রাজধানীতে আবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বাড়ার বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৭১ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শুধু আগস্ট মাসেই ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫৪ জন রোগী। ইতিমধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মৌসুম ধরা হয়। সেই হিসাবে, সামনের দিনগুলোতে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা আমরা উড়িয়ে দিতে পারি না। চিকুনগুনিয়া জ্বরের প্রকোপ এখন পর্যন্ত সেভাবে দেখা না দিলেও এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে মশা নিধনসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এ ব্যাপারে সরকারের উচিত ডেঙ্গু রোগের কারণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার-প্রচারণা চালানো । ব্যক্তিসচেতনতাই পারে মশাবাহিত এসব রোগ থেকে রক্ষা করতে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জীবাণু বহনকারী হচ্ছে এডিস মশা। তাই এই মশার বংশবৃদ্ধি রোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সবার আগে। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। এরা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘরের কোণে, বারান্দায় যাতে পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন। ঘরবাড়ি ও এর চারপাশে কোমলপানীয়র ক্যান, টিনের কৌটা, টায়ার, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা বা পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ফেলে রাখা যাবে না। এগুলোতে জমা পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। বাথরুমের বালতি, ড্রামে বা পানির ট্যাংক কিংবা মাটির গর্তে কোনো অবস্থাতেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। এ ছাড়া এ মৌসুমে সবারই উচিত মশার ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো।
গত মে মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে ১৮টি বাড়ির মধ্যে ১১টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এটা প্রমাণিত হয় যে সিটি করপোরেশনের মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহতভাবে কার্যকর নয় এবং এডিস মশা নিয়ে নগরবাসীও আসলে সেভাবে সচেতন নয়। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে রাজধানীবাসীকে বাঁচাতে হলে এডিস মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।