২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল পোশাকশ্রমিকদের কাছে এক ভয়াবহ শোকের দিন। সাভারে রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৫ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন। বহু আহত ও নিখোঁজ। মালিকের অবহেলায় পোশাকশিল্পে এত বড় হত্যাযজ্ঞ সারা দুনিয়ার কোথাও হয়নি।
মালিকদের সীমাহীন লোভের কারণে এর আগে আরও ২১৭টি ছোট-বড় ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি পোশাকশ্রমিক। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও একটি প্রতিবেদনও আলোর মুখ দেখেনি। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় হয়নি, শাস্তি পাননি কোনো মালিক। মালিকদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও সরকার। সরকার অনুদান দিয়েছে, কিন্তু মালিকদের কাছ থেকে শ্রমিকের প্রাপ্য আদায় করে দেয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, ৩০০ কোটি টাকা হলে অগ্নিকাণ্ড বা ভবন ধসের পর শ্রমিকদের উদ্ধার করার যন্ত্রপাতি কেনা যেত।
যে শ্রমিকদের শ্রমে এক লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়, তাঁদের জন্য ৩০০ কোটি টাকার এত অভাব! এক বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত যথার্থ ক্ষতিপূরণ ও মালিকের শাস্তি হয়নি। ৪০ লাখ পোশকশ্রমিকসহ বাংলাদেশের কোটি কোটি শ্রমিকের জীবন নিয়ে অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শ্রমিক বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে। কবির কণ্ঠে মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করে, আসিতেছে শুভ দিন/ দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ।
সুধীরবরণ মাঝি, ধানমন্ডি, ঢাকা।