সব মানুষ ইতিহাসে স্থান পান না; ইতিহাসে স্থান করে নেন তাঁরা, যাঁরা তাঁদের কর্ম, আদর্শ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি জাতির ভাগ্য গঠনে স্থায়ী ছাপ রেখে যান। তাঁদের জীবন কখনোই ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা জাতির ইতিহাস, চেতনা ও আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। সময়ের অনিবার্য নিয়মে তাঁরা পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁদের কর্মের দীপ্তি নিভে যায় না; রেখে যান এমন এক অম্লান উত্তরাধিকার, যা যুগের পর যুগ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায় এবং একটি জাতিকে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়।
বাংলাদেশের নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান এবং সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ছিলেন তেমনই এক বিরল, কর্মিষ্ঠ, দূরদর্শী ও নীতিনিষ্ঠ রাষ্ট্রনায়কসুলভ ব্যক্তিত্ব।
মাত্র ৪৯ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনেই তিনি দেশপ্রেম, সততা, পেশাগত উৎকর্ষ, বিচক্ষণ নেতৃত্ব এবং নিরলস কর্মনিষ্ঠার এমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, যা আজও বাংলাদেশের সামরিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়ে যায়—একজন মানুষের প্রকৃত উচ্চতা তাঁর পদমর্যাদা বা ক্ষমতায় নয়; বরং তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তা, আদর্শের ঔজ্জ্বল্য ও মাতৃভূমির জন্য রেখে যাওয়া অবিনশ্বর অবদানেই নিহিত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম মাহবুব আলী খানের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় তিনি পরিবারসহ দীর্ঘদিন কার্যত বন্দী ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়লেও তিনি তখনো স্বদেশে ফিরতে পারেননি। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
১৯৩৪ সালের ৩ নভেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বিরাহীমপুরের এক ঐতিহ্যবাহী, শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুব আলী খান। তাঁর বাবা ব্যারিস্টার আহমেদ আলী খান ছিলেন তৎকালীন ভারতের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার (১৯০১), বিশিষ্ট আইনজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। তিন ভাইবোনের মধ্যে মাহবুব আলী খান ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সিলেটের বিরাহীমপুর, কলকাতা এবং ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকার পুরানা পল্টনের পারিবারিক পরিবেশে। প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন কলকাতা ও ঢাকায়; পরে ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি একজন অত্যন্ত মেধাবী, শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন ও অধ্যবসায়ী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
মাহবুব আলী খানের পারিবারিক পরিমণ্ডল ছিল নেতৃত্ব, জ্ঞানচর্চা ও জনসেবার এক উজ্জ্বল ধারার উত্তরাধিকার। চাচাতো ভাইদের মধ্যে ছিলেন শের-ই-সিলেট, অবিভক্ত পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী আজমল আলী চৌধুরী এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী। মাতৃপরিবারও শিক্ষা, প্রশাসন ও সমাজসেবার গৌরবময় ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ছিল। এমন এক আদর্শনিষ্ঠ পারিবারিক পরিবেশেই মাহবুব আলী খানের ব্যক্তিত্বে সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগের মূল্যবোধ বিকশিত হয়। তাঁর বেড়ে ওঠা যেন ছিল নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও রাষ্ট্রসেবার এক জীবন্ত শিক্ষালয়।
ছাত্রজীবন থেকেই মাহবুব আলী খান ছিলেন মেধাবী, সংযমী ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে কোয়েটার সম্মিলিত বাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে যুক্তরাজ্যের ডার্টমাউথ রয়্যাল নেভাল কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক হন এবং ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজে প্রশিক্ষণ লাভ করেন। দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি দ্রুতই সহকর্মীদের আস্থা অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে সম্মাননা লাভ করেন, যা তাঁর পেশাগত উৎকর্ষের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম মাহবুব আলী খানের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত অবস্থায় তিনি পরিবারসহ দীর্ঘদিন কার্যত বন্দী ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়লেও তিনি তখনো স্বদেশে ফিরতে পারেননি। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এ প্রত্যাবর্তন ছিল কেবল একজন নৌ কর্মকর্তার দেশে ফেরা নয়; এটি ছিল স্বাধীন মাতৃভূমির সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করার এক দৃঢ় অঙ্গীকার।
বাংলাদেশে ফিরে মাহবুব আলী খান নবীন নৌবাহিনী গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির প্রথম বাঙালি কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে নৌ সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ—সবখানেই তিনি রেখে যান দক্ষতার স্বাক্ষর। ১৯৭৬ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম বড় যুদ্ধজাহাজ বিএনএস ওমর ফারুক নিজ নেতৃত্বে দেশে নিয়ে আসেন। সেই ঐতিহাসিক সফর শুধু একটি রণতরি আনার ঘটনা ছিল না; আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নবীন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক ছিল।
১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন এবং ১৯৮০ সালে রিয়ার অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হন। তাঁর নেতৃত্বে নৌবাহিনীর সাংগঠনিক পুনর্গঠন, প্রশিক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনগত কাঠামো প্রণয়ন এবং আধুনিকায়নের নতুন ভিত্তি স্থাপিত হয়। ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের পর বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। তার পর থেকেই বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশের সরকারই দ্বীপটিকে তাদের মালিকানা বলে দাবি করে। রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের নেতৃত্বে দ্বীপটি নৌবাহিনী বাংলাদেশের দখলে রাখতে সক্ষম হয়। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা অনেক জলদস্যুকে কঠোর হাতে পরাহত করেছেন তিনি। তাঁর কাছে সার্বভৌমত্ব ছিল কোনো আপসের বিষয় নয়; এটি ছিল জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন।
