বাংলাদেশের মেয়েশিশুদের বর্তমান অবস্থা এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী বলে আপনি মনে করেন? প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
কবিতা বোস: বাংলাদেশ গত এক দশকে জেন্ডার–বৈষম্য কমাতে অগ্রগতি করলেও কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ সূচকে অবস্থান উন্নত হলেও শিশুবিবাহ, ধর্ষণ ও সহিংসতা বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। প্রায় ৫১ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়, যা তাদের শিক্ষা, দক্ষতা, সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের আগেই যেসব মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে, তারা খুব কমই নিজের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে। এতে স্পষ্ট যে বাল্যবিবাহ শুধু মেয়েদের নিজের নয়, পরিবার ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো ও এর প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যাতায়াতপথে ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ নারী হয়রানির শিকার হন এবং অনেকেই মানসিক অবসাদে ভোগেন। অনলাইনেও ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারী আপত্তিকর মন্তব্যের মুখোমুখি হন। গত বছরের (২০২৫ সালে) প্রথম সাত মাসে ৩০৬টি শিশুধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কন্যাশিশুদের বড় চ্যালেঞ্জগুলো হলো—বাল্যবিবাহ, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষতিকর সামাজিক রীতি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি। শহর-গ্রাম ভিন্নতা থাকলেও মূল বাধা একই: অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা, ক্ষমতায়নের ঘাটতি, আইন প্রয়োগের দুর্বলতা ও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা।
বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের মেয়েশিশুদের বিকাশের পথে একটি বড় বাধা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে?
কবিতা বোস: কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের অন্যতম প্রতিশ্রুতি। কারণ, এ দেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ ও দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ বাল্যবিবাহপ্রবণ দেশ।
‘চ্যাম্পিয়ন অব চেঞ্জ’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের জীবনদক্ষতা, স্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহের কুফল ও আইনি সুরক্ষা সম্পর্কে শিক্ষিত করা হয় এবং কিশোরদেরও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করা হয়। ‘চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টিংয়ের’ মাধ্যমে মা-বাবাকে সন্তানের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় নিরাপদ ডিজিটাল স্পেস উদ্যোগে সাড়ে চার লাখ তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি, প্রশাসনিক সমন্বয়, প্রশিক্ষণ, ট্র্যাকিং ও রিপোর্টিং জোরদার করা হয় এবং শিক্ষা সহায়তার মাধ্যমে পড়াশোনা বা স্কুলত্যাগ কমানো হয়। এই সামাজিক-পরিবেশগত মডেল পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি ও নীতিনির্ধারণী সব স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভুক্তভোগী শিশুদের জন্য আপনারা কী ধরনের বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন?
কবিতা বোস: আমরা সব সময় প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন অগ্রাধিকার দিই। আমাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য বিকল্প শিক্ষা ও জীবনদক্ষতা, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু অভিযোজন, মানবিক সাড়া ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহনশীল করে গড়ে তোলা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনা।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীদের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অভিযোজন–সংক্রান্ত কর্মসূচি ‘দুর্বার’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি ‘প্রেরণা’, ‘উত্তরণ’, ‘আভাস’ এবং ‘আরডিএফ’ সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে, খুলনার দাকোপে, ভোলার চরফ্যাশনে ও বরগুনা সদর এলাকায় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া সরকারি ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিত অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
শিশুদের প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করছে?
কবিতা বোস: তিন দশকের বেশি সময় ধরে আমরা শিশুদের, বিশেষত কন্যাশিশু ও যুব নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কাজ করে চলেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কন্যাশিশু ও যুব নারীদের নেতৃত্বের জন্য দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও যোগ্য করে গড়ে তোলা। পাশাপাশি আমরা তাদের জন্য একটি ভয়মুক্ত নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণে কাজ করছি।
এ লক্ষ্যে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি শক্তিশালী করা, বিদ্যালয়ে সহায়ক পরিবেশ তৈরি, ঝরে পড়া কমানো এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে কিশোরীদের সক্ষম করে তোলার কাজ করছি। ইতিবাচক জেন্ডার ধারণা তৈরি, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য মোকাবিলা ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করছি। পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা, জেন্ডার–বাজেট এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে মানসম্মত সেবা নিশ্চিতে সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।
বাংলাদেশের কোন কোন অঞ্চলে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কী কী বিষয়ে কাজ চলমান?
কবিতা বোস: অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৪টি জেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। এর পাশাপাশি অ্যাডভোকেসি, ক্যাম্পেইন, দুর্যোগে করণীয়সহ আমাদের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে দেশের ৬৪ জেলায়। আমাদের মূল কার্যক্রম শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা, জেন্ডার–সমতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জীবনদক্ষতা উন্নয়নের ওপর কেন্দ্রীভূত।
সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক এবং অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আপনারা কীভাবে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছেন?
