প্রথম আলো: বিএনপির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করছেন, লিফলেট বিতরণসহ নানা সময়ে তাঁরা পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে একটু বলবেন?

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির: প্রতি রাতেই কিছু কিছু নেতা-কর্মীর বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে, টহল দিচ্ছে। বাড়ির সামনে একসঙ্গে চার-পাঁচটা পুলিশের গাড়ি গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের তিনজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিলাদ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। প্রথমে তাঁদের ৫৪ ধারায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রথম আলো: সিলেট বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে যদি পরিবহন ধর্মঘট দেওয়া হয়, তাহলে আপনারা সমাবেশ কীভাবে সফল করবেন?

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির: আমাদের কৌশল আগাম বলব না। সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘট করে মানুষের বিতৃষ্ণা কুড়ানো ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আর কোনো লাভ হয়নি। কারণ, এই পরিবহন ধর্মঘট উপেক্ষা করে মানুষ যেভাবে পেরেছেন, সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

প্রথম আলো: আর কোনো বার্তা আছে আপনার?

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির: আসলে এ দেশের মানুষ আর আওয়ামী লীগ সরকারের ভার বহন করতে পারছে না। এত সীমাহীন দুর্নীতি, অনাচার, নৈরাজ্য! সমগ্র দেশকে জিম্মি করে রেখেছে এই সরকার। মানুষ এদের থেকে পরিত্রাণ চায়। পরিত্রাণ চায় বলেই বিএনপির দাবিগুলোর সঙ্গে মানুষ একাত্ম হয়েছে। বিএনপির দাবি এখন সাধারণ মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ফলে মানুষ বিএনপির আন্দোলনকে নিজেদের আন্দোলনে পরিণত করেছে। সব বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে মানুষ নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়েছে এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য।