মাহবুব আলী খানের কর্মজীবন শুধু সামরিক নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ ছিল না; প্রশাসনিক দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সশস্ত্র বাহিনীর বেতন ও পেনশন কমিটির চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক পুনর্গঠন বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তনের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, যোগাযোগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রমাণ করেন, যোগ্য নেতৃত্বের কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্র নেই; দক্ষতা ও সততা থাকলে রাষ্ট্রের যেকোনো দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা সম্ভব।
যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে মাহবুব আলী খানের সময়েই শাহজালাল সেতু, লামাকাজী সেতু, শেওলা সেতুসহ সিলেট অঞ্চলের বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের সূচনা হয়। দেশের সড়ক ও সেতু নির্মাণে তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা আজও উন্নয়নের ইতিহাসে স্মরণীয়। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে তিনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নে বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে কৃষিভিত্তিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে তিনি আন্তরিকভাবে কাজ করেন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল তাঁর সততা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘সততা ছাড়া দেশপ্রেম মূল্যহীন।’ এ বিশ্বাস তিনি শুধু উচ্চারণ করেননি, নিজের জীবন দিয়েই প্রমাণ করেছেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকেও তিনি ছিলেন নির্লোভ, সাদাসিধে, সময়ানুবর্তী ও ধর্মপ্রাণ। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। অবহেলিত শিশুদের কল্যাণে ‘সুরভি’ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা তাঁর সংবেদনশীল হৃদয়ের পরিচয় বহন করে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কর্ম, তাঁর আদর্শ এবং তাঁর পরিবারের গৌরবময় উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে—রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি অস্ত্রে নয়, চরিত্রে; ক্ষমতায় নয়, সেবায়; আর একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর পদে নয়, দেশের জন্য রেখে যাওয়া অবিনশ্বর অবদানেই।
মাহবুব আলী খানের ব্যক্তিজীবনও ছিল সমানভাবে অনুকরণীয়। গ্র্যাজুয়েশনের পর মাহবুব আলী খান ১৯৫৫ সালে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই মেয়ে শাহিনা খান বিন্দু ও ডা. জুবাইদা খান বিনু। ডা. জুবাইদা খান (পরবর্তী সময়ে ডা. জুবাইদা রহমান)। মাহবুব আলী খান তাঁর মায়ের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখেন তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা জুবাইদা রহমানের। এ থেকে প্রমাণিত হয়ে যে তাঁর কনিষ্ঠ কন্যা জুবাইদা রহমানকে তিনি কতটুকু হৃদয় থেকে ভালোবাসতেন।
ডা. জুবাইদা রহমান পরবর্তীকালে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজিতে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এ কোর্সে অংশগ্রহণকারী ৫২টি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী।
তবে এই আত্মীয়তার সূত্র কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তার বহু আগেই দুই পরিবারের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ভাই রেজাউর রহমান নৌবাহিনীতে মাহবুব আলী খানের সহকর্মী ছিলেন। সেই সূত্রেই জিয়া পরিবার ও মাহবুব আলী খানের পরিবারের মধ্যে গভীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
জিয়াউর রহমান মাহবুব আলী খানের পেশাগত দক্ষতা, সততা ও দেশপ্রেমকে অত্যন্ত মূল্য দিতেন। অন্যদিকে মাহবুব আলী খানও রাষ্ট্রপতি জিয়ার উন্নয়নদর্শন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। তখন কেউই হয়তো ভাবেননি, একদিন এই দুই পরিবার আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হবে। ইতিহাসের সেই সুন্দর পরিণতিই দেখা যায় ডা. জুবাইদা রহমান ও তারেক রহমানের বিয়ের মাধ্যমে। আজও দুই পরিবারের এই সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আদর্শ ও মূল্যবোধের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে।
১৯৮৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ক্রাশ করে দুর্ঘটনাকবলিত হলে সেই দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ তদারকির দায়িত্ব পালন শেষে ৬ আগস্ট হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে মাহবুব আলী খানকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই অকালপ্রয়াণ ছিল জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের এই সূর্যসন্তান, কর্মবীর ও দেশপ্রেমিক রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের আজ ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী।
আজ চার দশকের বেশি সময় পর যখন আমরা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানকে স্মরণ করি, তখন শুধু একজন নৌবাহিনী প্রধান বা সাবেক মন্ত্রীকে স্মরণ করি না, আমরা স্মরণ করি এক আলোকিত পরিবারকে, যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শিক্ষা, রাষ্ট্রচিন্তা, সামরিক নেতৃত্ব, জনসেবা ও দেশপ্রেমের ঐতিহ্য বহন করে এসেছে। আমরা স্মরণ করি এমন এক মানুষকে, যিনি প্রমাণ করেছিলেন, সততা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম থাকলে অল্প জীবনও মহাকালের ইতিহাসে তা দীর্ঘ হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর কর্ম, তাঁর আদর্শ এবং তাঁর পরিবারের গৌরবময় উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেবে—রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি অস্ত্রে নয়, চরিত্রে; ক্ষমতায় নয়, সেবায়; আর একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর পদে নয়, দেশের জন্য রেখে যাওয়া অবিনশ্বর অবদানেই।
আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব, সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক দিনকাল, আহ্বায়ক, আমরা বিএনপি পরিবার ও সদস্য, বিএনপি মিডিয়া সেল।
*মতামত লেখকের নিজস্ব