বিশেষ সাক্ষাৎকার: সি ক্রিস্টিন ফেয়ার

হাসিনাকে নীরব রাখতে বাধা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

সি ক্রিস্টিন ফেয়ার আন্তর্জাতিক স্তরে একজন দক্ষিণ এশিয়া পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক। আমেরিকার জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ‘এডমন্ড এ ওয়ালশ স্কুল অব ফরেন সার্ভিস’-এর সিকিউরিটি স্টাডিজ প্রোগ্রামের তিনি একজন অধ্যাপক। তিনি আমেরিকার আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা কেন্দ্র র‍্যান্ড করপোরেশনে সিনিয়র রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, সামাজিক পরিবর্তন ও নিরাপত্তাবিষয়ক একাধিক বই রচনা ও সম্পাদনা করেছেন। সম্প্রতি ঢাকায় তাঁর সাক্ষাৎকার নেন প্রথম আলোর কলকাতা প্রতিনিধি শুভজিৎ বাগচী।

প্রথম আলো:

আমি গত বছরে আফগানিস্তানে কিছু সময় কাটিয়েছি। সেখানে গিয়ে মনে হলো, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতের সমাধান প্রায় অসম্ভব। একদিকে তালেবান খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপিকে)-পাঞ্জাব সীমানায় অবস্থিত ‘অ্যাটক পুল’ পর্যন্ত এলাকা নিজেদের বলে দাবি করছে, যা পাকিস্তানের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য একটি দাবি। অন্যদিকে পাকিস্তান আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ কী বার্তা বহন করছে?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: এটি একটি ঐতিহাসিক সমস্যা; পাকিস্তান যখন স্বাধীন হয়, তখন আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইনকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে অস্বীকার করেছিল। আফগান সরকারের যুক্তি ছিল, পাকিস্তান একটি অবৈধ উত্তরসূরি রাষ্ট্র, যেখানে ব্রিটিশরা বলেছিল এটি একটি বৈধ উত্তরসূরি রাষ্ট্র এবং সীমান্তটি একটি বৈধ সীমান্ত। কিন্তু (পাকিস্তানের) স্বাধীনতার পর থেকে, প্রত্যেক আফগান শাসকই ডুরান্ড লাইন প্রত্যাখ্যান করেছেন। পাকিস্তানিরা এমন একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চেয়েছিল, যেখানে আফগানরা ডুরান্ড লাইন মেনে নেবে। সে কারণেই পাকিস্তান তালেবানদের সমর্থন করেছে।

পাকিস্তানের আশা ছিল, তালেবান শেষ পর্যন্ত সীমান্ত হিসেবে ডুরান্ড লাইন মেনে নেবে। কিন্তু তালেবানরা মানেনি। ফলে এটাই পরিস্থিতি যে তালেবানরা এই লাইনটি মেনে নিচ্ছে না, আর অপর দিকে পাকিস্তান সীমান্তবিরোধ নিষ্পত্তির আশায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

তালেবান নেতৃত্ব দাবি করে যে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করছে। আবার এটাও তো ঘটনা যে টিটিপি, অর্থাৎ পাকিস্তান তালেবান, আফগান তালেবান এবং এমনকি হয়তো অতীতের আল–কায়েদার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আপনি এটাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: দেখুন, তালেবান পাকিস্তানি তালেবানদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে এবং সেটাই হলো প্রধান ইস্যু। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এমনকি আমেরিকানরা যখন আফগানিস্তানে ছিল, তখন তারাও (আমেরিকানরা) আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানি তালেবান নেতৃত্বকে উচ্ছেদ করতে পারেনি। আফগান তালেবান পাকিস্তানি তালেবানদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করে চলেছে। সে কারণেই পাকিস্তানিরা আফগানিস্তানে টিটিপির ঘাঁটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

প্রথম আলো:

এই সমর্থন কি প্রধানত জাতিগতভাবে পাঠানদের মধ্যে সামাজিক ও আত্মিক যোগাযোগের কারণে?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: হ্যাঁ। তারা সাধারণত পাঠান। তবে একটি দেওবন্দি যোগাযোগও রয়েছে।

প্রথম আলো:

আবার এটাও দেখলাম যে আফগান তালেবান স্বীকার করছে যে তাদের যাবতীয় সংকটময় বছরগুলোতে তারা পাকিস্তানে আশ্রয় পেয়েছিল, যা তাদের ইসলামাবাদের কাছে বেশ খানিকটা ঋণগ্রস্ত করে রেখেছে…

