বিশেষ সাক্ষাৎকার : জয় থ্যায়গারাজন 

বাংলাদেশে বিশ্বমানের আধুনিক ইনসুলিন তৈরি হবে

জয় থ্যায়গারাজন বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি নভো নরডিস্কের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ডেনমার্কের প্রযুক্তিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি এসকেএফ উৎপাদন শেষে বাজারে আনতে যাচ্ছে আধুনিক ইনসুলিন। এর উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশে আসেন জয় থ্যায়গারাজন। সফরের এক ফাঁকে তিনি আধুনিক ইনসুলিন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাংলাদেশের সক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন প্রথম আলোর সঙ্গে। ২৮ এপ্রিল তাঁর সাক্ষাৎকার নেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল

প্রথম আলো:

দেশে নতুন ইনসুলিন উদ্বোধনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ বা ‘ব্রাভো বাংলাদেশ’। স্থানীয় উৎপাদনের এই মাইলফলক আপনার কাছে ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য কী অর্থ বহন করে?

জয় থ্যায়গারাজন: ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ হচ্ছে দৃঢ় সংকল্প, উদ্ভাবন ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিশ্বমানের মাইলফলক অর্জনে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে উদ্​যাপন করা। আমার কাছে এর অর্থ হলো প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে বিশ্বমানের আধুনিক ইনসুলিন। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সেই ইনসুলিন রোগী ও চিকিৎসকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। ইনসুলিন একটি জটিল বায়োলজিক পণ্য এবং এটি তৈরিতে উন্নত নির্ভুলতা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তাই এটি কেবল উৎপাদনের মাইলফলক নয়, বরং এটি সক্ষমতার মাইলফলকও বটে।

বাংলাদেশে ২০১২ সালে প্রথম হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল তৈরি শুরু হয় এবং সারা দেশের মানুষের কাছে তা পৌঁছে যায়। এটি করেছিল এসকেএফ। বর্তমানে বাংলাদেশে চার লাখ রোগী নভো নরডিস্কের হিউম্যান ইনসুলিন থেকে উপকৃত হচ্ছেন। এ আস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রথমবারের মতো রোগীরা এসকেএফ উৎপাদিত অরিজিনেটর আধুনিক ইনসুলিন পাবেন, যাতে ডেনমার্ক ও নভো নরডিস্কের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রথম আলো:

ওষুধশিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রায়ই জটিল এবং উচ্চ নিয়ন্ত্রিত হয়। কোন কারণগুলো নভো নরডিস্ককে বাংলাদেশে এই উন্নত ইনসুলিন উৎপাদন প্রযুক্তি আনতে উৎসাহিত করেছে?

জয় থ্যায়গারাজন: বাংলাদেশ বেশ কিছু কারণে অনন্য বা অন্যদের থেকে আলাদা। এক. রোগীদের অপূরণীয় চাহিদা। বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন এবং এই সংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে স্থানীয় সক্ষমতা জরুরি হয়ে পড়েছে। দুই. নির্ভরযোগ্য অংশীদারত্ব: রোগীদের কাছে হিউম্যান ইনসুলিন সহজপ্রাপ্য করার জন্য নভো নরডিস্ক, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস এবং জাতীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১২ সাল থেকে একসঙ্গে কাজ করছে। তিন. সরকারি সমর্থন: সরকারের সহযোগিতা ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের স্থানীয় উৎপাদন সম্ভব হতো না। ডেনমার্ক থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি আনার ক্ষেত্রে এই কারণগুলো একসঙ্গে কাজ করেছে।

► বাংলাদেশের ওষুধশিল্প অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সরকারের নীতি স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করে। এ বিষয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

► বাংলাদেশে উৎপাদিত হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল ইতিমধ্যে বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সক্ষম।

প্রথম আলো:

বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের দীর্ঘ উপস্থিতি রয়েছে এবং স্বাস্থ্য খাতে ক্রমাগত বিনিয়োগ করে চলেছে। এর কৌশলগত কারণ কী?

জয় থ্যায়গারাজন: হ্যাঁ, নভো নরডিস্ক ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশে আছে। ইউরোপের বাইরে এটিই প্রথম দেশ, যেখানে নভো নরডিস্ক তার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছিল। নভো নরডিস্ক একটি রোগীকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘস্থায়ী রোগ মোকাবিলা এবং মানসম্পন্ন ইনসুলিন নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের ওষুধশিল্প অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সরকারের নীতি স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করে। এ বিষয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

প্রথম আলো:

নভো নরডিস্ক স্বাস্থ্য খাতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি। নভো নরডিস্ক বিশ্বের ৫০ শতাংশের বেশি ইনসুলিন একাই সরবরাহ করে। বাংলাদেশে সুযোগগুলোকে নভো নরডিস্ক কীভাবে দেখে?

