বিশেষ সাক্ষাৎকার: মনির হায়দার

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে

মনির হায়দার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। কাজ করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলাপ-আলোচনা এবং জুলাই সনদ প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন গণভোটের গুরুত্ব ও তাৎপর্য, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতন্ত্রায়ণ ইত্যাদি বিষয়ে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল ইসলাম

প্রথম আলো:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি  গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে এর আগে কখনো এ রকম দুটি নির্বাচন একত্রে হয়নি। সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, এটা দেশের মানুষ মোটামুটি জানে-বোঝে। কিন্তু গণভোট বিষয়টা অনেকের কাছেই বোধগম্য নয়। এবারের গণভোটের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাইছি।

মনির হায়দার: প্রথম কথা হলো, ১৯৯১ সালের পর দেশে আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে দেশে গত ৩৫ বছরে কোনো গণভোট হয়নি। বর্তমানে দেশের যে মোট ভোটার, তাঁদের অনেকেই গণভোট দেখেননি। ভোটারদের একটা বড় অংশের জন্য এটা একটা নতুন বিষয়।

গণভোটের সঙ্গে অন্যান্য নির্বাচনের পার্থক্য রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী থাকে। এর আগে যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলো হতো, সেখানেও প্রার্থী থাকত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী থাকে। কিন্তু গণভোটে কোনো প্রার্থী থাকে না। গণভোট হলো কোনো একটি বিষয় ভোটাররা সমর্থন করেন, নাকি করেন না—এটা জানা। অর্থাৎ গণভোটের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর জনমত যাচাই করা হয়।

গত ৫৪ বছরে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পাইনি। এর মধ্যে ১৬ বছর একটি ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছে। এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ তৈরি করা হয়েছে, যা মূলত ভবিষ্যতের একটি পথরেখা। এই গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ‘গাঠনিক ক্ষমতা’ ব্যবহার করে এই সংস্কারগুলোকে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের এই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করতে না পারে।

এবারের গণভোটের মধ্যে অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোও রয়েছে। এককথায় যদি বলি, এবারের গণভোট হলো আমরা কি আবারও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই, নাকি চাই না—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রথম আলো:

গণভোটে ভোটাররা ব্যালটে কোনো মার্কার বদলে চারটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮টি প্রস্তাবকে চারটি প্রশ্নের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই চার প্রশ্নের উত্তর হবে আবার একটি—‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। গণভোটের এই প্রশ্নপদ্ধতি নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ যদি চারটি প্রশ্নের দুটির ক্ষেত্রে একমত এবং অন্য দুটির ক্ষেত্রে ভিন্নমত জানাতে চান, সে ক্ষেত্রে তিনি কীভাবে একটি উত্তর অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দিয়ে নিজের মতামত জানাবেন?

মনির হায়দার: পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বড় আকারে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে যে ধরনের পদ্ধতি বা ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়েছে বা হয়, আমাদের এখানেও একইভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত ৪৮টি প্রশ্নই রয়েছে। এ প্রশ্নগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি প্রশ্নে আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বড় ধরনের সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে দুনিয়াজুড়ে এ পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশে নতুন কিছু হতে যাচ্ছে না, বরং এটাই প্রচলিত ব্যবস্থা।

গণভোটের ব্যালটের রং সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের থেকে আলাদা হবে। গণভোটে কোনো মার্কা বা প্রতীক নেই—এমন ধারণা সঠিক নয়। গণভোটেও দুটি মার্কা বা প্রতীক রয়েছে। যাঁরা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিতে চান, তাঁদের জন্য টিকচিহ্ন এবং যাঁরা বিপক্ষে ভোট দিতে চান, তাঁদের জন্য ক্রসচিহ্ন প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে। ভোটাররা ব্যালটে এই প্রতীক দুটি দেখে নিজের বিবেচনামতো সিল দিতে পারবেন।

প্রথম আলো:

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে রকম উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, গণভোট নিয়ে তেমনটা দৃশ্যমান নয়। এটা থেকে কি এমনটা মনে হতে পারে, তারা ক্ষমতায় যেতে যতটা উৎসাহী, সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ততটা আগ্রহী নয়?

মনির হায়দার: আমি বিষয়টা এত জেনারালাইজড (সাধারণীকরণ) করব না। আমাদের বুঝতে হবে, নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী, তাঁদের কাছে নিজেদের জয়-পরাজয়ের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁরা নিজেদের প্রচার-প্রচারণার দিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এক বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলাপ-আলোচনা চলেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা প্রতিটি দল এতে অংশ নিয়েছে এবং তারা বিভিন্নভাবে অবদান রাখার চেষ্টা করেছে। তাদের এসব আলাপ-আলোচনা, মতামতের ভিত্তিতেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরে রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরও করেছে। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলো শুরু থেকেই ইতিবাচকভাবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

গণভোটের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর নয়, দেশের জনগণ এবং পরিবর্তনের পক্ষে থাকা সবার এ বিষয়ে দায়িত্ব রয়েছে। সরকার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মসজিদের ইমাম বা মন্দিরের পুরোহিতদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো। এ ছাড়া কৃষি, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটারের কাছে বার্তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে দেশের সব ভোটার গণভোটের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।

প্রথম আলো:

গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। গণভোটের প্রচার-প্রচারণা উপলক্ষে বিভিন্ন বিভাগে ভোটের গাড়ি পাঠানো হয়েছে, আঞ্চলিক ভাষায় মিউজিক ভিডিও বানানো হয়েছে। এসবের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে কোনো একটি পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