ক্রিস্টিন ফেয়ার: মূলত তালেবান এটা বোঝানোর চেষ্টা করছে যে তারা ওদেরকে (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে না, এটা সত্য নয়। তারা উপজাতীয় অঞ্চলের স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপরেও নিজেদের কর্তৃত্ব চাপিয়েছে, কিন্তু পাকিস্তানি তালেবান নেতৃত্ব মূলত আফগান তালেবানের সাহায্যে আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। যেমন লস্কর-ই-তৈয়বা সংগঠনটি কাশ্মীরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে, কিন্তু তাদের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব পাকিস্তানেই অবস্থান করে।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

পাকিস্তানে দুটি সমান্তরাল সংকট ঘনীভূত হচ্ছে: বেলুচিস্তান সংঘাত এবং ইমরান খানের চলমান আটককে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। এই দুই আন্দোলনের মধ্যে কি কোনো ‘ওভারল্যাপ’ বা সম্পর্ক আছে এবং এদের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: না। কোনো ‘ওভারল্যাপ’ বা সম্পর্ক নেই। এগুলো পৃথক সমস্যা। বালুচ সমস্যাটির সূত্রপাত ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে। (সিন্ধু বা পাঞ্জাবের মতো) বেলুচিস্তানে কোনো প্রাদেশিক পরিষদ ছিল না। ১৯৪৬ সালে দুই ধরনের বেলুচিস্তান ছিল। একটি অংশ ছিল ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে, যেখানে কোনো প্রাদেশিক পরিষদ ছিল না। বালুচরা ১৯৭১ সালের (বাংলাদেশ) যুদ্ধের পরে বা যুদ্ধের শেষভাগে এসে প্রাদেশিক পরিষদ পায়। বেলুচিস্তানের অবশিষ্টাংশ, যা প্রথমে কালাতের খানের অধীন ছিল, পাকিস্তানে যোগ দিতে চায়নি। এরপর তিনি চাপের মুখে তা করেছিলেন এবং এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে মোহান্মদ আলী জিন্নাহ তাঁর আইনজীবী ছিলেন। পরে কালাতের খান তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং পাকিস্তান জোরপূর্বক বেলুচিস্তান অন্তর্ভুক্ত করে। বালুচরা কখনোই পাকিস্তানে যোগ দিতে চায়নি।

আমরা দেখেছি পাঞ্জাব, সিন্ধু, পূর্ব পাকিস্তান—সবাই মুসলিম লীগের সঙ্গে গিয়েছিল, কেবল বালুচরা ছাড়া। তাদের ভোটাধিকারও ছিল না। এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে সে সময়ের নর্থ ওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার প্রভিন্স (বর্তমান কেপিকে) কংগ্রেসের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, যা মূলত ভারতের ভেতরে থাকার জন্যই ভোট ছিল।

এখন সাম্প্রতিক বিদ্রোহের কথায় আসি, যা প্রেসিডেন্ট মোশাররফের সময় থেকে শুরু হয়েছিল। মোশাররফই মূলত বেলুচিস্তানে চীনা উন্নয়ন নিয়ে এসেছিলেন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কমিশন সে সময় বেলুচিস্তানের জন্য অত্যন্ত নগণ্য অর্থ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ করে। কারণ, এই বরাদ্দ রাজ্যের জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

তখন, বেলুচিস্তান কম বরাদ্দ পেয়েছিল, কারণ এটি সবচেয়ে কম জনসংখ্যার রাজ্য, আবার ভৌগোলিকভাবে অন্যতম বৃহত্তম রাজ্য। কমিশনের পক্ষ থেকে যা দেওয়া হয়েছিল, তাদের এর চেয়ে অনেক বেশি অর্থের ও উন্নয়নের প্রয়োজন ছিল। সেখানে চাকরিবাকরি কম ছিল এবং সুযোগ-সুবিধাও প্রায় ছিল না। আর যেটুকু চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা ছিল, তা চীনের দখলে চলে যায়। চীনারা তাদের নিজেদের শ্রমিক নিয়ে আসে। এসব থেকেই বর্তমান সময়ের এই সংকট, যা মোশাররফের আমল থেকে শুরু হয়।

প্রথম আলো:

ইমরান খানের প্রসঙ্গে আসি। ইমরান খানের দল কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: আমি মনে করি না যে ইমরান খানকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন হচ্ছে, তা বিরাট উত্তপ্ত হচ্ছে। ইমরান খানের বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং তাঁর সমর্থকেরা যা–ই বলুন না কেন, ইমরান খান জেল থেকে বেরোতে পারবেন না। তাঁর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো নির্বাসনে যেতে রাজি হওয়া এবং এখন পর্যন্ত তিনি নির্বাসনে যেতে রাজি হননি।

প্রথম আলো:

তাহলে, আপনি কি বলছেন যে এই বিশাল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সত্ত্বেও পাকিস্তানি সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: সরকার নয়, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা। তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে। আমি বলছি না যে যেভাবে হচ্ছে তার সঙ্গে আমি একমত, তবে আমার ধারণা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক) এত ক্ষমতা একত্রীকরণ করেছেন ও (নিজের অবস্থান) জোরদার করেছেন যে তিনি সম্ভবত পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবেন। এটিই আমার মূল্যায়ন।

