নারায়ণগঞ্জের মেধাবী কিশোর ত্বকী হত্যার বিবরণ পাওয়া গেছে অন্য একটি মামলার সূত্র ধরে। মাদক মামলায় আটক নারায়ণগঞ্জের ইউসুফ হত্যাকারীদের নাম এবং নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ইউসুফসহ চিহ্নিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও গভীরে যাওয়া এখন অসম্ভব নয়। হত্যাকারীদের নামধাম জানা গেলেও হত্যার কারণ এবং হত্যার নির্দেশদাতাদের পরিচয় এখনো নেপথ্যেই রয়ে গেছে।
মাদক মামলার সূত্র ধরে ত্বকী হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ায় আরেকটি আশঙ্কাও জাগে। ত্বকীর বাবা নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠক রফিউর রাব্বির করা মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ এখনো তেমন কিছু করেনি। এখনো মূল আসামি হিসেবে অভিযুক্ত ওসমান পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়নি। গত বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যাচ্ছে, হত্যায় জড়িত বলে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। ছাগল নড়ে খুঁটির জোরে। ইউসুফের জবানবন্দিতে হত্যার স্থান হিসেবে হাজি রিপনের বাড়ির কথা এসেছে। কিন্তু হত্যায় হাত লাগানো হাজি রিপনের ছেলে সালেহ ওরফে সীমান্ত, অপু, কালাম, ভ্রমর ও শিকদারদের খুঁটির জোর কোথায়? ক্ষমতাবান কারও নির্দেশ ছাড়া তারা এই কাজে প্রবৃত্ত হতো না এবং এত দিন আড়ালেও থেকে যেতে পারত না। কার নির্দেশে একটি মাসুম শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে কুমুদিনী খালে লাশ ফেলে রাখল, সেটা জানা এবং প্রমাণ করাই এখন তদন্তকারী দলের দায়িত্ব।
নারায়ণগঞ্জবাসীসহ দেশের বিবেকবান নাগরিক সমাজ এ ঘটনায় আলোড়িত হয়ে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ত্বকী হত্যা তদন্তের দায়িত্ব র্যাবের কাছে হস্তান্তরের জন্য ত্বকীর বাবা উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেই মামলাটির তদন্তভার র্যাবের ওপর ন্যস্ত করে। এখানে প্রশ্ন জাগে, ইউসুফ প্রথমে পুলিশের হাতে আটক থাকলেও পুলিশ তার কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করতে পারেনি কেন? কেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ক্যাঙ্গারু পারভেজের খোঁজ মিলছে না। কীভাবে এজাহারভুক্ত আসামিদের কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমাতে পারল?
ত্বকী হত্যাকাণ্ড আমাদের সময়ের আলোচিত ঘটনা। যাদের হাত দিয়ে ত্বকী নিহত হয়েছে এবং যারা এর নির্দেশ দিয়েছে; তাদের সবাইকে চিহ্নিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণ করায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।