বর্তমানে উপকূলীয় এলাকার নদীতে ইলিশের এত স্বল্পতা কেন?

লোকমান আলী: নদীতে ইলিশ স্বল্পতার অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, নদীর মোহনায় ডুবোচর জেগে ওঠা এবং মোহনার গভীরতা কমে যাওয়া। ইলিশ মাছ সাগর থেকে অন্যত্র যাওয়ার পথে মোহনার গভীরতা কম হওয়ায় এবং ডুবোচরের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়ে সাগরে ফিরে যায়। এর ফলে অনেক মা ইলিশ ভরা প্রজনন মৌসুমে ডিম পাড়ার জন্য নদীতে আসতে পারে না। অনেক মোহনায় এলাকাজুড়ে বাধাজাল পেতে রাখা হয়। তাতেও ইলিশের নদীতে আসা বাধাগ্রস্ত হয়। আর নদীর পানি দূষণের সমস্যা তো আছেই।

ইলিশ রক্ষায় করণীয় কী?

লোকমান আলী: ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। এ কারণে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। জেলেরা যেন বাধাজাল পেতে রাখতে না পারে, এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মোহনা এলাকায় ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে নদীর গভীরতা বাড়ে। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দুই-তিন দিন জেলেরা বাজারে প্রচুর ইলিশ নিয়ে আসেন, সেগুলোর বেশির ভাগের পেট ডিমে পরিপূর্ণ থাকে। দুই-তিন দিনে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ কোনোভাবেই ধরা সম্ভব নয়। মূলত নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ মাছ ধরে মজুত করে রাখা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে এবং নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এ জন্য নদীতে নিষেধাজ্ঞার সময় আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। জেলেরা যেন ওই সময় ইলিশ মাছ ধরে মজুত করে রাখতে না পারে।