৎপাদনশীল কিছু ব্যয়বহুল প্রকল্প। এগুলোর বেশির ভাগের অর্থায়ন করেছে চীন। এসব প্রকল্প দুর্নীতিতে ডুবে ছিল।

দ্য কনভারসেশন: ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার দশা কী হবে?

নিল ডেভোটা: শ্রীলঙ্কার অগ্রসর হওয়ার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এটি ছাড়া আপনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন না। আইএমএফ, এডিবি এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক নেতাদের সহায়তা ছাড়া শ্রীলঙ্কার পক্ষে এই অর্থনৈতিক জগাখিচুড়ি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। এর জন্য ভারত, জাপান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো অংশীদারদের সাহায্যও প্রয়োজন। ফলে শ্রীলঙ্কার এ অবস্থা থেকে বের হতে সময় লাগবে।

শ্রীলঙ্কার বড় আকারের ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন প্রয়োজন। এটি ঘটতে হলে সরকারকে তার দ্বিপক্ষীয় ঋণ পুনর্গঠন করতে হবে। শ্রীলঙ্কাকে চীনের ঋণ শোধ করার জন্য আইএমএফ অর্থ দেবে না। ফলে শ্রীলঙ্কাকে সতর্ক হয়ে পা ফেলতে হবে।

দ্য কনভারসেশন থেকে নেওয়া

●অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন