বিশেষ সাক্ষাৎকার: বাসন্তী মুখার্জি
তাজউদ্দীন বললেন, মৈত্রী হবে, তবে সমতার ভিত্তিতে
ড. বাসন্তী মুখার্জি যুক্তরাষ্ট্র নিবাসী চিকিৎসক; কিন্তু আরেক পরিচয় তাঁর বাবা গোলকবিহারী মজুমদার, যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। গোলক মজুমদার ছিলেন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎকালীন আইজি, পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান এবং বিএসএফের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল। বাসন্তী মুখার্জির সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের কন্যা ও গবেষক শারমিন আহমদ। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে প্রবাসী সরকারের শপথ নেওয়ার দিবস উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হলো।
শারমিন আহমদ: আমরা চলে যাচ্ছি ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চে। আপনার বাবা সেদিন সীমান্তে এসে তাজউদ্দীন আহমদ আর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে দেখতে পেলেন। পরস্পরকে চেনেন না। তাজউদ্দীন বললেন, স্বাধীন রাষ্ট্রের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ভারত আমাদের আশ্রয় দিলে আমরা সীমান্ত অতিক্রম করব।
গোলক মজুমদার তখন গার্ড অব অনার দিয়ে তাঁদের একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতে আমন্ত্রণ জানান। গোলক মজুমদারের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে।
তিনি বলেছেন, আমি দেখলাম কী রকম ভুখা, খোঁচাখোঁচা দাড়ি, কৃষকের বেশ! এঁরাই বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি? জীবননগরের সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে আব্বুদের বোধ হয় সোজা নিয়ে আসা হলো কলকাতায়?
বাসন্তী মুখার্জি: বিএসএফের মহাপরিচালক কে এফ রুস্তমজি সেদিন প্লেনে করে আসছিলেন দমদম এয়ারপোর্টে। সে জন্য বাবা সেখান থেকে তাঁদের নিয়ে দমদম এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন। আমি জানতাম না কী হচ্ছে। কারণ, ওটা ছিল টপ সিক্রেট।
১৯৭১ সালের প্রথম দিকে আমরা দেখতে পেলাম, মেডিক্যাল কলেজের বাইরের ফুটপাতগুলো হঠাৎ ভর্তি হয়ে গেল মানুষে। সেখানে রান্না করে খাচ্ছে, সেখানেই বাথরুম করছে। স্নানের ব্যবস্থা নেই। তাদের টপকে টপকে আমাদের হাঁটতে হচ্ছে। আমরা ভাবছি, এরা কারা? কোত্থেকে এল? এভাবে থাকছে কী করে?
কলকাতার সারা ফুটপাত এমনভাবে ভরে গেলে যে স্যানিটেশনের পক্ষেও খুব খারাপ অবস্থা। এদের তো কলেরা হয়ে যাবে। ভারত তখন খুব বিত্তবান দেশ নয়। আমি ছিলাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। তারপর বাবা এলেন কলকাতায়। মা আমাকে ফোন করে বললেন, তোমার বাবা কলকাতায় যাচ্ছে, তুমি একটু দেখো।
শারমিন আহমদ: গোলক মজুমদার তখন ডিউটিতে ছিলেন ওই কুষ্টিয়ার দিকে বোধ হয়, জীবননগর সীমান্ত থেকে আরও কিছু দূরে...
বাসন্তী মুখার্জি: বাবা কলকাতায় এলেন। এসে হঠাৎ লর্ড সিনহা রোডের কয়েকটা বাড়ি কিনে নিলেন। সেখানে বাবার অফিস হলো। ওপরতলায় থাকব বলে আমার একটা খাট, বাবার একটা খাট। আর একটা টেবিল। আর কিছু ছিল না। মা আর দিদি তখন দিল্লিতে। তারপর আরেকটা বাড়ি কিনল—গুরুসদয় রোডে নবাবের একটা বাড়ি, কুমিল্লার নবাবের। কয়েকটা বাড়ি কিনল।
► তাজউদ্দীন আহমদ তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের লাখো মানুষের যে নিয়তি, আমার পরিবারকেও তো সেই একই নিয়তি বরণ করতে হবে। ওদের আলাদাভাবে করার কিছু নেই। ► পয়লা এপ্রিল তাঁদের বিশেষ প্লেনে তোলা হলো। তাঁরা ভীষণ ক্লান্ত। দুজনের ঘুমানোর জন্য প্লেনের মেঝেতে বিছানা পেতে দেওয়া হলো। তাঁরা দিল্লিতে গেলেন।
শারমিন আহমদ: বিএসএফের পক্ষেই কিনল?
