এককেন্দ্রিক শাসনব্যস্থা আর নয়

ব্যক্তিবিশেষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসনকে বলে স্বৈরশাসন, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জনকল্যাণমূলক বা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হয় না। সে কারণে ‘জনগণ নিজেদের কল্যাণে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা নিজেদের দ্বারা গঠিত সরকারের মাধ্যমে’ ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়। সে লক্ষ্যেই গণতন্ত্রের উদ্ভব। উদ্দেশ্য, জনপ্রত্যাশা পূরণ ও জনকল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হলেই প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক সরকার হয় না। গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য একক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার শাসনের পরিবর্তে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ও জনকল্যাণে পরিচালিত সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন। সরকার যদি ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় এবং জনকল্যাণে পরিচালিত হচ্ছে না দেখা যায়, তবে তা নির্বাচিত হলেও গণতান্ত্রিক সরকার নয়, বরং তাকে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র বলা যায়।

জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। কেননা, ক্ষমতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি।

সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা আমাদের দেশে প্রচলিত, সেখানে মূলত সংসদ সরকারের জবাবদিহির স্থান। বিচার বিভাগ সরকারের কোনো অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিকারের আশ্রয়স্থল। সে কারণে এই পদ্ধতিকে সরকারসহ এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রকাঠামোর প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংসদীয় পদ্ধতিতে সংসদ ও বিচার বিভাগ কার্যকর থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেটা সম্ভব যদি এগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবমুক্ত পরিবেশে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশে বাস্তবতা হলো, ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে আজ পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র জনগণের প্রত্যাশা বা জনকল্যাণমুখী ধারায় পরিচালিত হয়েছে কি না, এ বিষয়ে সংশয় আছে। এ পর্যন্ত প্রতিটি সরকারই নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

 দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে জয়লাভ করে দলীয় প্রধান সরকারপ্রধান হয়েছেন। কিন্তু তিনি দলীয় প্রধানের পদ এবং সেই রাজনৈতিক দলের সব নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবে নিজের কর্তৃত্ব বজায় রেখেছেন। আমাদের সংবিধানের কিছু বিধানের কারণে রাষ্ট্রীয় সব নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের সংসদীয় দলের প্রধানের মতামত মানা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে সরকারপ্রধান দলীয় প্রধান ও সংসদীয় দলের প্রধান। সে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব যেকোনো মতামত সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে গ্রহণীয় করার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম।

সংসদের সর্বোচ্চ পদ স্পিকার। এ পদের জন্য সংসদ সদস্যদের ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নির্বাচন ও অপসারণের ব্যবস্থা আছে। ফলে দলীয় যেকোনো ব্যক্তিকে স্পিকার নির্বাচন এবং পছন্দ না হলে যখন-তখন অপসারণের ক্ষমতা সংসদীয় দলের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর আছে। এ বিষয়টিও সংসদকে নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করে।

সংসদীয় পদ্ধতিতে সরকারের জবাবদিহির প্রধান জায়গা সংসদ। স্পিকার যিনি সংসদ পরিচালনার কর্তৃত্বপ্রাপ্ত ও সংসদে সরকারি দলের সাংসদেরা যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সে কারণে ভোটের মাধ্যমে সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অনুমোদন করতে সক্ষম, তাঁরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। দেখা যায়, সংসদে সরকারি যেকোনো প্রস্তাব প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই গৃহীত হয়। এ কারণে সংসদকে সরকারি সব কাজের বৈধতাদানকারী রাবার স্ট্যাম্প সংসদ হিসেবে অনেকে আখ্যায়িত করে থাকেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সরকারপ্রধানের জবাবদিহি কার্যকর করতে সক্ষম হবে, এ চিন্তা অবাস্তব। স্বাভাবিকভাবে ১৯৯১ সালের পর থেকে অধ্যাবধি সংসদ ফলপ্রসূ হতে ব্যর্থ হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ সংসদ যখন অকার্যকর, তখন সরকার পরিচালনায় গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে বা গণতান্ত্রিক সরকার বলা অনেকটা সোনার পাথরবাটি।

বিচার বিভাগকে সরকার থেকে পৃথক করার বিধান সংবিধানে আছে। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও বিভিন্ন সময়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনেরা, দেশের সচেতন সমাজের অনেকে ও ভুক্তভোগীদের কাউকে কাউকে আক্ষেপ করতে দেখা যায়, কাগজে-কলমে যা-ই থাক, বিচার বিভাগ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা বাস্তবে লাভ করেনি। বাস্তবে সরকার বলতে সরকারপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রীকে এককভাবে বোঝায়। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে বললে বিচার বিভাগ এখনো সরকারপ্রধানের প্রভাবমুক্ত নয়।

রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসন। দল-মতনির্বিশেষে সবার আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা। সে লক্ষ্যে পদটি দলনিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি দ্বারা পূর্ণ করা বাঞ্ছনীয়। সংবিধানের বিধানগুলো কিছুটা সে লক্ষ্যে প্রণীত। কিন্তু বাস্তবে সংসদ সদস্যদের অগোপনীয় ব্যালটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাংসদেরা দলীয় নেতা, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ও অনুগত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে বাধ্য থাকেন। এমনকি সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে (যেমনটা বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ইতিপূর্বের বিএনপির ছিল) যখন-তখন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা বাস্তবায়নে বা মন রক্ষা করে চলতে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব। গত মেয়াদে বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী এ কাজটি করেছিলেন। ফলে রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃত্ব বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন।

