করোনায় মানবিক উদ্যোগ

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। হাসপাতালগুলোতে উপচে ভিড় আর লকডাউনে আটকে পড়ে খেটে খাওয়া মানুষের দীর্ঘশ্বাস। করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে একের পর এক। হাসপাতালের বাইরে কত মানুষ মারা যাচ্ছে, সে হিসাব জানার কোনো সুযোগ নেই। লকডাউনে

আয়-রোজগার হারিয়ে মানুষের আত্মহত্যার খবরও দেখা গেছে সংবাদমাধ্যমে। এদিকে টিকাসংকটের কারণে টিকাদান কর্মসূচিও গতি হারিয়েছে। কোভিড মোকাবিলায় সরকারের যথাসময়ে যথা উদ্যোগ নিতে না পারা ও পরিকল্পনাহীনতায় মানুষ হতাশ। এর মধ্যে ছোট ছোট পরিসরে মানবিক কিছু উদ্যোগ আমাদের স্বস্তি দেয়। একটা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতাল গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছে। লকডাউনে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ সরকারি হাসপাতালে যেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। তঁাদের কথা মাথায় রেখে বিনা মূল্যে এমন চিকিৎসাসেবা চালু করেছে লোহাগড়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল। এমনকি ফোন করলেই অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসক ও ওষুধ নিয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। হাসপাতালটির প্রতিষ্ঠাতা আরমান বাবু জানালেন, যেখানে অনেক চিকিৎসক করোনার ভয়ে প্রাইভেট চেম্বার করছিলেন না, সেখানে মহামারির শুরু থেকে তাঁরা গ্রামের মানুষের কথা ভেবেছেন। গত বছর উপজেলার চার হাজার রোগীকে বিনা মূল্যে সেবা দিয়েছেন তাঁরা। এবার সেটার পরিধি বেড়েছে। সপ্তাহে তিন দিন ভাগ করে একেক এলাকায় গিয়ে দোকানে, উঠানে বসে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন ডা. অনুদ্যোতি করসহ তিন চিকিৎসক। বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহও করছে হাসপাতালটি। জেলা–উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য বেসরকারি হাসপাতালের জন্য নিঃসন্দেহে বড় একটি উদাহরণ এটি।

একইভাবে দিনাজপুর শহরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ‘ই-প্রতিবেশী’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষকে দৈনন্দিনের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করছে সেটি। বাজারসামগ্রী ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ও গৃহশিক্ষক ঠিক করে দেওয়া, বিদ্যুৎ বিল দেওয়া, কুরিয়ার করা এমনকি ব্যাংকে টাকা জমা ও উত্তোলন—সবকিছুই করছে ই-প্রতিবেশী। বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে অল্প ফি। মহামারিতে দৈনন্দিন কাজে মানুষকে দুশ্চিন্তামুক্ত করার এমন উদ্যোগের কারিগর মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি।

ম্যাথ ক্লাবের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে থাকেন তিনি। সেই ম্যাথ ক্লাবেই গড়ে তুলেছেন ই-প্রতিবেশী। প্রতিদিন ২০ জন কর্মী অসংখ্য মানুষকে রাত–দিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। করোনা আক্রান্ত পরিবারের জন্যও বড় সহায় এখন তাঁরা। এমন প্রশংসিত উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।

অনেক জায়গায় এমন মানবিক উদ্যোগের খবর আমাদের চোখে পড়ে। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এমন মহতী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ুক।