অতিথি পাখি নিধন

শীতের শুরুতে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিশেষ করে সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশের ছোট-বড় বিভিন্ন জলাশয়ে আসতে থাকে অতিথি পাখি। শৌখিন ও পেশাদার পাখিশিকারিরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি নিধন করছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকিতে প্রতিবারের মতো এবারও বিপুল পরিমাণে অতিথি পাখির সমাগম ঘটেছে। হাওরের ছোট-বড় ২৩৮টি বিলেই অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। অতিথি পাখির মধ্যে বালিহাঁস, চখাচখি, বাটুল, শামখুল, পানকৌড়ি, শামুকভাঙ্গা, সরাল, লেহেঞ্জা, গিরিয়া হাঁস, টিকি হাঁস, খুনতে হাঁস, গাংচিল, বক প্রভৃতি পাখি বিভিন্ন দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করেছে। ২০০৪ সাল থেকে হাকালুকি হাওরে মাছ ও পাখির অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার কারণে অতীতের তুলনায় হাওরে অতিথি পাখির আগমন বাড়ছে। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে পাখিবিশেষজ্ঞ ড. ইনাম আল হক পাখিশুমারি করে হাকালুকি হাওরে ৬১ প্রজাতির অতিথি পাখি, এ হাওরে আসছে বলে নিশ্চিত করেন। অতিথি পাখি আমাদের দেশের অনেক বড় একটি সম্পদ, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, শিকারিদের ভয়াবহ ছোবল থেকে মুক্ত হতে পারছে না পাখিগুলো। এসব পাখি নিধনের কারণে একদিকে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ বাড়ছে। পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না, ভারসাম্যও রক্ষা করে। পোকামাকড় খেয়ে এরা কৃষকের যথেষ্ট উপকারও করে থাকে। পরোক্ষভাবে এরা উৎপাদন বাড়াচ্ছে বলা যায়।
১৯৭৪ সালের বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছরের জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব আইনের প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। অতিথি পাখি আমাদের জলাশয়গুলোর সৌন্দর্য যেমন বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে, পাশাপাশি এটি প্রকৃতির মূল্যবান সম্পদও বটে।
অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক সচেতন মানুষের কর্তব্য। অতিথি পাখি নিধন বন্ধ করতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারণা বাড়াতে হবে। পাখি নিধনের মূল হোতাদের পাকড়াও করতে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি থাকা জরুরি।
মো. মশিউর রহমান
মৌলভীবাজার।