বর্তমান পদ্ধতিতে সরকারপ্রধান শুধু সরকারি প্রশাসনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক নন, একই সঙ্গে সরকারি দল ও সংসদের নিয়ন্ত্রক, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও বিচার বিভাগ তার প্রভাবের আওতায়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর পদটি বর্তমান পদ্ধতিতে রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী, যা বাধাহীনভাবে কোনো জবাবদিহি ছাড়া ব্যবহার করা যায়। এককথায় স্বৈরাচারী একনায়কত্ব। ফলাফল যা অনিবার্য, তা হলো ভুলত্রুটি, অনিয়ম, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির বিকাশ।

উপর্যুপরি সড়ক, নৌ-দুর্ঘটনা, কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ইমারত ও সেতুধস ইত্যাদি ঘটনায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য প্রাণহানি, জালিয়াতি, সন্ত্রাস, সহিংসতা, জুলুমবাজি উত্তরোত্তর বৃদ্ধিসহ দুর্নীতির বিস্তার ও সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ ইত্যাদি সুশাসনের অভাব সুস্পষ্ট করে। এখানে উল্লেখ করা যায়, ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছিল। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান দুর্নীতিতে শীর্ষ পর্যায়ের দেশগুলোর একটি।

আগেই বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশাসনের সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত। সে কারণে সরকারপ্রধান পরোক্ষ ক্ষমতাগুলোও সরাসরি ব্যবহারের প্রয়াস নিলে তা সম্ভবপর হয়। ফলে সাধারণ দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকারপ্রধান জড়িত হয়ে পড়েন এবং তাঁর নির্দেশনা ছাড়া কোনো কাজের অগ্রগতি হয় না। একজন মানুষের পক্ষে এই বিশাল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন প্রায় দুঃসাধ্য।

যেহেতু সরকারপ্রধান সব কাজে জড়িত হয়ে পড়েন, সব ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম, দুর্ঘটনা ও অঘটনের দায়-দায়িত্ব (যদি তিনি সরাসরি দায়ী না-ও হন) স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাঁর ওপরই বর্তায়। সেই দায়িত্বভার কাঁধে নিয়ে এ ধরনের সরকারপ্রধানদের ক্ষমতার বাইরে থাকা নিরাপদ হয় না। ফলে যেনতেন প্রকারে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার এবং পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দলীয়করণ, দুর্নীতি, দলীয় সন্ত্রাস লালন-পালন ক্ষমতায় যাওয়ার ও ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার প্রয়াসের অংশ বলে অনেকে মনে করেন।

এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার অবসানের উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত সংস্কারমুখী কার্যক্রম বিবেচনা করা যায়:

১. সরকারপ্রধানের পদটিতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। জবাবদিহির বা প্রতিকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারপ্রধানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত রাখা দরকার।

(ক) দলীয় প্রধান যখন সরকারপ্রধান হন, তাঁর দলীয় পদটি ছেড়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা যায়।

(খ) সরকারপ্রধান মোট দুই মেয়াদের বেশি ওই পদে আসীন হতে পারবেন না, এ বিধান করা যায়।

(গ) সংসদকে কার্যকর করতে হবে। এ জন্য ফ্লোর ক্রসিং-সংক্রান্ত ৭০ অনুচ্ছেদ কিছুটা হলেও নমনীয় করে সংশোধন করা আবশ্যক। স্পিকার পদটি তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়োগ ও অপসারণ করার ব্যবস্থা করা যায়। স্পিকারদের পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে সব দল মিলে ছাড় দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে নির্বাচিত করার নিয়ম চালু করা যায়।

(ঘ) বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া

আবশ্যক।

২. নির্বাচনে সুষ্ঠুতা আনতে নির্বাচনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

(ক) নির্বাচন কমিশনকে সরকার থেকে স্বাধীন এবং তার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

(খ) এলাকাভিত্তিক প্রার্থীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার হ্রাসে ভোট প্রাপ্তির আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলের পূর্বনির্ধারিত তালিকা থেকে প্রার্থীদের নির্বাচনের (Proportionate Representation) ব্যবস্থা প্রচলন করা যায়।

৩. রাষ্ট্রপতি পদটি নির্দলীয় ও মোটামুটি নিরপেক্ষ ব্যক্তির দ্বারা পূরণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে করার ব্যবস্থা করা যায়।

জনগণের প্রত্যাশা ছিল, ১৯৯১ সালের পরিবর্তনের পর থেকে গণতন্ত্রের চর্চা হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুযায়ী পরিচালিত হয়নি, বরং এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। মেয়াদান্তে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দিনকে দিন জটিল থেকে জটিলতর রূপ ধারণ করেছে।

আগের মেয়াদের শেষ সময়ের মতো রাজনৈতিক জোট ও দলগুলোর মধ্যেও প্রাণঘাতী সংঘাত শুরু হয়েছে। এবারের সংঘাত আগের যেকোনোবারের চেয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তা ছাড়া, সাভারে রানা প্লাজা ধসে এখন পর্যন্ত সহাস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু, আরও অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় সরকার ও মালিকবিরোধী শ্রমিক-বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতির শেষ কোথায় কেউ নিশ্চিত হতে পারছে না। এই সবকিছুর জন্য দায়ী স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি ছাড়া এই অমঙ্গলের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে না।

l গোলাম মোহাম্মদ কাদের: সংসদ সদস্য ওবাণিজ্যমন্ত্রী