বাসন্তী মুখার্জি: হ্যাঁ। আমি বললাম, তুমি এসব বাড়ি কিনছ! এত সাংঘাতিক দামি বাড়ি। টাকা কোথায় পাচ্ছ? বাবা বলল, এগুলো সরকারের বাড়ি। আমাদের টাকায় নয়। বাবা বলল, তুই থাকবি তো এখানে থাক। আমি রোজ কলেজ থেকে ফিরে আসতাম। আর বাবা রোজ রাত্রিবেলা কোথায় চলে যেত।
একদিন আমি একটা স্যান্ডউইচ প্যাক করে দিয়েছিলাম বাবাকে। শসার স্যান্ডউইচ আর কয়েকটা কাজুবাদাম। আমি বললাম, যেখানেই যাও, রাতে যখন খাবারের টাইম হবে, তুমি খেয়ে নিও। সেদিন বাবা ফিরল বোধ হয় চারটা-সাড়ে চারটায়। আমি বললাম, খেয়েছ তুমি? বলল, না, আরেকজন খেয়েছেন, যিনি সাত দিন খেতে পারেননি। তাঁর ডায়াবেটিস। দেওয়ার মতো আর কোনো খাবার ছিল না।
কলেজ থেকে বিকেলবেলায় ফিরে এসে দেখি, বাড়ির সামনে অনেক লোক। আমি বললাম, এরা কারা, এ রকম ঘোরাফেরা করছে, খুব সন্দেহজনক লোক? বাবা তো গোপনীয়তার শপথ নিয়েছে। ফিসফিস করে বললেন, ওরা আজকে ক্যাবিনেট সারেন্ডার করেছে। যা হোক, ওরা দমদম এয়ারপোর্টে নিয়ে গেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদকে এবং আমীর-উল ইসলামকে। রুস্তমজি এলেন। আরও কয়েকজন অফিসার এসেছিলেন।
বাবা ওদের এয়ারপোর্টে একটু অন্ধকারের দিকে রেখেছিলেন। রুস্তমজিকে বললেন, আপনার সঙ্গে আলাদা কথা আছে। উনি তখন অন্য অফিসারদের ছেড়ে বাবার সঙ্গে কথা বলতে এলেন।
বাবা তখন তাঁকে ঘটনাটা বললেন। উনি প্রশ্ন করলেন, আপনি কী করে বুঝলেন এরা সত্যিই আসল লোক? বাবা বললেন, আমি কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম। ওরা সত্যিকারের লোক না হলে সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন না। আমি যাচাই করে নিয়েছি, এরা ঠিক লোক।
তখন তিনি বললেন, এরা তো খায়নি কিছু। আসাম হাউসে নিয়ে আসা হলো তাঁদের। আসাম হাউস ছিল বিএসএফের গেস্টহাউস কি সে রকমের কিছু একটা। গায়ে কাদাটাদা লেগে আছে। দাড়ি কামাননি। রুস্তমজি বললেন তাঁদের স্নানের ব্যবস্থা করতে। স্নান যে করবেন, স্নান করে পরবেনটা কী? এক কাপড়ে তো চলে এসেছেন।
তখন গভীর রাত, রাত দুটোর মতো। দোকানপাট সব বন্ধ। রুস্তমজি তখন নিজের স্যুটকেস খুলে একটা সিল্কের পাজামা–পাঞ্জাবি তাজউদ্দীন আহমদকে দিলেন, আরেকটা দিলেন আমীর-উল ইসলামকে। বাবাকে বললেন খাওয়ার ব্যবস্থা করতে।
দোকানপাট তো সব বন্ধ। বাবা কয়েকটা ডিম সংগ্রহ করল। বাবা দুটি রান্না জানত। মা শিঙাড়া বানিয়ে দিলে সেটা ভাজতে পারত, আর খুব ভালো অমলেট বানাতে ভালোবাসতেন। তো রাতে তিনি অমলেট বানালেন। ফলটল ছিল, একটা পাউরুটি ছিল। তাই দিয়ে তাঁদের কিছু খাওয়ালেন। তাঁরা বহুক্ষণ কিছু খাননি। আসার সময় বোধ হয় কৃষ্ণনগর বা ওরকম কোনো জায়গায় একটা ময়রার দোকানে মানুষদের ঘুম ভাঙিয়ে কিছু মিষ্টি খাইয়েছিলেন। কিন্তু আপনার বাবা মিষ্টি খেতে পারতেন না বলে এই স্যান্ডউইচটা খেয়েছিলেন।
শারমিন আহমদ: তাঁর ডায়াবেটিস ছিল, মাইল্ড ডায়াবেটিস।
বাসন্তী মুখার্জি: রুস্তমজি বললেন, তাঁদের ঘুমাতে দাও। এরপর রুস্তমজি ইন্দিরা গান্ধীকে জানালেন যে এ রকম ব্যাপার। ইন্দিরা গান্ধী বললেন, তাঁদের এখনই নিয়ে এসো। কী করে নিয়ে যাওয়া যায়? একটা বিশেষ প্লেন এল। তাঁদের নিয়ে আসা হয়েছিল ৩০ মার্চে। পয়লা এপ্রিলে নিয়ে যাওয়া হলো। মাঝখানের কদিন তাঁরা লর্ড সিনহা রোডে ছিলেন। তাঁরা আমাদের ওপরতলায় থাকতেন না। দোতলায় তাঁদের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ওখানে কিছু ঘর তাঁদের দেওয়া হয়েছিল।