কবিতা বোস: প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ অংশীদারত্বের শক্তিতে বিশ্বাসী। আমাদের অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে সরকারি সংস্থা, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), নারী ও যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংগঠন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যম। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সমতাপূর্ণ, স্থায়ী ও কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।
আমাদের বর্তমান কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী, যুব ও নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমরা আগের চেয়ে বেশি নিবিড়ভাবে কাজ করছি। যৌথ অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে দাবি আদায় অনেক ক্ষেত্রেই সহজ হয়। নারী, শিশু ও যুবদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা অনেকগুলো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত আছি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের শিশুরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? করণীয় কী?
কবিতা বোস: বাংলাদেশের, বিশেষ করে উপশহর ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা খাত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখোমুখি। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততার কারণে উপকূলীয় বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বছরে চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত পাঠদান ব্যাহত হয়। অনেক পরিবার টিকে থাকার কৌশল হিসেবে অল্প বয়সে সন্তানকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।
প্ল্যানের ‘দুর্বার’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলগুলো জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোতে রূপান্তর করছে, পাঠ্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে দুর্যোগঝুঁকি ও জলবায়ু শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করছে। স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কন্যাশিশু ও কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি সমন্বিতভাবে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনে কাজ করছে।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য আপনাদের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারগুলো কী কী?
কবিতা বোস: প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের লক্ষ্য প্রতিটি শিশুর, বিশেষ করে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাসম্পন্ন জীবন নিশ্চিত করা। আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে ১২ বছরের মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন ও সহনশীলতা, দুর্যোগ প্রস্তুতি, মানবিক সহায়তা, কন্যাশিশু ও যুব নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার–সমতা, কৈশোর প্রজনন স্বাস্থ্য ও বাল্যবিবাহ হ্রাস।
স্পনসরশিপ প্রোগ্রাম, শহুরে ও জরুরি পরিবেশে কার্যক্রম বিস্তার এবং কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে একতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি প্ল্যানের লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। সংক্ষেপে, আমরা শিশু ও কিশোরদের জন্য নিরাপদ, সহনশীল, শিক্ষা ও ক্ষমতায়নমুখী সমাজ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি।
তরুণদের ক্ষমতায়ন ও তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে আপনারা কী ধরনের কাজ করছেন?
কবিতা বোস: প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ তরুণ ও শিশুদের কণ্ঠস্বরকে সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে দেখে। আমরা ইয়ুথ অ্যাডভাইজারি প্যানেল বা যুবদের অংশগ্রহণে পরামর্শক দল গঠন করেছি, যেখানে যুবরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কার্যক্রম ও নীতির প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়নে পরামর্শ দেয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে শিশু অধিকার, জেন্ডার–সমতা, জলবায়ু, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার বিষয়ে মত প্রকাশ করে। তরুণদের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ইয়ুথ কোয়ালিশন (বিওয়াইসি) পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে শতাধিক যুব সংগঠন নীতি, অধিকার ও সমতা বিষয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া শিশুদের কণ্ঠস্বর স্থানীয় সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় শিশু টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
শিশুর নিরাপত্তা এবং কার্যকর শিক্ষা প্রদানে প্রযুক্তির ব্যবহারকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?
কবিতা বোস: আমরা অনলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা চালিয়ে যাচ্ছি। শুধু তা-ই নয়, আমরা একদম পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম এলাকা, বিভিন্ন পেশা, শ্রেণির কিশোরী ও যুব নারীদের প্রযুক্তির দক্ষতা ও নেতৃত্বের উন্নয়নে কাজ করছি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নারীদের হয়রানি প্রতিরোধে ও ইতিবাচক জেন্ডার ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য নেদারল্যান্ডস সরকারের আর্থিক সহায়তায় মিডিয়া প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের নিয়ে কাজ করছি। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের প্রচারকে কমিয়ে আনতে প্রান্তিক পর্যায়ের যুব ও নারী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে কাজ করছি।
বাংলাদেশের ‘শিশুদের ভবিষ্যৎ’ নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? আপনি কী ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চান?
কবিতা বোস: আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। বিশেষ করে কন্যাশিশুরা স্বাভাবিক বা সংকট বা জলবায়ু পরিবর্তন—কোনো পরিস্থিতিতেই বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, তারা যেন আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় ও নেতৃত্বদানে সক্ষম হয়ে ওঠে নিজের, পরিবারের ও জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধিতে অবদান রাখে। বাংলাদেশে প্রতিটি কন্যাশিশু হোক বিশ্বজুড়ে অন্য মেয়েদের অনুপ্রেরণা—এটাই আমার প্রত্যাশা।
আপনাকে ধন্যবাদ।
কবিতা বোস: প্রথম আলো ও প্রথম আলোর পাঠকদেরও ধন্যবাদ।