জয় থ্যায়গারাজন: বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত অর্থবহ সুযোগের প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক অপূর্ণ চাহিদা রয়েছে। এখানে ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি ডায়াবেটিসের রোগী রয়েছেন, যা স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বার্তা দেয়। ডায়াবেটিস চিকিৎসা নির্ভরযোগ্য ইনসুলিন এবং ইনসুলিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের লক্ষ্য হলো রোগ নির্ণয় ও টেকসই চিকিৎসার জন্য পুরো ইকোসিস্টেমের (রোগী, চিকিৎসক, নীতিনির্ধারক) সঙ্গে কাজ করা। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সোসাইটি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ওষুধ কোম্পানি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমান উদ্যোগটি কেবল ওষুধ সরবরাহ নয়, বরং স্থানীয়ভাবে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন।

প্রথম আলো:

উদ্যোগটি আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য ডেনমার্কের প্রযুক্তি বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। এটি উচ্চমাত্রার নির্ভুল বায়োফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনে দেশের সক্ষমতাকে কীভাবে শক্তিশালী করবে?

জয় থ্যায়গারাজন: ইনসুলিন উৎপাদনে চূড়ান্ত নির্ভুলতা, জীবাণুমুক্ত প্রক্রিয়াকরণ এবং উন্নত জৈব-প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন। এ সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন এই অঞ্চলের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনসুলিন উৎপাদনের কেন্দ্র পরিচালনা করছে। ডেনমার্ক থেকে সরঞ্জাম এবং বিশেষ উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্থানান্তরের ফলে বায়োলজিকসের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশকে কেবল একজন ভোক্তা নয়, বরং জীবন রক্ষাকারী জটিল ওষুধের উৎপাদক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

প্রথম আলো:

বাংলাদেশে এই ইনসুলিন উৎপাদন সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা কি আপনাদের আছে, যেমন অন্য কোনো দেশে ইনসুলিন রপ্তানি করা বা আঞ্চলিক সক্ষমতা কেন্দ্র গড়ে তোলা?

জয় থ্যায়গারাজন: লক্ষ্য, অংশীদারত্ব ও কারিগরি দক্ষতা—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সক্ষমতার প্রমাণ রেখেছে। ২০১২ সালে ডেনমার্ক থেকে হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল তৈরির প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা এখন আধুনিক ইনসুলিন কার্টিজের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশে উৎপাদিত হিউম্যান ইনসুলিন ভায়াল ইতিমধ্যে বিদেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সক্ষম। দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কেবল পরিমাণের বিষয় নয়, বরং গুণগত মান ও অংশীদারত্বের বিষয়। ধাপে ধাপে এই সক্ষমতা আরও বিস্তৃত ও গভীর হলে তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলের রোগীদের সেবা দিতে সহায়ক হবে।

প্রথম আলো:

ইনসুলিন সবচেয়ে জটিল বায়োলজিক ওষুধগুলোর একটি। বাংলাদেশে উৎপাদিত ইনসুলিন যাতে নিরাপদ, গুণে এবং নির্ভরযোগ্যতায় বৈশ্বিক মান বজায় রাখে, তা নভো নরডিস্ক কীভাবে নিশ্চিত করছে?

জয় থ্যায়গারাজন: নভো নরডিস্ক বিশ্বজুড়ে তাদের সমস্ত উৎপাদনকেন্দ্রে অভিন্নতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে অবস্থিত এসকেএফের পেনফিল কারখানায় ডেনমার্কে ব্যবহৃত একই স্বত্বাধিকারী প্রযুক্তি, গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিস (জিএমপি) প্রটোকল, সরঞ্জাম ও গুণমান পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ইনসুলিন উৎপাদনে নভো নরডিস্কের ১০০ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত ডিজাইন, সর্বোত্তম অনুশীলন এবং অনুপ্রেরণা শেয়ার করার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কার্যক্রমে যুক্ত থাকি। নভো নরডিস্কের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় যুক্ত থাকেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নভো নরডিস্ক সমস্ত ভ্যালিডেশন নথি পর্যালোচনা ও অনুমোদন করে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতিটি ব্যাচের নমুনা এবং ভ্যালিডেশন নথি ডেনমার্কে যাচাই করা হয় এবং এরপর সেখান থেকেই ‘কোয়ালিটি-রিলিজ’ বা গুণমান নিশ্চিত করা হয়। এটি নিশ্চিত করে যে রোগীরা বিশ্বের অন্য যেকোনো স্থানে তৈরি পণ্যের মতোই একই রকম নিরাপদ, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্যতা ইনসুলিন পাচ্ছেন।

প্রথম আলো:

আধুনিক ইনসুলিনের স্থানীয় উৎপাদন কি রোগীদের জন্য চিকিৎসা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে সাহায্য করবে?

জয় থ্যায়গারাজন: স্থানীয় উৎপাদন সরাসরি দুটি সুবিধা দেয়—সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্য। বাংলাদেশের ভেতরেই আধুনিক অ্যানালগ ইনসুলিন উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করছি, যা রোগীদের বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। আমদানীকৃত ইনসুলিন সরকার কর্তৃক মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় পড়ে না। কিন্তু যখন ইনসুলিন স্থানীয়ভাবে তৈরি হয়, তখন এটি সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের অধীন আসে। তাই আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন করেছি, যা সাশ্রয়ী মূল্যের সমস্যাটি অনেকাংশে সমাধান করবে।

প্রথম আলো:

সরবরাহ ও উৎপাদন অবকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি এই সহযোগিতা বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এবং উন্নত বায়োলজিক তৈরিতে স্থানীয় দক্ষতা বৃদ্ধিতে কীভাবে অবদান রাখবে?