বাবার ভীষণ চিন্তা ছিল তাঁদের পরিবারের কী হলো, তা নিয়ে। পরিবারের খোঁজখবর না পেলে তো কোনো মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারে না। তাজউদ্দীন আহমদকে বাবা বলেছিলেন, আপনার পরিবারের খবর যদি একটু বলেন, তাহলে যদি ওদের কোনোভাবে এখানে তাড়াতাড়ি আনার চেষ্টা করতে পারি।
তাজউদ্দীন আহমদ তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের লাখো মানুষের যে নিয়তি, আমার পরিবারকেও তো সেই একই নিয়তি বরণ করতে হবে। ওদের আলাদাভাবে করার কিছু নেই। আমাকে আর এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন না। বাবা বলেন যে সাংঘাতিক কথা তো! বাবা তো সেই কথা শুনবেন না। বাবা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলেন—আপনাদের, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামের পরিবার কোথায়?
কারণ, আমরা খবর পেয়েছিলাম, বাংলাদেশে ভীষণ অত্যাচার হচ্ছে। ওরা জানতে পারলে খুঁজে খুঁজে বের করবে আরও অত্যাচার করতে। তাই বিএসএফকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হলো। আমি জানি, নির্বাচিত প্রতিনিধি আর তাঁদের পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করতে এবং নিরাপদে নিয়ে আসার কাজে তাদের যুক্ত করা হয়েছিল। তাজউদ্দীন আহমদ মানা করা সত্ত্বেও তারা খুব চেষ্টা করেছিল।
যা–ই হোক, পয়লা এপ্রিল তাঁদের বিশেষ প্লেনে তোলা হলো। তাঁরা ভীষণ ক্লান্ত। দুজনের ঘুমানোর জন্য প্লেনের মেঝেতে বিছানা পেতে দেওয়া হলো। তাঁরা দিল্লিতে গেলেন। বাবা জানতেন না ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কোথায় বৈঠকটা হয়েছিল। কারণ, এ রকম সাংঘাতিক একটা প্রকল্পে সবকিছু আলাদা আলাদা রাখার নিয়ম। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি একসঙ্গে সবটা জানতে পারবে না। কারণ, কোনো আক্রমণ বা ইনফিলট্রেশন হলে বিপদ আছে। তো ওখানে তাঁদের সাক্ষাৎ ও আলাপ হয়েছিল।
বাবা আমাদের পরে বলেছেন, তাঁরা চাচ্ছিলেন যে তাঁদের সার্বভৌম একটা দেশের নেতা হিসেবে গ্রহণ করা হোক। কিন্তু বাবার কাছে তো সে রকম কোনো নির্দেশ ছিল না। বাবার কাছে নির্দেশ ছিল, সীমান্তে নজর রাখো, আর ভারতের জন্য যেটা সবচেয়ে ভালো হয় সেটা করো। বাবার তো এই ক্ষমতা ছিল না যে সেভাবে তাঁদের গ্রহণ করেন। কিন্তু বাবা দেখলেন, সেটা না করলে তিনি আসবেন না। তখন তিনি ঝুঁকিটা নিলেন। বললেন যে হ্যাঁ, ইন্দিরা গান্ধী বলেছেন। তবে এই ভয় তো ছিলই যে ইন্দিরা গান্ধী যদি শেষকালে ফিরিয়ে দেন তাহলে তাঁর মরণ।
শারমিন আহমদ: তিনি বিরাট ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
বাসন্তী মুখার্জি: তো তিনি বললেন যে ইন্দিরা গান্ধী বলেছেন। তখন আপনার বাবা আর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এলেন। এটা মনে আছে।
শারমিন আহমদ: আপনার বাবা কি কলকাতা থেকে মেসেজ পেয়েছিলেন যে বর্ডারে কেউ অপেক্ষা করছে?
বাসন্তী মুখার্জি: না। বাবা রোজ চলে যেতেন বর্ডারে।
শারমিন আহমদ: কৃষ্ণনগরের দিকে?