প্রথম আলো:

এবং এটি কি এই কারণে যে ওয়াশিংটনে তাঁকে অত্যন্ত পছন্দ করা হয়?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: এই সংকট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা ও সক্ষমতা ডোনাল্ড ট্রাম্প কতটা মেনে নেবেন বা নেবেন না, তার সঙ্গে পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। (অবশ্যই) ওয়াশিংটন তাঁকে (মুনিরকে) সমর্থন জোগায়, কিন্তু মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার প্রশ্নে মুনিরের পারদর্শিতা ট্রাম্প তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কতটা পছন্দ করেন তার ওপর নির্ভরশীল নয়।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

ঢাকায় সাম্প্রতিক ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ (বিওবিসি) ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক সামনে উঠে এসেছিল। অনেক আলোচনা হয়েছে ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য পরিসরে। এবং দেখা গেছে, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নানা মত রয়েছে। বিশেষত, তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন কি না এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে। আপনি এই পরিস্থিতি কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন এবং এই অচলাবস্থার সম্ভাব্য পরিণতি কী?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: আমি খুবই বাস্তববাদী একজন মানুষ। আমি মাঠপর্যায়ের প্রকৃত তথ্যগুলো দেখতে পছন্দ করি। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার একদিকে এটা রয়েছে যে এটি ছাত্রদের ও বিএনপির একটি রাজনৈতিক দাবি যে ভারত যেন হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। বিওবিসিতে ভারতের হাইকমিশনারকে এটিই প্রথম প্রশ্নও করা হয়েছিল। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো তিনি বাংলাদেশে ফিরে এলে কী ঘটবে?

বাংলাদেশের বাস্তবতায় বোঝা যায় যে একজন নারীকে ফাঁসি দেওয়া বেশ কঠিন। তাহলে প্রশ্ন, জেলে গিয়ে তিনি কী করবেন? তারপর হাসিনা যদি জেলে মারা যান, তবে তিনি অনেকের কাছেই একজন ‘শহীদ’ হয়ে উঠবেন। আমি বলব যে শেখ হাসিনা যদি ফিরে আসেন এবং দেশে মারা যান, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তা সমস্যার তৈরি করতে পারে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বললে বলতে হয় ভারত চাইবে যে তিনি ভারত ছেড়ে চলে যান। কিন্তু আবার কোনো দেশ তাঁকে নিতে রাজি হবে না। সেটাও একটা ইস্যু। এই অবস্থায় ভারত তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না।

প্রথম আলো:

কেন?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: কারণ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন পুরোটা সময় ভারতের একজন মূল্যবান সম্পদ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মনে রাখা প্রয়োজন যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন, তবে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) প্রযোজ্য হয় না। সে ক্ষেত্রে (রাজনৈতিক মামলার ক্ষেত্রে) তাঁকে হস্তান্তর করার জন্য একটি আইনি প্রক্রিয়া চালাতে হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য, তিনি বাংলাদেশে মারা যাওয়ার চেয়ে ভারতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করা ভালো।

এখন এখানে আরও একটি কথা বলা দরকার। ভারতে তিব্বতের দালাই লামা বা অং সান সু চি (যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাসনে ছিলেন না), তাঁরা ছিলেন। অতএব এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ভারতের। ভারত যখন তাদের দেশে থাকা কোনো নেতাকে নীরব রাখতে চায়, তখন তারা তা করতে পারে।

তাই প্রশ্ন হলো, কেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ হাসিনাকে উসকানিমূলক সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ দিচ্ছে? এটিই সেই প্রশ্ন যা করলে আমাকে বলা হয়, ‘হ্যাঁ, আমরা তাঁকে থামাতে পারি না, এটি খুবই কঠিন।’ কিন্তু আপনি যখন দালাই লামাকে চীন নিয়ে মন্তব্য বন্ধ করতে বলেন, তিনি তা শোনেন। অং সান সু চির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাহলে হাসিনাকে নীরব রাখা কেন এত কঠিন? আমি মনে করি আন্তর্জাতিক রাজনীতির চেয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে।

প্রথম আলো:

শেষ একটি প্রশ্ন। ভারতে চলমান ছাত্র-যুবাদের আন্দোলন সম্পর্কে আপনি কী ভাবেন এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর এর কেমন প্রভাব পড়তে পারে?

ক্রিস্টিন ফেয়ার: এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

প্রথম আলো:

আপনাকে ধন্যবাদ।

ক্রিস্টিন ফেয়ার: আপনাকেও ধন্যবাদ।