জয় থ্যায়গারাজন: প্রযুক্তি হস্তান্তর মানে কেবল যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়া স্থানান্তর নয়; এটি মূলত মানুষ, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়। এ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে: অ্যাসেপটিক বায়োলজিকস উৎপাদনে বাংলাদেশি পেশাদারদের প্রশিক্ষণ; উন্নত প্রকৌশল এবং কিউসি/কিউএ সিস্টেমে দক্ষতা তৈরি; নভো নরডিস্কের কঠোর বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স কাঠামোর সঙ্গে পরিচয় করানো; বিশেষায়িত বায়োলজিকস ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডেনমার্ক ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা। এই বিনিয়োগ উন্নত ওষুধ উৎপাদনে এক নতুন প্রজন্মের দক্ষ বাংলাদেশি পেশাদার তৈরি করছে।

প্রথম আলো:

অন্য দেশের তুলনায় পেটেন্ট সুরক্ষা না থাকা এবং ভিন্নধর্মী নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশে আপনারা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন?

জয় থ্যায়গারাজন: বাংলাদেশে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী ও বাজার–ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট রয়েছে। কারণ, ইনসুলিন এখানে জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার, বাজারজাতকরণ নীতি ও স্থানীয় উৎপাদন–আকাঙ্ক্ষার সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ঐতিহাসিকভাবে ইনসুলিন কার্টিজের ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে আমদানি সীমাবদ্ধতা এবং কঠোর আমদানি-অনুমোদনের প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আছে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক পরিবেশ কম দামি বায়োসিমিলার ওষুধের প্রবেশের সুযোগ দেয়। এ পরিবেশে কাজ করার জন্য অংশীদারদের সঙ্গে টেকসই ও স্বচ্ছ সম্পৃক্ততা এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।

প্রথম আলো:

সাম্প্রতিক দিনগুলোয় আমরা দেখেছি কিছু শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশে নভো নরডিস্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি কী?

জয় থ্যায়গারাজন: নভো নরডিস্কের উদ্দেশ্য হলো ডায়াবেটিসসহ গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলো মোকাবিলায় পরিবর্তন আনা এবং এটাই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি। বাংলাদেশে আমাদের কাজের মধ্যে রয়েছে ইনসুলিনের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সহায়তা করা, বিতরণের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা। যেমন ‘চেঞ্জিং ডায়াবেটিস ইন চিলড্রেন’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুরা বিনা মূল্যে ইনসুলিন পায়। স্থানীয় উৎপাদন এই যাত্রার পরবর্তী সাহসী পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্ভাবনী ডায়াবেটিস চিকিৎসাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই করতে সাহায্য করবে।

প্রথম আলো:

নভো নরডিস্ক স্থূলতাবিরোধী ওষুধেরও অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক। বাংলাদেশে স্থূলতা চিকিৎসায় জিএলপি–১–ভিত্তিক ওষুধের সুযোগকে কীভাবে দেখে? জিএলপি–১–এর দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও ন্যায়সংগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে কী করা প্রয়োজন?

জয় থ্যায়গারাজন: স্থূলতা একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। সচেতনতা বৃদ্ধি এর প্রথম ধাপ—যাতে মানুষ দ্রুত চিকিৎসা নেয় এবং সামাজিক লোকলজ্জার বদলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকির দিকে নজর দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, জিএলপি–১ থেরাপিগুলো অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে তা অবশ্যই জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশে এর সুযোগ অনেক। তবে দায়িত্বশীল ব্যবহারের জন্য একটি শক্তিশালী ‘স্থূলতা সেবা’ ইকোসিস্টেম প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে স্থূলতা যে একটি রোগ, সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো; উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আগে থেকে শনাক্ত করা; প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং নিরবচ্ছিন্ন ফলোআপ। স্থূলতা ব্যবস্থাপনা দীর্ঘমেয়াদি বিষয়, কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। আমরা লক্ষ করছি যে বাংলাদেশে কম দামি বিকল্পসহ জিএলপি–১–বিষয়ক শাখাটির দ্রুত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

নভো নরডিস্কের পক্ষ থেকে আমরা ক্রমাগত মূল্যায়ন করছি কীভাবে প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার প্রসার ঘটানো যায়। যেকোনো নতুন উদ্ভাবন অবশ্যই স্থানীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে থেকে দায়িত্বশীলভাবে, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে এবং ক্লিনিক্যাল তথ্যের ভিত্তিতে প্রবর্তন করতে হবে।

প্রথম আলো:

ব্যস্ততার মধ্যে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জয় থ্যায়গারাজন: আপনাকেও ধন্যবাদ।