বাসন্তী মুখার্জি: কোথায় যেতেন আমাকে বলতেন না। তবে কৃষ্ণনগরের দিকেই বোধ হয়। কারণ, সেখানে মিষ্টি খাইয়েছিলেন।
শারমিন আহমদ: তা–ই হবে। কারণ, আমার সাক্ষাৎকারে তিনি বলছিলেন যে জীবননগরের সীমান্ত অঞ্চলে, হয়তো কৃষ্ণনগরই হবে। তারপরে কুষ্টিয়ার জীবননগরের বর্ডারে এসে তাঁদের নিয়ে ওনারা সোজা চলে গেলেন দমদমে। দমদমে যখন গেলেন, মনে হয় রুস্তমজিও তখন দমদমে এসে পৌঁছেছেন।
বাসন্তী মুখার্জি: সে জন্যই গিয়েছিলেন। আলাপ করিয়ে দিতে এবং কী ঘটছে সেসব বলতে। তারপরে তাঁরা দিল্লিতে গেলেন। দিল্লি থেকে ফিরে এসে তাঁরা লর্ড সিনহা রোডে থাকতেন।
শারমিন আহমদ: সবকিছু আমার মনে আছে। বড় উঠান। দোতলায় আব্বুরা থাকতেন। যত দিন না আরেকটা বাড়িতে ওনাদের নিয়ে যাওয়া হলো।
বাসন্তী মুখার্জি: প্রায় এক মাস লেগেছিল। মে মাসে তাঁরা ওই বাড়িটাতে (৮ নম্বর থিয়েটার রোড) উঠলেন। ওই বাড়িতে অনেক দিন কেউ থাকেনি। তাই বাসযোগ্য করার জন্য বাড়িটার একটু সংস্কার করতে হয়। অনেক লোক থাকবেন। তাঁদের ব্যবস্থা করতে হবে। কাজ চালানোর মতো রান্নাঘর, বাথরুম কাজ করছে কি না ইত্যাদি। প্রায় এক মাস লেগেছিল বাড়িটা ঠিক করতে।
শারমিন আহমদ: ওনারা যখন লর্ড সিনহা রোডে চলে এলেন, তখন আপনারা খাবার দিতেন, নাকি অফিস থেকেই আসত?
বাসন্তী মুখার্জি: লর্ড সিনহা রোড থেকে যেত না। ওখানেই খাবারের ব্যবস্থা হয়েছিল। বাবা লোক পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। রোজ ২০০ টাকার বাজার হতো। অনেকজন থাকতেন, আট থেকে দশজন খেতেন। বিএসএফের লোকেরা রান্না করত। ওখানেই কিচেন ছিল। বাবাই প্রতিদিন খাওয়া ঠিক করে দিত।
তবে তাজউদ্দীন আহমদ মাঝেমধ্যেই বর্ডারে চলে যেতে চাইতেন। ভীষণ আত্মসম্মানবোধ ছিল। বাবা যদি কোনো কিছু নিয়ে বলতেন যে ওটা তার পছন্দ নয়, সঙ্গে সঙ্গে বলতেন, আমি থাকব না। বাবা বলতেন, যাবেন কোথায়? আপনারা যে শরণার্থীশিবির করেছেন, সেখানে নিয়ে যান আমাকে। আমি ওইখানে থাকব। খুব কোমল স্বভাবের, শান্ত–স্নিগ্ধ লোক ছিলেন, তবে আত্মসম্মান খুব বেশি ছিল।
শারমিন আহমদ: হ্যাঁ। আমার তাজউদ্দীন আহমদ: নেতা ও পিতা বইয়ে গোলক মজুমদার বলেছেন যে স্বাধীনতার পরে তাজউদ্দীন আহমদকে বিদায় দেওয়ার জন্য তাঁরা বিমানবন্দরে গেলেন। রুস্তমজি বললেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, এখন থেকে আমাদের মৈত্রী চিরন্তন হবে। তাজউদ্দীন একটু রূঢ় কণ্ঠে বললেন, হ্যাঁ, তবে সমতার ভিত্তিতে। যে রুস্তমজি বিপদে তাঁকে এত সাহায্য করলেন, দেশের প্রশ্নে তাঁকেও তিনি ছেড়ে কথা বলেননি।
বাসন্তী মুখার্জি: বাবা বারবার বলেছেন যে উনি (তাজউদ্দীন আহমদ) দেশটাকে স্বাধীন করলেন। কিন্তু অন্য যেসব নেতা ভারতে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে দুই–তিনজন মাঝে মাঝে আমেরিকানদের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন । তাজউদ্দীন আহমদ এবং আমীর-উল ইসলাম কখনো যেতেন না। তাঁরা কারও সঙ্গে কোনােরকম ষড়যন্ত্রে ছিলেন না।
শারমিন আহমদ: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বাসন্তী মুখার্জি: ধন্যবাদ।