মনির হায়দার: নির্বাচনসংক্রান্ত যত আইনকানুন, বিধিবিধান আছে, তাতে এ ধরনের কাজে কোনো বিধিনিষেধ রয়েছে—এমনটা কেউ দেখাতে পারবে না। নির্বাচন আচরণ বিধিমালা যেটা আছে, সেটা প্রার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। যেহেতু গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই, তাই এটা গণভোটের জন্য প্রযোজ্য নয়।

দ্বিতীয়ত, যে বিষয়টা নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে তা হলো, আমরা কি আবারও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যাব নাকি যাব না, সেই সম্পর্কিত বিভিন্ন সুপারিশ। এই যে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন—এসব কাজই তো দেশ ও জনগণের পক্ষে এই সরকার করেছে। এগুলোকে আমরা যদি একটা প্রোডাক্ট হিসেবে ধরি, তাহলে তা দেশ ও জনগণের জন্য সরকারের তৈরি করা একটি প্রোডাক্ট। এখন কারও কি নিজের তৈরি করা একটি প্রোডাক্টের পক্ষে হ্যাঁ বলতে বাধা থাকবে? সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে একটি প্রোডাক্ট হিসেবে বিবেচনা করলে এর পক্ষে সরকার প্রচারণা চালাতেই পারে। সাধারণ দৃষ্টিতে এতে কোনো আইনি বাধা আছে বলে আমার মনে হয় না।

প্রথম আলো:

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে কী হবে, আর ‘না’ জয়ী হলে কী হবে?

মনির হায়দার: আমি ব্যক্তিগতভাবে গণভোটে ‘না’ জয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ দেখি না। আমার ধারণা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হবে। গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে, নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে। কিন্তু যদি ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়, তবে আগামী সংসদ একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং নির্দিষ্ট কার্যদিবসের মধ্যে এই প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। জনগণের এই রায় বাস্তবায়ন করা আগামী সরকারের জন্য একটি নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়াবে।

প্রথম আলো:

আপনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে কাজ করেছেন। সেই সূত্রে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার নিয়ে আলাপ-আলোচনা-বৈঠক করেছেন। সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

মনির হায়দার: সংস্কারের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা রয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা যেভাবে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন, তাতে সংস্কারের ব্যাপারে তাদের ইতিবাচক মনে হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে আগ্রহী না হলে তাঁরা কেন এসব আলোচনায় এত সময় ব্যয় করবেন!

প্রথম আলো:

অন্তর্বর্তী সরকার অনেকগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। সেই সংস্কার কমিশনগুলো তাদের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বিষয়ভিত্তিকভাবে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে কিছু সংস্কার আছে, যেগুলো বাস্তবায়নে সংবিধান পরিবর্তন বা গণভোটের প্রয়োজন নেই, নির্বাহী আদেশেই সম্ভব ছিল। এ ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার যথেষ্ট উদ্যোগী ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

মনির হায়দার: যথেষ্টের পরিধি কত, সেটা আমি জানি না। তবে এটা সত্য, অনেক সুপারিশ বা বেশির ভাগ সুপারিশের সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের কোনো সম্পর্ক
নেই। এ ধরনের বহু সুপারিশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আপনি হয়তো বলতে পারেন, আরও কিছু সংস্কার করা যেত। দেখেন, ভালোর তো কোনো শেষ নেই।

প্রথম আলো:

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আমলাতন্ত্র, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন—এগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বিগত সরকারের আমলে এসব প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অনেক অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এদের ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। তাহলে কি সংস্কার নিয়ে কথাবার্তা এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কোথাও একটা ফারাক লক্ষ করা যাচ্ছে?

মনির হায়দার: আপনি যে পরিস্থিতির কথা বললেন, সেটা কেন হয়েছে? প্রথম কথা হলো, আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় সত্যিকারের গণতন্ত্রের চর্চা ঠিকমতো হয়নি। এটা হয়নি বলেই আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় দুটি মৌলিক বিষয়ের ব্যাপক অনুপস্থিতি রয়েছে; এগুলো হলো জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা। সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ, জুলাই সনদ—এগুলো করাই হয়েছে যাতে দেশটা ঠিকঠাক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলে, যাতে রাষ্ট্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এগুলো হলে আপনি যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যাবে।

প্রথম আলো:

গুম কমিশনের পক্ষ থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এটা নিয়ে আপনার মতামত কী?

মনির হায়দার: আমি আলাদাভাবে কোনো সংস্থার কথা বলব না। তবে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা—এই সবকিছুরই ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। তবে এই সংস্কারগুলো হবে কি না, তা নির্ভর করছে এবারের গণভোটের ওপর। দেশে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হলে এ সংস্কারগুলো করা সম্ভব হবে।

প্রথম আলো:

অন্তর্বর্তী সরকার অন্যান্য কমিশনের পাশাপাশি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। সেই সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কমিশন–সংশ্লিষ্ট অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। আপনি একসময় সাংবাদিক ছিলেন। সেই জায়গা থেকে এ বিষয়টাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মনির হায়দার: একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের কিছু পদ্ধতিগত বাধা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অতীতের অনেক কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে আমরা মনে করি।

প্রথম আলো:

সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেকেই আমলাতন্ত্রকে একটি বড় বাধা হিসেবে দেখে থাকেন।

মনির হায়দার: আমলাতন্ত্র যে একটা বড় সমস্যা, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই সমস্যা আমলাতন্ত্র নিজে তৈরি করেনি। এটা মূলত নীতিনির্ধারকদের অর্থাৎ আমলাদের ওপরে যাঁরা থাকেন, তাঁদের অদক্ষতা ও সদিচ্ছার অভাবের ফল। যদি নীতিনির্ধারণী স্তরে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা যায়, তবে আমলাতন্ত্র চাইলেও নেতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবে না।

প্রথম আলো:

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মনির হায়দার: আপনাকেও ধন্যবাদ।